এসো বন্ধুরা সঞ্চয় করি

6ফারহানা মোবিন: বর্তমান যুগ ভীষণ তীব্র প্রতিযোগিতার। প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভীষণ প্রতিযোগিতা। এই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য চাই কৌশল করে পরিশ্রম আর অর্থ। জীবনে টাকার যথেষ্ট প্রয়োজন। ছোট্ট বন্ধুরা, তোমরা যারা লেখাপড়া করছো, তোমাদের পড়ালেখার পাশাপাশি আরো অনেক কিছু শিখতে হয়।

যেমন: গান, নাচ, ছবি আঁকা, কবিতা আবৃত্তি, অভিনয় শেখা, ক্যারাত খেলা শেখা ইত্যাদি। আর এই বাড়তি কাজগুলো শিখতে প্রয়োজন বাড়তি টাকার। বন্ধুরা তোমাদের যোগ্য করে গড়ে তোলার জন্য তোমাদের বাবা মা অনেক কষ্ট করছেন। খেয়াল করে দেখো, যত দিন যাচ্ছে, জিনিসপত্রের দাম বেড়েই চলছে।

এই বেড়ে চলা দামের সাথে পাল্লা দিয়ে তোমাদেরকে অনেক কিছু করতে হবে অনেক কিছু শিখতে হবে তোমাদের। সেই সাথে খেয়াল রেখো, তোমাদের বাবা মায়ের উপরে যেন খুব বেশি চাপ পড়ে না যায়। তোমরা বড় হতে শুরু করেছে। তোমাদের বিভিন্ন রকম প্রয়োজন বাড়তে শুরু করেছে। তাই তোমাদেরকেও দায়িত্ববান হতে হবো তোমরা অনেকেই নিশ্চয় দামী খেলনা কেনো, নিয়মিত ফাস্টফুড খাও।

এখন থেকেই খেলনা ও ফাস্টফুডের পরিমাণ কমিয়ে দাও। অল্প অল্প করে কিছু জমাতে থাকো। তোমাদের বাবা মায়েরা অনেক সময় হাত খরচ দেয়, স্কুলের টিফিনের সময়ে কিছু কিনে খাবার জন্য টাকা দেয়। তোমরা অনেক সময় এমন কিছু কিনো যা না হলেও তোমাদের হয়তো চলবে। এই জিনিসগুলো না কিনে সেই টাকাটা জমিয়ে রাখো তোমাদের ভবিষ্যতের জন্য। বাজারে বা ফুটপাতে বা বড় বড় শপিংমলগুলোতে পাওয়া যায় টাকা ও পয়সা জমিয়ে রাখার জন্য ব্যাংক, মাটি, মোড়ামাটি বা কাঠের তৈরি সুদৃশ্য বিভিন্ন ধরনের ব্যাংক বা পট পাওয়া যায়।1 (2)যা ছোট্ট বন্ধুরা, তোমরা তোমাদের পড়ার টেবিলেও সাজিয়ে রাখতে পারো। দেখতে শোপিসের মতো এসব পাত্র। ব্যাংক পড়ার টেবিল ছায়া, ডাইনিং টেবিল, ড্রইং রুম, বা ঘরের এক কোণায় সাজিয়ে রাখা যায়। আর তোমাদের সাজিয়ে রাখার ইচ্ছা না হলে আলমারী বা লকারের কোণেতে রাখতে পারো। পঞ্চাশ পয়সা থেকেই শুরু করো। বিন্দু বিন্দুতে সিন্ধু হয়ে যায়। প্রতিদিনতো আর ব্যাংকে টাকা বা পয়সা জমানো সম্ভব না।

যখন সম্ভব হবে, তখন টাকা জমাও। অনেকে পাঁচ টাকার কয়েন বা পয়সা জমায়। তোমরা সেটাও করতে পারো। তোমাদের মনে রাখতে হবে যে, তোমরা শখ করে টাকা জমাচ্ছো। তাই টাকা জমানোর জন্য বাবা মা, ভাই বোন বা পরিবারের অন্য কাউকে চাপ দিও না। তোমরা বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে তোমাদের খরচের টাকা থেকে বাঁচিয়ে টাকা জমাও।

দেখবা ৬ মাস বা ১ বছর পরে হয়ে যাবে মোটা অঙ্কের টাকা। যা দিয়ে পূরণ হবে তোমার কোন ইচ্ছা। তোমার জমানো টাকার সাথে তোমার পরিবারের অন্য সদস্যদের কিছু টাকা যুক্ত করে হয়ে যাবে ট্যাব বা ল্যাপটপ বা খুব সুন্দর একটি স্কুলের ব্যাগ বা ক্যালকুলেটর। তোমার বন্ধুদেরও বলতে খুব ভালো লাগবে যে, তোমার জমানো টাকা দিয়ে তুমি কিনেছো, তোমার প্রিয় কিছু।

আর তোমার অভিভাবকেরাও হয়তো একটি দায়িত্ব থেকে মুক্তি পাবেন। উনারাও ভীষণ খুশী হবেন। কারণ সঞ্চয় করাটা প্রতিটি মানুষেরই উচিত। আর এই অভ্যাসটা টিকিয়ে রাখতে পারলে একদিন সঞ্চয়ের পরিমাণ অনেক বাড়বে। কারণ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বালুকণাতেই বিশাল মহাদেশ গড়ে ওঠে।

তাই বন্ধুরা, তোমরা এখন থেকেই সংযমী হও। অপচয় না করে, ভবিষ্যতের জন্য গড়ে তোলো তোমাদের সঞ্চয়ের ভূবন। নিরাপদ হোক তোমাদের পথচলা। জীবনযুদ্ধে তোমরা হও জয়ী। লেখক:- ডাঃ ফারহানা মোবিন, মেডিকেল অফিসার (গাইনী এন্ড অবস্) স্কয়ার হাসপাতাল, ঢাকা, বাংলাদেশ।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *