ঘুরে আসতে পারেন সিলেটের পর্যটন এলাকা

4 (4)প্রথম সকাল ডটকম ডেস্ক: ঈদের টানা ছুটিতে সিলেটের জাফলং, রাতারগুল, পান্তুমাই ও বিছনাকান্দি পর্যটন এলাকা পর্যটকদের মিলন মেলায় পরিণত হয়ে থাকে। ভারতের মেঘালয় পাহাড় ঘেসা প্রকৃতির অপরূপ লীলা ভুমি প্রকৃতি কন্যা জাফলং, পান্তুমাই, বিছনাকান্দি আর বিশ্বের অন্যতম সোয়াম ফরেষ্ট রাতারগুল কে এক নজর অবলোকন করতে কার না মন চায়।

ভিন্ন বয়সের নারী পুরুষ, যুবক, যুবতী ও শিশু কিশোর সবাই চায় জীবনের একটি মুহুর্তে চা-বাগান বেষ্টিত সাদা-কালো, রং বেরংগের পাথর ঘেসা জাফলং, পান্তুমাই, বিছনাকান্দি পর্যটন এলাকা ঘুরে দেখার। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে চাকুরীজিবী, ব্যবসায়ী, ছাত্র / শিক্ষকসহ উঠতি বয়সের যুবক-যুবতিরা বিভিন্ন রকম যানবাহন নিয়ে এবং নানা রকম পোশাক পরে জাফলং, পান্তুমাই, বিছনাকান্দি পর্যটন এলাকায় এসে এক মিলন মেলার সৃষ্টি করেন। 4 (8)সিলেট শহর থেকে ৫৯ কিলোমিটার অদুরে অবস্থিত ভারতের আসাম রাজ্যের মেঘালয় পাহাড়ের সীমান্ত ঘেষা এলাকায় জাফলং পর্যটন এলাকার অবস্থান। এখানে রয়েছে জেলা পরিষদ ডাকবাংলো, তামাবিল জিরো পয়েন্ট, পার্বত্য অঞ্চলের মত আঁকাবাঁকা সড়ক পথ, ছোট-বড় অনেক পাহাড়-টিলা, জাফলং পিকনিক সেন্টার, জাফলং গ্রীন পার্ক, জাফলং পাথর কোয়ারী, সীমান্তের ওপারে ঝর্না সংবলিত পাহাড়ী রূপ কন্যা, জাফলং চা-বাগান, মন-মুগ্ধকর খাসিয়া আদিবাসীদের বসত বাড়ি, পুঞ্জি এলাকায় জুমচাষ, সাতকরা জোম, কমলা বাগান এবং ভিন্ন রকম পাখ-পাখালীর অপরূপ মিলন মেলা।

কয়েক যুগ ধরে জাফলং এলাকা দেশের ২য় বৃহত্তম পর্যটন নগরী হিসাবে দেশ ও বিদেশের ভ্রমন পিপাসুদের কাছে যেমন পরিচিত তেমন সরকারী ভাবেও উল্লেখযোগ্য পর্যটন নগীর হিসাবে খ্যাত। প্রতি বছর ঈদ ছাড়াও প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যটক ছাড়াও বিদেশী পর্যটকরাও প্রকৃতি কন্যা জাফলংকে এক নজর দেখতে জাফলং পর্যটন এরিয়া ঘুরে যান।

এসব পর্যটকদের আদর আপ্যায়ন করতে গড়ে উঠেছে জাফলং এলাকায় ভিন্ন রকম ব্যবসা-বাণিজ্য। এতে রয়েছে আবাসিক-অনাবাসিক হোটেল রেস্তরা, দেশী-বিদেশী কাপড়-চোপড়ের ব্যাপক পশরা এবং কসমেটিকসহ নানা রকম গিফট সামগ্রী। এদিকে বিশ্বের অন্যতম জলার বন রাতারগুল সোয়াম ফরেষ্ট দেখতে পর্যটকদের ব্যাপক সমাগম ঘটে এবং সেখানে প্রতিদিন দেশী-বিদেশী সহস্রাধিক পর্যটক ঘুরে বেড়ান। 4 (15)অপর দিকে আরেক প্রকৃতি কন্যা পান্তুমাই বড়হীল ঝর্ণা দেখতে সকল বয়সের পর্যটকপ্রেমী লোক জন ভিড় জমান পান্তুমাই। বিশেষ করে উঠতি বয়সের তরুন তরুনীদের উপস্থিতি লক্ষনীয়। তাছাড়া গোয়াইনঘাট উপজেলা রস্তমপুর ইউনয়নে দেশের বৃহত্তম পাথর কোয়ারী বিছনাকান্দি এলকায় পর্যটকদের উপস্থিতি লক্ষনীয়। সব মিলিয়ে সিলেটের গোয়াইনঘাট এখন পর্যটন নগরীতে রুপান্তরিত হয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা যে ভাবে পর্যটন নগরীকে দেখা শোনা ও রক্ষনাবেক্ষন করছে ঠিক তেমনি ভাবে সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা পেলে আরও উন্নতি লাভ করবে।

পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা ছুটিতে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, নয়নাভিরাম মাধবপুর লেক, হাম হাম জলপ্রপাত, বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান স্মৃতিস্তম্ভসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পট দেশী বিদেশী পর্যটকদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য দেখতে ছুটে আসেন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ।

কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ও নয়নাভিরাম মাধবপুর লেকে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পর্যটকদের মিলন মেলা বসে। কমলগঞ্জের চা বাগান, খাসিয়া পুঞ্জি, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মণিপুরী ললিতকলা একাডেমী, মাধবপুর লেক, দলই সীমান্তে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতিস্তম্ভ দেখার পাশাপাশি পর্যটকরা মাধবকুন্ড জলপ্রপাতের চেয়েও অপরুপ সুন্দর হামহাম জলপ্রপাত দেখতে সেখানে ভিড় করেন। অন্যদিকে, প্রাকৃতীক সৌন্দর্যের অনুপম সৃষ্টি মাধবকুন্ড। 4 (14)যুগ যুগ ধরে এ পাহাড়ী জলকন্যা সৌন্ধর্য ও ভ্রমনপিপাসু পর্যটকদের কাছে টানছে। অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার মাধবকুন্ড জলপ্রপাত প্রতি বছরের ন্যায় এবার ঈদের ছুটিতে পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠে। বড়লেখা উপজেলার ৮ নং দক্ষিণভাগ ইউনিয়নের গৌড় নগর মৌজায় মাধবকুন্ড জলপ্রপাতের অবস্থান। পাহাড়ি ছড়ার প্রায় ২’শ ফুট উপর থেকে যুগ যুগ ধরে গড়িয়ে পড়ছে পানি।

এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে এবারের ঈদে নারী-পুরুষ,শিশু পর্যটকের মিলনমেলায় পরিণত হবে। ভ্রমনপিপাসু পর্যটকের জলপ্রপাতে এসে ছবি তোলা, জলপ্রপাতের কুন্ডের পানিতে নেমে আনন্দে গোসল করা। কয়েক যুগ ধরে মাধবকুন্ড জলপ্রপাতের অঝরধারা প্রবাহমান থাকলেও সত্তরের দশকে দর্শনীয় স্থান হিসেবে এর পরিচিতি প্রকাশ পায়।

ঈদের ছুটির সুযোগে সব ধর্ম-বর্ণের পর্যটকের আগমনে আনন্দ পুরিতে পরিণত হয়ে উঠে জলপ্রপাত ও আশপাশের এলাকা। জলপ্রপাত এলাকায় মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের ব্যবস্থাপনায় রেষ্ট হাউস, পর্যটন কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় রয়েছে রেস্তরা। বাংলাদেশের প্রথম ইকোপার্ক, মাধবকুন্ড জলপ্রপাত, আশপাশ এলাকার চা-বাগান ও পাহাড়ি টিলা দেশি- বিদেশী পযটক ও ভ্রমণ পিপাসুদের আকর্ষণীয় স্থান।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *