রাবি ও রুয়েটে নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহরীর সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা

সুজন আলী, (রাবি): নিষিদ্ধ হওয়া ইসলামী মতাদর্শের রাজনৈতিক দল হিযবুত তাহরীর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ও রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) ক্যাম্পাসে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। সবার অগোচরে রাবি ও রুয়েটে হিযবুত তাহরীর প্রায় ৭০ টি পোস্টার লাগিয়েছে। শুধু পোস্টার নয়, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দপ্তর, উপ-উপচার্য দপ্তর, প্রক্টর দপ্তর, রেজিস্টার দপ্তর, ক্যাম্পাসের সাংবাদিক সংগঠনগুলোতেও এই সম্মেলন সম্পর্কে ডাকযোগে লিফলেট পাঠানো হয়।

ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, হিযবুত তাহরীর নামের এই নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনটি রাবি ক্যাম্পাসের প্রশাসন ভবন, টিএসসিসি ভবন ও ১ম, ২য়, ৩য় বিজ্ঞান ভবনে এবং রুয়েটের বিলবোর্ডসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় তাদের রাজনৈতিক সম্মেলনের প্রচার চালিয়েছে। পোস্টার ও চিঠিতে বলা হয়েছে যে, আগামী ৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকেল সাড়ে তিনটার সময় খিলাফত রাষ্ট্র দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা এবং জনগণের জীবনে যে সব বাস্তব পরিবর্তনসমূহ আনবে তা তুলে ধরতে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

এই সম্মেলনটি ওইদিন   www.livestream.com/EmergingkhilafahBD ওয়েবসাইটে সরাসারি সম্প্রচার করা হবে বলেও পোস্টারে জানানো হয়। ওই সম্মেলনে তিনটি আলাদা আলাদা বিষয়ে বক্তব্য প্রদান করা হবে বলে পোস্টারে লেখা হয়। এগুলো হলোÑখিলাফত রাষ্ট্রে বাংলাদেশে রাজনীতি ও অর্থনীতির পরিবর্তন, আন্তর্জাতিক বিশ্বে কীভাবে খিলাফত টিকে থাকবে ও নেতৃত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে এবং আওয়ামী-বিএনপি’র অপসারণ ও খিলাফত প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক কর্মসূচি।

এই ঘটনার পর থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীসহ সুশীল সমাজের মাঝে এক উদ্বেগজনক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীরা বলেন ক্যাম্পাসে এত নিরাপত্তা বেষ্টনির মধ্যেও তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভবনে তাদের লিফলেট ও পোস্টার লাগিয়েছে। এটা আমাদের জন্য হুমকি স্বরুপ। তারা যে কোনো বড় ধরণের কিছু ঘটাতে পারে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিতে (রাবিসাস) ডাকযোগে একটি লিফলেট পাঠানো হয়েছে উল্লেখ করে রাবিসাসের সভাপতি এম এ সাঈদ শুভ বলেন, ‘আমরা এই বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, নিষিদ্ধ হওয়া সংগঠনটি এই অঞ্চলে সংগঠিত হয়ে তাদের অস্তিত্ব জানান দিতে বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটাতে পারে। তবে এই পোস্টার কে, কখন কীভাবে লাগিয়েছে তা জানা যায়নি। তবে মঙ্গলবার গভীর রাতে দলটির সমর্থিতরা এ পোস্টার লাগিয়েছে বলে ধারণা করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ন কবীর বলেন, ‘আমরা জানি না কে কা কারা এই পোস্টার লাগিয়েছে। তবে সর্বোচ্চ গুরুত্বসহকারে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. তারিকুল হাসান বলেন, ‘আমরা পুলিশ প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে পোস্টারগুলো তুলে ফেলেছি এবং পুলিশ কমিশনারের বরাবর একটি চিঠি পাঠাচ্ছি যাতে ক্যাম্পাসে তারা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রদান করে। উল্লেখ্য, হিযবুত তাহরীর ইসলামী মতার্দশ ভিত্তিক একটি রাজনৈতিক দল যা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে র্কাযক্রম পরিচালনা করে থাকে।

বাংলাদেশে ২০০১ সাল হতে আনুষ্ঠানিকভাবে এ দলটি তাদের কার্যক্রম শুরু করে। ২০০৯ সালের ২২ শে অক্টোবর বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রালয় ‘জননিরাপত্তার স্বার্থে’-কারণ দেখিয়ে দলটিকে নিষিদ্ধ করে। দলটি পৃথিবীর অন্য অনেকগুলো দেশও নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

This website uses cookies.