আগৈলঝাড়ায় সংখ্যালঘুদের জায়গাসহ নদী ও সরকারী জায়গা দখলের প্রতিযোগিতা

03অপূর্ব লাল সরকার, আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি: বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ১৪৪ ধারা অমান্য করে সংখ্যালঘুদের জায়গাসহ নদী, সরকারী জায়গা দখলের প্রতিযোগিতায় নেমেছে আওয়ামীলীগ নেতাসহ স্থানীয় প্রভাবশালীরা। দল-মতের পার্থক্য থাকলেও তারা দখলবাজিতে এক ও অভিন্ন।

প্রকাশ্য দিবালোকে বেপরোয়া দখলের মহোৎসব চললেও ওই দখলদাররা এতটাই প্রভাবশালী যে তাদের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেনা ভুক্তভোগী সংখ্যালঘু পরিবারসহ এলাকার সাধারণ জনগণ। ‘অভিযোগ করার সুযোগ না থাকায়’ প্রশাসন বিষয়গুলি দেখেও না দেখার ভান করছে। তাই দখলদারদের কাজে বাঁধা দেওয়ার ইচ্ছে থাকলেও প্রশাসনিক ও স্থানীয় বিভিন্ন হয়রানির আশঙ্কায় মুখ বুজে সহ্য করছেন ভুক্তভোগী ও ক্ষতিগ্রস্থ সাধারণ জনগণ।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৪৪ ধারা জারি করে লাল নিশান টানিয়ে দিলেও ওই নির্দেশ অমান্য করে বাগধা বাজারের পাশে নদী দখল করে পাকা ভবন নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও বিএনপি’র প্রভাবশালী নেতারা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার একমাত্র সন্ধ্যা নদীর শাখা পয়সা নদীর তীরে অবস্থিত পয়সারহাট বন্দর। বন্দরের সেতুর পূর্বপাশে নদীর একটি অংশে পাইলিং ও ইট বালু দিয়ে ভরাটের মাধ্যমে দখলে করে ইট বালুর ব্যবসা করছেন স্থানীয় বাদশা বক্তিয়ার।

পয়সারহাট বন্দরের ব্যবসায়ী আওয়ামীলীগ নেতা আবুল বাশার হাওলাদার ওরফে বাদশা স্থানীয় সংখ্যালঘু পরিবারের জায়গাসহ লঞ্চঘাট থেকে বন্দরে প্রবেশের রক্ষা বাঁধ প্রকল্পসহ সরকারের জায়গা দখল করে দ্বিতল পাকা ভবন নির্মাণ করছেন। একই নদীতে বাগধা বাজারের নদীর পূর্বপাড়ে নদী দখল করে পাকা ভবন নির্মাণ করছেন স্থানীয় প্রভাবশালী কাদের মিয়া, মাওলা মিয়া ও আকবর মিয়াসহ ছয়জন। যেখানে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে ভবন নির্মাণে বাঁধা দিলেও অজ্ঞাতকারণে ওই ভবনগুলো নির্মাণের কাজ প্রায় শেষের পথে।

অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা প্রশাসন বাঁধা দিলেও পুলিশ বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে অবৈধ ভবন নির্মাণে সহায়তা করেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাজারের মধ্যে সরকারী জায়গা দখল করে উপজেলা সদরের আগৈলঝাড়া বাজারে দোকান নির্মাণের ফলে গলি ছোট হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঢুকতে না পারায় পর পর দু’বার অগ্নিকান্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। অগ্নিকান্ডের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপি, সাবেক জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল আলমসহ উর্ধতন কর্তৃপক্ষ।

তারা বন্দরের দোকান ও গলি নির্মাণে উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিলেও ব্যবসায়ীরা সেই নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে সরকারী জায়গা দখল করে নির্মাণ কাজ চালালে সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবী চন্দ সদর বাজারের নির্মাণাধীন পাকা ভবনের বর্ধিতাংশ ভেঙ্গে দেন। সরকারী অর্থায়নে নির্মিত উপজেলা সদর বাজারে ব্যবসায়ীসহ সাধারণের জন্য ব্যবহৃত একমাত্র ঘাটলাটিও এখন দখলদারদের পাকা ভবনের কারণে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পরেছে।

উপজেলা সদর ছাড়াও ৫টি ইউনিয়নের মধ্যে সাহেবেরহাট, গৈলা রথখোলা, ছয়গ্রাম বাজার, আস্কর কালীবাড়ি, দুশমী হাট, রাজিহার বাজার, বাশাইল বাজার, বারপাইকা, করিম বাজারসহ বিভিন্ন জায়গায় প্রভাবশালী দখলবাজরা একটি মহলকে ম্যানেজ করে সরকারী জায়গা দখল করে পাকা ভবন নির্মাণ করে রাতারাতি অন্যের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছেন।

ধুরন্ধর দখলদাররা দখলকৃত জায়গা তাদের পৈতৃক, ক্রয়কৃত, ডিক্রি করা ইত্যাদি বলে দাবি করে করলেও তার স্বপক্ষে কোন কাগজপত্র দেখাতে পারছেন না। এব্যাপারে উপজেলা সহকারী ভূমি (ভূমি)-র অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবী চন্দকে অবহিত করলে তিনি সরেজমিনে দখল হওয়া স্থানগুলো না দেখে কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *