দেবীদ্বারের ভানী, বরকামতা ও ধামতীর মানুষ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত

comillaআকতার হোসেন (রবিন) (কুমিল্লা): কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলা। এখানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ছাড়াও সরকার চিকিৎসা সেবা জনগণের দোড়গোড়ায় পৌছাঁতে দেবীদ্বারের বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ে উপ-স্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্র স্থাপন করেছেন।

আর এসকল কেন্দ্রের প্রতিতিটিতে এমবিবিএস পদমর্যাদার চিকিৎসক নিয়োগ দিয়েছেন সাধারন মানুষের নাগালে চিকিৎসা সেবা পৌছাঁনোর লক্ষ্যে। কিন্তু জেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সহ সংশ্লিস্টদের নজরদারীর অভাবে দিনের পর দিন এসকল উপ-স্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রে চিকিৎসকরা অনুপস্থিত থাকছেন।

ফলে স্থানীয়দের চিকিৎসার জন্য বাধ্য হয়ে উপজেলা কিংবা জেলা সদরে যেতে হয়। স্থানীয় মানুষ জানায়,তারা কখনোই এখানে চিকিৎসক দেখেনি। অথচ জেলা সিভিল সার্জন অফিস থেকে দেওয়া তথ্যে নিয়োগপ্রাপ্ত ডাক্তারের নাম রয়েছে। এই যখন ইউনিয়ন পর্যায়ে চিকিৎসা ব্যবস্থার নমুনা তখন সিভিল সার্জন কিংবা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কৌশলে ডাক্তারদের পক্ষাবলম্বনের চেষ্টা করে পরিবার কল্যান কেন্দ্রের অসহযোগীতার কথা বলেন। তবে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়,স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রগুলোতে তাদের লোকজন থাকলেও চিকিৎসক নেই।

তারা জানেন না এসকল কেন্দ্রে নিয়োজিত চিকিৎসকের নাম। এমনি ৩’টি দেবীদ্বারের ভানী, বড়কামতা ও ধামতী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্র। সরেজমিন ঘুরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্র ৩’টি ঘুরে ও স্থানীয়দের সাথে আলাপ করে জানা যায়, জেলার দেবীদ্বারের ভানী, বড়কামতা ও ধামতী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্র ৩টিতে নিয়মিত পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের লোকজন দায়িত্ব পালন করলেও সেখানে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে নিয়োগ দেওয়া এমবিবিএস পদমর্যাদার ৩ চিকিৎসক ডাঃ আহসানুল হক, ডাঃ শিব্বির আহমেদ ও ডাঃ মোঃ মাসুদুল হাসান মাসেও একবার আসেন না।

ওই ৩টি কেন্দ্রের পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের দায়িত্বরত লোকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মাসের পর মাস চলে যায় এখানে কখনো কোন চিকিৎসক দেখিনি। আর এভাবে জনগণকে চিকিৎসা বঞ্চিত করে রাখলেও জেলা বা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কোন খেয়াল নেই এই দিকে। কখনো তারা পরিদর্শনেও আসেন না। সুত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরো জানান, সংশ্লিস্ট ডাক্তাররা সরকারী বেতন ভূক্ত হয়ে জনগণকে চিকিৎসা সেবা না দিয়ে বানিজ্যিক ভিত্তিতে জেলা বা উপজেলা সদরে রোগী দেখেন।

ফলে সরকার চিকিৎসা ব্যবস্থা জনগণের দোড়গোড়ায় পৌছেঁ দেওয়ার যে প্রানান্তকর চেষ্টা চালাচ্ছেন সেই কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌছঁতে পারছে না। ভানী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রঃ এখানে স্বাস্থ্য বিভাগের একজন নিয়োগ প্রাপ্ত এমবিবিএস পদমর্যাদার ডাক্তার ছাড়াও ৪ জন পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের লোক কর্মরত। সেখানে তাদের উপস্থিতি থাকলেও ছিলনা এমবিবিএস ডাক্তার। বিষয়টি জানতে স্থানীয় গ্রামবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়,তারা কখনোই এখানে কোন ডাক্তারকে দায়িত্ব পালন করতে দেখেনি।

তারা আরো বলেন,এলাকার মানুষ চিকিৎসা সেবা নিয়ে উপজেলা কিংবা জেলা সদরে যেতে হয়। অনেকে টাকার অভাবে দূরে যেতে পারেনা। সরকার সেই সব লোকদের সুবিধার কথা চিন্তা করে ইউনয়ন পর্যায়ে চিকিৎসা সেবা নিয়ে আসলেও ডাক্তাররা বসে বসে বেতন নিলেও দেখাও যেন কেউ নেই। একই কথা বলেন,এখানে কর্মরত পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের লোকজন। এই ইউনিয়নে রয়েছে প্রায় ৩০ হাজার জনসংখ্যা। গর্ভবতী, মার্তৃকালীন সহ সাধারন মানুষের জন্য এই কেন্দ্রে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ থেকে চিকিৎসক ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এফ ডব্লিউদের নিয়োগ দেওয়া হয়।

পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের লোকজনদের সাথে আলাপ করে জানা যায়,প্রতিদিন এখানে ৩০/৩৫ জন রোগী আসে। চিকিৎসক নাই চিকিৎসা কিভাবে হচ্ছে এবিষয়ে তারা বলেন,আমরা যতটুকু সেবা দিতে পারি তা দিয়েই রোগীদের বিদায় করি। এছাড়াও তারা প্রয়োজনীয় ঔষধ স্বল্পতার কথাও জানান। বড়কামতা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রঃ এখানে কর্মরত পরিবার কল্যান কেন্দ্রের লোকজন জানান,গত সময়ে মাত্র একটি অনুষ্ঠানের উপস্থাপনায় এসেছিলেন নিয়োগ পাওয়া ডাক্তার সাহেব। আর কখনো কোন ডাক্তার সাহেব আসেননি ।

এই ইউনিয়নে লোকসংখ্যা রয়েছে ৩২ হাজারেরও বেশী। পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের লোকজন দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এখানেও রয়েছে ঔষধ স্বল্পতা। মানুষ পাচ্ছেনা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা। গর্ভবতী ও মার্তৃকালীন রোগীদের পাশাপাশি এদের সাধারন রোগীদেরও চিকিৎসা সেবা দিতে হচ্ছে। প্রতিদিন এই কেন্দ্রটিতে কমপক্ষে অর্ধ¦শতাধিক বিভিন্ন শ্রেনীর রোগী আসে বলেও এখানে কর্মরত পরিবার কল্যান কেন্দ্রের লোকজন জানান। ধামতী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রঃ একই অবস্থা এই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রেও।

চিকিৎসক নেই,আছে পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক, এফ ডব্লিউ ভি,আয়া,পিয়ন। রোগীর বিষয়ে জানতে চাইলে বলা হয়, প্রতিদিন ২৫/৩০ জন রোগী আসে। পাশাপাশি গর্ভবতী ও মার্তৃকালীন সেবাও নিতে আসেন কেউ কেউ। চিকিৎসকের বিষয় জানতে চাইলে এখানে কর্মরত পরিবার কল্যান কেন্দ্রের লোকজন কিছুটা লোকচূরীর আশ্রয় নিতে চাইলেও সেখানে উপস্থিত লোকজন জানান,চিকিৎসা সহকারীরা চিকিৎসা সেবা দেয়,চিকিৎসক নিয়মিত আসেন না। প্রায় ২৮ হাজার জনসংখ্যা অধ্যূষিত এই ইউনিয়নের চিকিৎসা সেবা কেন্দ্রে ডাক্তারের পাশাপাশি ঔষধ সংকটও রয়েছে।

ভানী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রে চিকিৎসকের অনুপস্থিতি দেখে বিষয়টি জানতে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডাঃ মমতাজ বেগম’র সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন,স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রগুলো পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের অধীন। এখানে ডাক্তারদের বসার কোন ব্যবস্থা নেই। তারা বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। তবে ওই কেন্দ্রের পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের লোকজন বলেন,কেউ কখনো আসেইনি বসার ব্যবস্থা করবো কিভাবে।

এদিকে বিষয়টি জানতে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের এক কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে ইউপি স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রগুলোতে নিয়োগ দেওয়া ডাক্তাররা ওই সকল কেন্দ্রে বসে চিকিৎসার পাশাপাশি কখনো কখনো কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো ঘুরে চিকিৎসা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করবেন। মূল ঠিকানা তাদের ওই ইউনয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রগুলো। তবে দেবীদ্বার উপজেলা (ভারপ্রাপ্ত) স্বাস্থ্য কর্মকর্তা’র বক্তব্য শুনে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।

এব্যাপারে কুমিল্লা সিভিল সার্জন ডাঃ মুজিবুর রহমান বলেন,বিগত সময়ে এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর আমরা সংশ্লিস্ট ডাক্তারদের শোকজ করেছি। যদি এমন আরো অভিযোগ থাকে তবে তাদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এদিকে কুমিল্লা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের ডিডি সামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, ইইপ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রে চিকিৎসক বসতে চায় তবে আমরা তাদের বসার ব্যবস্থা করে দিব। তিনি আরো বলেন,কিছু কিছু স্থানে ডাক্তাররা বসে চিকিৎসা পত্র দিচ্ছেন।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *