সিলেটে এসি’র বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রসঙ্গেঁ যা বললেন এডিসি রহমত উল্যাহ

98প্রথম সকাল ডটকম (সিলেট): সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) কোতোয়ালী জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) সাজ্জাদুল আলমের বিরুদ্ধে মারধর ও বুকে অস্ত্র ধরে গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন তার অধীনস্থ কনস্টেবল আব্দুল কুদ্দুস।

তবে, এসএমপি’র এডিসি(মিডিয়া) রহমত উল্যাহ জানান, এক চিকিৎসকের কাছ থেকে উৎকোচ নেয়ার অভিযোগে কোতয়ালী থানার এস আই মাসুদ রানা, কনস্টেবল আব্দুল কুদ্দুসসহ আরো দুই কনস্টেবলকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

বিষয়টি তদন্ত করছেন এসি সাজ্জাদুল আলম। এতে সংক্ষুব্ধ হয়ে কনস্টেবল কুদ্দুস এমন অভিযোগ করছেন। তিনি বলেন, এসব পুলিশ সদস্য ওই চিকিৎসককে বাসা থেকে তুলে এনে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের বারুতখানাস্থ বুথ থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা এবং ২০ হাজার টাকার আরেকটি ব্ল্যান্ক চেক নেন। তিনি বলেন, পুলিশের আসামীর গায়ে হাত তোলারও এখতিয়ার নেই।

আর কলিগের ওপর তো হাত তোলার প্রশ্নই উঠে না। তার এমন বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তাকে আসামীদের মারপিটের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি তা এড়িয়ে যান। এবং সঠিক কোন উত্তর দিতে পারেননি। প্রসঙ্গ পাল্টিয়ে তিনি বলেন, ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে আব্দুল কুদ্দুস এটা করেছে।

তিন পুলিশ প্রত্যাহার:- সিলেট মহানগর পুলিশশের কোতোয়ালী থানার সহকারী কমিশনার (এসি) সাজ্জাদুল আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী তিন পুলিশ সদস্যকে সাময়িক প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রত্যাহারকৃতরা হলেন, কোতোয়ালী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুদ রানা, কনস্টেবল আব্দুল কুদ্দুস ও মনোরঞ্জন। রোববার তাদের প্রত্যাহার করা হয়।

উল্লেখ্য যে, সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) কোতোয়ালী জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) সাজ্জাদুল আলমের বিরুদ্ধে মারধর ও বুকে অস্ত্র ধরে গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেন তার অধীনস্ত কনস্টেবল আব্দুল কুদ্দুস। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এসএমপি কমিশনার কামরুল আহসানের কাছে লিখিতভাবে এ অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগের অনুলিপি পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও দেওয়া হয়েছে। আব্দুল কুদ্দুস অভিযোগ করেন, গত ২৯ আগস্ট রাতে কোতোয়ালী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুদ রানার সঙ্গে তিনি ও আরও কিছু পুলিশ সদস্য একটি বাসায় ডা. একেএম নুরুল আম্বিয়া নামে এক সন্দেহভাজন আসামিকে ধরতে যান। ওই বাসায় গেলে ডা. আম্বিয়া তার ১৮ মাসের বাচ্চা রয়েছে এবং এ নিয়ে পরে কথা বলবেন বললে অভিযানে যাওয়া পুলিশ সদস্যরা তাকে আটক না করেই চলে আসেন।

সে ঘটনার সপ্তাহখানেক পর হয়রানি ও টাকা চাওয়ার অভিযোগ এনে উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি-উত্তর) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ডা. আম্বিয়া। অভিযোগে তিনি নগদ ১০ হাজার টাকা ও একটি ব্ল্যাংক চেক নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন। ডা. আম্বিয়ার এ অভিযোগ তদন্তের জন্য এসএমপি’র সহকারী কমিশনার (এসি-কোতোয়ালী) সাজ্জাদুল আলমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

তদন্তের জন্য সাজ্জাদুল কনস্টেবল আব্দুল কুদ্দুসকে তার কার্যালয়ে ডেকে এনে অভিযোগকারীদের সামনেই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এক পর্যায়ে ‘মিথ্যা বলিস কেনো?’ বলে আব্দুল কুদ্দুসকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এমনকি অভিযোগকারী চিকিৎসক দম্পতির সামনেই ইউনিফর্ম পরিহিত কুদ্দুসকে চড়-থাপ্পড় মারেন এবং গুলিভর্তি শর্টগান বুকে চেপে ধরে গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি দেন।

এ ঘটনার পর কানে ব্যথা অনুভব করায় কুদ্দুস সিলেট বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখান থেকেও তাকে নিয়ে আসেন সাজ্জাদুল। ‘এসি কোন আইনে এবং কোন ক্ষমতাবলে আমার হাতিয়ার কেড়ে নিয়ে বুকে চেপে ধরে গুলি মেরে ফেলার হুমকি দেন?’-লিখিত অভিযোগে এমন প্রশ্নও তোলেন কনস্টেবল আব্দুল কুদ্দুস। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *