হাটের সংখ্যাও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করতে হবে

মনসুর হায়দার: মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- “তোমরা যালিমও হইয়ো না, মজলুমও হইয়ো না। নির্বাচনের আগে সরকার ওয়াদা করেছিলো, ‘ক্ষমতায় গেলে ইসলামবিরোধী কোনো আইন পাস করবে না’।

অথচ পবিত্র কুরবানীর পশুর হাট কমানো হচ্ছে এবং শহর থেকে জনবিচ্ছিন্ন এলাকাকে হাটের জন্য নির্ধারণ করা হচ্ছে; যা স্পষ্ট ইসলামবিরোধী কাজ? তাই নির্বাচনী ওয়াদা ঠিক রাখতে সরকারকে এ ধরনের ইসলামবিরোধী সিদ্ধান্ত থেকে অবশ্যই ফিরে আসতে হবে। ঢাকা শহরে জনসংখ্যা যেহেতু বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাই হাটের সংখ্যাও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করতে হবে।

অর্থাৎ প্রত্যেক পাড়ায়-পাড়ায়, মহল্লায়-মহল্লায় হাটের ব্যবস্থা করে দিতে হবে। তাহলে জনগণকে আর কষ্ট করে দূরবর্তী এলাকায় গরু কিনতে যেতে হবে না। সরকারকে স্মরণ রাখতে হবে যে, পবিত্র কুরবানী হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক উনার আদেশ মুবারক। এই পবিত্র কুরবানীতে যারাই সাহায্য-সহযোগিতা করবেন তারাই রহমতপ্রাপ্ত হবেন।

আর যারা বাধা সৃষ্টি করবে তাদেরকে গৌরগোবিন্দ ও বল্লাসসেনের মতো পরিণতি ভোগ করতে হবে।  ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের জনসংখ্যা প্রায় দেড় কোটিরও বেশি। এ বিশাল জনসংখ্যার শহরে পবিত্র কুরবানীর জন্য প্রায় ৩০ লক্ষ পশুর প্রয়োজন হয়। অথচ এ বিপুল পরিমাণে পশু সংগ্রহের জন্য দুই সিটি কর্পোরেশনে মাত্র ১৬টি হাটের অনুমতি দেয়া হয়েছে, যা সত্যিই অবাক করার মতো বিষয়। গত বছর ঢাকা শহরে অস্থায়ী পশুর হাট ছিলো ২২টি, কিন্তু এবার কমিয়ে করা হয়েছে ১৬টি।

শুধু তাই নয়, নতুন হাটগুলো সরিয়ে দেয়া হয়েছে শহরের সীমান্তে জনবিচ্ছিন্ন এলাকায়। সরকার এবার শুরু থেকেই দাবি করছে- ‘কুরবানীর পশুর হাটের কারণে রাস্তায় যানজট হচ্ছে, যা হাসপাতাল ও কূটনৈতিক এলাকাগুলোতে সমস্যার সৃষ্টি করছে।’ আর এ অজুহাত দেখিয়ে তারা ৫টি হাট বাতিল করেছে। নাউযুবিল্লাহ!  ঢাকা শহরে যানজট সারা বছর স্থায়ী। এমন কোনো সময় নেই, যখন ঢাকা শহর পুরোপুরি যানজট মুক্ত থাকে। তবে কেন পবিত্র কুরবানীর পশুর হাটকে যানজটের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে? অথচ বাস্তব পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।

ঢাকার হাটগুলো মূলত ঈদের ৪/৫ দিন আগেই বেশি জমে। তখন কিন্তু ঢাকার বেশিরভাগ মানুষ গ্রামে চলে যায়, সে সময় ঢাকা কিন্তু ফাঁকা থাকে, তাই ‘কুরবানীর পশুর হাটের কারণে যানজট হচ্ছে’- এটা সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রমূলক ও ইসলামবিদ্বেষীমূলক এবং কাট্টা মিথ্যা কথা। মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, হিন্দুদের পূজামন্ডপের কারণে চরম যানজট ও জনদূর্ভোগ হওয়ার পরও গত বছর দুর্গাপূজায় সরকার হিন্দুদের পূজার সুবিধার্থে আগেরবারের তুলনায় পূজাম-পের সংখ্যা বৃদ্ধি করে দিয়েছিলো।

গত বছর দুর্গাপূজায় রাজধানীসহ সারাদেশে আগেরবারের তুলনায় ২১৮টি পূজাম-প বৃদ্ধি করে ২৮ হাজার ৪৫৮টি করা হয়েছিলো। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! অথচ মুসলমানদের ক্ষেত্রে করা হলো ঠিক উল্টো। ঢাকায় হাটের সংখ্যা গত বছর ছিলো ২২টি, এবার করা হলো ১৬টি। নাউযুবিল্লাহ!

উল্লেখ্য, জনসংখ্যার মাত্র ১.৫%-এর কম হিন্দুর জন্য যদি পূজাম-পের সংখ্যা ২১৮টি বৃদ্ধি করতে হয়, তবে ৯৮% মুসলমানদের পবিত্র কুরবানীর পশু তথা গরু কেনার সুবিধার্থে কতগুলো হাট বৃদ্ধি করতে হবে- সেটা নিয়ে সরকারকে চিন্তা করতে হবে। অর্থাৎ সরকারের জন্য ফরয হচ্ছে- প্রত্যেক পাড়ায়-পাড়ায়, মহল্লায়-মহল্লায় হাটের ব্যবস্থা করে দেয়া। মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, এবার বেশ কিছু হাটের অবস্থান শহর থেকে বিচ্ছিন্ন মেট্রোপলিটনের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত।

এদের অনেকগুলোতে যাতায়াত ব্যবস্থাও বেশ দুর্গম। সাধারণত ঢাকাবাসী বেশ কয়েকটি হাট ঘুরে তার পছন্দসই গরু কিনে থাকে। কিন্তু হাটের অবস্থান যদি এত জনবিচ্ছিন্ন এলাকায় হয়, তবে জনগণের পশু কিনতে অনেক কষ্ট হবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। তাছাড়া জনবিচ্ছিন্ন দুর্গম এলাকায় অবস্থিত হাট থেকে পশু কিনতে বিভিন্ন নিরাপত্তাজনিত সমস্যা, যেমন: চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি’র ঘটনা ঘটবে, যা জনদুর্ভোগ কয়েকগুণ বাড়িয়ে তুলবে। সরকারের এটা মনে রাখা উচিত, প্রত্যেক মুসলমানগণ উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টির জন্যই পবিত্র কুরবানী করে থাকেন।

সরকার যদি এমন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করে, যার মাধ্যমে মুসলমানদের কুরবানীর পশু কিনতে কষ্ট পোহাতে হয়, তবে সেই ব্যবস্থা কিন্তু মুসলমান উনাদের প্রতি যুলুম এবং মহান আল্লাহ পাক উনার আদেশে বাধা সৃষ্টি করারই নামান্তর। শুধু তাই নয়, কুরবানীর পশু দূরবর্তী হাট থেকে কিনতে গিয়ে মুসলমানদের যে কষ্ট হবে, সেই কষ্টের কারণে অবশ্যই ইচ্ছা-অনিচ্ছায় তাদের অন্তর থেকে বদ-দোয়া আসবে।

আর সেই বদ-দোয়ায় সরকারের জন্য সামনে কত কঠিন পরিস্থিতি বয়ে আনতে পারে, সেটা কল্পনা করাও সম্ভব নয়। এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “মজলুমের বদ-দোয়াকে ভয় করো। কেননা মজলুমের সাথে মহান আল্লাহ পাক উনার কোনো পর্দা থাকে না।

 মূলকথা হলো- ৯৮ ভাগ মুসলমান ও রাষ্ট্রদ্বীন ইসলাম উনার দেশের সরকারের জন্য ফরয হচ্ছে- মুসলমান উনাদের পবিত্র কুরবানী করার সুবিধার্থে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের প্রতিটি এলাকায় ও গ্রামে আরো অধিক সংখ্যক পবিত্র কুরবানীর পশুরহাটের ব্যবস্থা করা। অর্থাৎ পর্যাপ্ত হাটের ব্যবস্থা করা।

নচেৎ পবিত্র কুরবানীর পশুর হাটের স্বল্পতার কারণে কুরবানীদাতার পবিত্র কুরবানীতে ব্যাঘাত ও দুর্ভোগের সকল দায়-দায়িত্ব সরকারকেই গ্রহণ করতে হবে। অর্থাৎ এ কারণে সরকারকে পরকালে কঠিন কাফফারা আদায় করতে হবে।haidermonsur@gmail.com  (মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন)

This website uses cookies.