ক্ষেতের ইঁদুর তাড়াতে পলিথিন ঝান্ডা

Rat-3আজাদ জয় (দিনাজপুর): সন্ধ্যা থেকে সারারাত কাটছে আমনের ক্ষেত। আর কাটার মাঝে যার আনন্দ সে হচ্ছে ইঁদুর। ফলে আমন চাষিরা বড় অসহায় হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় কৃষকরা কৃষি বিভাগের পরামর্শে আমন ক্ষেতে পলিথিনের ঝান্ডা উড়িয়েছেন। বাতাসের শব্দে পলিথিন পতপত শব্দ করে আর ইঁদুর মনে করে কেউ আসছেন। তাই ভয়ে পালিয়ে যায়।

এতে করে জেলার কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। কৃষি প্রধান রংপুর বিভাগের দিনাজপুর জেলার আমন মৌসুমের শুরুতে প্রচন্ড খরা ও অনাবৃষ্টির কবলে পড়ে। ফলে আমনের চাষাবাদ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন কৃষকরা।

এ অবস্থায় সেচযন্ত্র চালিয়ে আমনের চারা রোপন করেন তারা। পরবর্তীতে আকাশের বৃষ্টিপাতে লকলকিয়ে বেড়ে উঠে আমনের ক্ষেত। এতে করে কৃষকের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে। কিন্ত এরই মধ্যে পোকার আক্রমন ও ইঁদুরের উপদ্রুব কৃষকদের চিন্তায় ফেলেছে। কৃষকরা পোকা দমনে বিভিন্ন কীটনাশক ব্যবহার ব্যবহার করলেও ইঁদুর তাড়াতে এই কীটনাশক ব্যবহারে কোন কাজ হচ্ছে না।

সন্ধ্যার পর আমনের ক্ষেতে ইঁদুর এসে গাছের গোড়ায় কেটে দিচ্ছে। পরদিন সেই আমনের গাছ গবাদিপশুকে খাওয়ানো ছাড়া কোন উপায় থাকছে না। ফলে তারা চিন্তিত হয়ে কৃষি বিভাগের দ্বারস্থ হন। কৃষি বিভাগ আমনের ক্ষেতে পলিথিন ঝান্ডা উড়ানোর পরামর্শ দেন। দিনাজপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ক্ষেতের পোকামাকড় ও ইঁদুরের উপদ্রুব থেকে ফসল রক্ষা করার জন্য মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তারা কাজ করছেন।

উপজেলায় কি পরিমাণ জমিতে ইঁদুরের উপদ্রুব হয়েছে তার জন্য কাজ করছেন কৃষি বিভাগের লোকজন বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে ব্রি ধানের অনেক জাত উদ্ভাবনের পর এখন ধানের আর কোন মৌসুম নেই। কৃষক সুবিধামতো সময়ে ধানের আবাদ করতে পারে এমন জাতেরই উদ্ভাবন হয়েছে এবং এখনও হচ্ছে।

চলতি আমন আবাদের আগে পারিজা ও জিরাশাইল জাতের ধান কৃষকের ঘরে উঠেছে। একটা সময় আমন ধান ঘরে উঠার আগে আশ্বিণ- কার্তিক মাসে তীব্র অভাব দেখা দিত। বিশেষ করে উত্তরের নীলফামারীসহ রংপুর এলাকায় এই অভাবের নাম ছিল মঙ্গা। নবান্নের আমন ঘরে উঠার আগেই দুই/তিন জাতের ধান তাদের ঘরে উঠে। এই ধান কৃষকদের অভাব ঘুচিয়ে দিয়েছে।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *