স্বাস্থ্য ও ত্বক রক্ষায় নিম প্রয়োজন

33প্রথম সকাল ডটকম ডেস্ক: নিমপাতা এমন একটি উপাদান যা স্বাস্থ্য এবং রূপচর্চায় খুবই উপকারী। ৪ হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে আয়ুর্বেদে ব্যবহার হয়ে আসছে নিমের পাতা, ফুল ও বাকল। কী কী গুণ আছে এই গাছের ও পাতার জেনে নিন।

পানি বিশুদ্ধকরণ:- দুই লিটার পানির মধ্যে ৫০টি নিমপাতা সিদ্ধ করতে হবে। পাতাগুলো নরম ও বিবর্ণ না হওয়া পর্যন্ত পানি ফুটাতে হবে। পানি সবুজ রং ধারণ করলে নামিয়ে বোতলে ঢেলে রাখতে হবে। প্রতিদিন গোসলের পানিতে ১০০মিলি পরিমাণের নিমপাতার পানি মিশিয়ে গোসল করলে চামড়ার ইনফেকশন দূর হবে। এছাড়া ব্রণ এবং হোয়াইট হেডস দূর হবে। হৃদরোগ:- নিমপাতার নির্যাস খেলে হৃদরোগে উপকার পাওয়া যায়। নিম নির্যাস ব্লাড প্রেসার ও ক্লোরেস্টেরল কমায়। রক্ত পাতলা করে, হার্টবিট কমায়।

ম্যালেরিয়া:- নিমপাতার নির্যাস ব্যবহারে ম্যালেরিয়া প্রশমিত হয়। পানিমিশ্রিত নিমপাতার নির্যাস ব্যবহারে এই ফল পাওয়া যায়। বহুমূত্র রোগ:- প্রতিদিন ১ টেবিল চামচ নিমপাতার রস সকালে খালি পেটে ৩ মাস খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে। প্রতিদিন সকালে ১০টি নিমপাতা গুঁড়া বা চিবিয়ে সেবন করলে ডায়াবেটিসে উপকার হয়। নিমপাতার রস খেলে ৩০-৭০% ইনসুলিন নেওয়ার প্রবণতা কমে যায়।

জন্ডিস:- ২৫-৩০ ফোঁটা নিমপাতার রস একটু মধুর সাথে মিশিয়ে সকালে খালি পেটে খেলে জন্ডিস আরোগ্য হয়। বসন্ত:- কাঁচা হলুদের সাথে নিমপাতা বেটে বসন্তের গুটিতে দিলে গুটি দ্রুত শুকিয়ে যায়। রাতকানা:- নিমফুল ভাজা খেলে রাতকানা উপশম হয়। চোখের ব্যথা:- নিমপাতা সামান্য শুষ্ক আদা ও সৈন্ধব লবণ একত্রে পিষে সামান্য গরম করে একটি পরিষ্কার পাতলা কাপড়ে লাগিয়ে তা দিয়ে চোখ ঢেকে দিলে চোখের স্ফীতি ও ব্যথা সেরে যায়। মাথাধরা:- নিম তেল মাখলে মাথা ধরা কমে যায়।

স্কিন টোনার:- প্রতিরাতে তুলার নরম বল নিমপাতা সেদ্ধ পানিতে ভিজিয়ে মুখে লাগাতে হবে। এতে ব্রণ, ক্ষতচিহ্ন, মুখের কালো দাগ দূর হবে। ফেসপ্যাক:- ১০টি নিমপাতা ও একটি ছোট কমলা খোসা ছাড়িয়ে অল্প পরিমাণ পানিতে সিদ্ধ করতে হবে। উপকরণগুলো মসৃণ করে পেস্ট তৈরি করতে হবে। অল্প পরিমাণ মধু ও দুধ পেস্টে মেশাতে হবে। ফেসপ্যাকটি সপ্তাহে তিনবার ব্যবহার করা যাবে। এটি ত্বকের ব্রণ, কালো দাগ, চেহারায় ক্ষতের গর্ত দূর করবে। মধু এবং নিম উন্নতমানের ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে।

কন্ডিশনার:- নিমপাতা সিদ্ধ পানি ও মধুর একটি পেস্ট তৈরি করে চুলে লাগান। এটি একটি ভালো কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে। এছাড়া খুশকি দূর করতেও কাজে লাগে। ব্রণ:- নিমপাতা পিষ্ট করে মধুর সাথে মিশিয়ে প্রলেপ দিলে ব্রণ সেরে যায়। উকুন:- নিমের পাতা বেটে হালকা করে মাথায় লাগান। ঘণ্টাখানেক ধরে মাথা ধুয়ে ফেলুন। ২-৩ দিন এভাবে লাগালে উকুন মরে যাবে।

কৃমি নিরসন:- ৩-৪ গ্রাম নিম ছাল চূর্ণ সামান্য পরিমাণ সৈন্ধব লবণসহ সকালে খালি পেটে সেবন করলে কৃমির উপদ্রব হতে রক্ষা পাওয়া যায়। নিয়মিত এক সপ্তাহ সেবন করতে হবে। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ১-২ গ্রাম মাত্রায় খেতে হবে। দাঁতের যত্ন:- কচি নিমডাল দিয়ে দাঁত মাজলে দাঁত ভালো থাকে। নিম পাউডার দিয়ে দাঁত মাজলে দাঁত ও মাড়ি ভালো থাকে। নিমপাতার নির্যাস পানিতে মিশিয়ে বা নিম দিয়ে মুখ আলতোভাবে ধুয়ে ফেললে দাঁতের আক্রমণ, দাঁতের পচন, রক্তপাত ও মাড়ির ব্যথা কমে যায়।

পুরানো ক্ষত:- নিমপাতার সাথে সামান্য কাঁচা হলুদ পিষে নিয়ে আক্রান্ত স্থানে ৭-১০ দিন ব্যবহার করলে খোসপাঁচড়া ও পুরানো ক্ষতের নির্মূল হবে। নিমপাতা ঘিয়ে ভেজে সেই ঘি ক্ষতে লাগালে ক্ষত অতিসত্বর আরোগ্য হয়। বমি:- বমি আসতে থাকলে নিমপাতার রস ৫-৬ ফোঁটা দুধ দিয়ে খেলে বমি হবে না। আলসার:- নিমপাতার নির্যাস ও নিম বীজ হতে নিম্বিডিন নির্যাস খেলে পেপটিক ও ডিওডেনাল আলসার উপশম হয়।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *