রাবিতে রমরমা সিট বাণিজ্য : নেপথ্যে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা

8প্রথম সকাল ডটকম ডেস্ক: প্রায় ৩০ হাজার ছাত্রছাত্রীদের প্রাণের মিলনস্থল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে মোট আবাসিক হলের সংখ্যা ১৬ টি (ছেলেদের ১১ টি এবং মেয়েদের ৫টি, ১ টি নির্মাণাধীন)। আবাসিক হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের মোট সিট সংখ্যা প্রায় ৫০০০।

তবে মেয়েদের হলগুলো ছাত্ররাজনীতি তুলনামূলক ভাবে কম হওয়ায় ছেলেদের হলগুলোতেই সিট বাণিজ্য চলছে অবাধে। ছেলেদের হলগুলোর সিটের ভিতরে সরকারী দলের ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের দখলে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট সিটের প্রায় একচতুর্থাংশ। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হল, মাদার বখশ হল, সৈয়দ আমীর আলী হল, নবাব আব্দুল লতিফ হল, শাহ্‌ মখদুম হল এবং শেরে বাংলা এ.কে ফললুল হক হলে চলছে রমরমা সিট বাণিজ্য। হলগুলোর কোন কক্ষ কখন ফাঁকা হবে না হবে এবং সে কক্ষে কে উঠবে না উঠবে তার হিসাব এখন ছাত্রলীগের কব্জায়।

কক্ষ বরাদ্দ পাওয়া কোন শিক্ষার্থীই হলে উঠতে চাইলেই ছ্ত্রালীগের অনুমতি নিতে হয়। আর অনুমতি নিতে গেলেই বিভিন্ন ধরনের ভয়-ভীতি দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা হয় মোটা অংকের টাকা। হলে আবাসিকতা নেই এমন শিক্ষার্থীদেরকেও টাকার বিনিময়ে অবৈধভাবে হলে তুলছেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। ফলে আবাসিকতাপ্রাপ্ত বৈধ শিক্ষার্থীরা মাসের পর মাস অপেক্ষা করেও কোন কক্ষেই উঠতে পারছেন না। উল্টো তাদেরকে নিয়মিত পরিশোধ করতে হচ্ছে হলভাড়া।

বিশ্ববিদ্যালয় হলগুলোর মধ্যে সৈয়দ আমীর আলী হল, নবাব আব্দুল লতিফ হল, শাহ্‌ মখদুম হলে নবগঠিত হল শাখা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরাই উক্ত হলগুলোর যাবতীয় বিষয়সমূহ নিয়ন্ত্রণ করে। তাঁর মধ্যে আব্দুল লতিফ হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি “মিজানুর রহমান” এবং শাহ্‌ মখদুম হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি “আরিফ-বিন-জহির”–এর বিরুদ্ধেও সিট বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। আর সৈয়দ আমীর আলী হল শাখা ছাত্রলীগের স্থগিতকৃত কমিটির সভাপতি “সজল”, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুজ্জামান ইমনের একনিষ্ঠ কর্মী হওয়ায় হলে সিট বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, গ্রুপিং, মারামারিসহ যাবতীয় অপকর্ম ইমনের প্রত্যক্ষ মদদে হয়।

কিন্তু অন্যান্য হলগুলোর কমিটি না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের নির্দেশক্রমে বাকি হলগুলোর নিয়ন্ত্রণের জন্য তাদের পছন্দের কর্মীরা নিযুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু হলে সভাপতি নিজেই অবস্থান করেন বলে, এই হলের যাবতীয় নিয়ন্ত্রণ তাঁর হাতেই রয়েছে। তবে বঙ্গবন্ধু হলে অবস্থানরত বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি “মেহেদী হাসান” এর নামে হলের সাধারণ ছাত্রদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হক হলের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, মুজাহিদুল ইসলাম হিমু (যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক), ছাত্রলীগ কর্মী রাজু এবং সোহেল –এর হাতে। এদের নামেও বিভিন্ন সময়ে সিট বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। মাদার বখশ হলের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে ছাত্রলীগ কর্মী রবিউল বনী, তরিকুল, রিফাত এবং বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক “কাওসার আহমেদ কৌশিক” এর হাতে। মাদার বখশ হলের সিট বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, ক্যান্টিনে ফাও খাওয়াসহ নানা রকমের নেপথ্যে রয়েছে এই তিনজন।

শহীদ জিয়াউর রহমান হলের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে ছাত্রলীগ কর্মী মেহেদী হাসান,  রাকিব, কৌশিক এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক “আজাহারুল ইসলাম শাওন” এর হাতে। এই তিনজনের নামেই সিট বাণিজ্য এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। তাছাড়া “আজাহারুল ইসলাম শাওন” এর নামে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের একাধিক নেতাকর্মীদের কাছ থেকে জানা গেছে, এইসব অপরাধকর্মে যারা জড়িত তাদের মধ্যে অধিকাংশই বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি “মিজানুর রহমান রানা”র ছত্রছায়ায় রয়েছে। এবিষয়ে কথা বলতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি বলেন, “এটা সম্পূর্ণ  ভিত্তিহীন একটা খবর। আমি এবং আমার নেতাকর্মীরা স্বচ্ছতার মাধ্যমে রাজনীতি করি। তবে হ্যাঁ, কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে, যা আমি তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি দেখব।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *