সাপাহারে বৃষ্টির অভাবে আমন চাষাবাদে বিপর্যয়ের আশংকা : কৃষকগণ হতাশ

66নয়ন বাবু, সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি: চলতি আমন মৌসুমে নওগাঁর সাপাহারে আমন চাষাবাদে বাম্মার ফলনের সম্ভাবনা থাকলেও শেষ সময়ে বৃষ্টির অভাবে ফলনে বিপর্যয় ঘটার শংকায় শংকিত হয়ে পড়েছে উপজেলার কৃষকনগণ।

বর্ষার শুরুতে ঠাঁঠাঁ বরেন্দ্র অঞ্চল সাপাহারে প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ায় এখানকার কৃষকগন মনের খুশিতে সংসারের সর্বস্ব খুইয়ে তাদের উঁচু নিচু সকল জমিতে আমন চাষাবাদ করেছিল। চাষাবাদের পরে ক্ষেতে পরিমান মত পানিও যুগিয়েছিল প্রকৃতি।

কিন্তু কৃষকের মাঠে ধান গাছগুলি যখন কাচথোড় হয়ে দু’একটি করে শীষ বের হবে সে সময় মাঠে প্রচুর পানির প্রয়োজন, শেষ মহুর্তে এসে প্রকৃতি তার বৃষ্টিপাত বন্ধ করে দেয়ায় মাঠগুলি এখন ফেটে চৌচির অবস্থা।

যে সব এলাকায় পানি সেচের ব্যবস্থা রয়েছে সেখানকার কৃষকগন অতিরিক্ত খরচ করে ডিপ, শ্যালো হতে মাঠে সেচ দিচ্ছে। আর যে সকল এলাকায় সেচের কোন ব্যবস্থা নেই সে অঞ্চলের কৃষকগন কোন রকমে পুকুর, খাল, ডোবা হতে একটু করে সেচ দিয়ে কোন রকমে ধানগাছের জীবন বাঁচাচ্ছে। জমিতে সেচ দিতে না পেরে অনেকেই বিধাতার উপর তাদের ক্ষেতের ভার অর্পন করে বৃষ্টির মুখ পানে চেয়ে আছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার এএফএম গোলাম ফারুক হোসেন জানান, এবারে উপজেলায় শুরুতে বর্ষা ভাল হওয়ায় আমন চাষাবাদের লক্ষ মাত্রা অর্জিত হয়ে মোট ১৭ হাজার ৪ শত ৪৫ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছে। এখনও পর্যন্ত মাঠের ধান ক্ষেতের অবস্থা ভাল।

কোন এলাকায় কোন আপদ বালাই নাই বললেই চলে। আপদ বালাই দমন ও কৃষকগনকে সৎপরামর্শ প্রদানের জন্য উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ে কৃষি অফিসের জনবল দিয়ে কৃষি পরামর্শ সেল খোলা হয়েছে এবং সন্ধায় উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষন অফিসার আতাউর রহমান সেলিম বিভিন্ন মাঠে মাঠে আলোক ফাঁদের ব্যবস্থা করে উপকারী ও ক্ষতিকর পোকা চিহ্ণিত করে কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করছেন।

কোন বালা মছিবত ছাড়াই কৃষকের ঘরে ফসল উঠলে উৎপাদন লক্ষমাত্রা অর্জিত হয়ে ৫৬ হাজার ৮ শত ৯৮ মে. টন ধান উৎপাদন হবে বলেও তিনি জানান। তবে উপজেলার ১ হাজার ৫ শত হে. জমিতে সেচ সুবিধা না থাকায় শেষে এসে বৃষ্টির অভাবে উৎপাদন লক্ষমাত্রা কিছুটা হ্রাস পেতে পারে বলে উপজেলার অভিজ্ঞমহল মনে করছেন।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *