রমজান এবং ঈদ-উল-ফিতর

30প্রথম সকাল ডটকম ডেস্ক: আরবি সালকে বলা হয় হিজরি। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) হিজরত করার সময় থেকে এই সাল গণনা শুরু হয়। চাঁদের সাথে হিসাব করে এই গণনার সালটি ৩৫৪ দিনে বছর হয়। ১২ মাসের নবম মাসটি হচ্ছে রমজান, যা সবচেয়ে পবিত্র এবং তাৎপর্য বহুল একটি মাস। মহান আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ অনুযায়ি মুসলমান প্রাপ্ত বয়স্ক (১২ বছর থেকে) সকল নর-নারীকে রোজা রাখতে হয়।

রোজা অর্থ বিরত থাকা। রমজান মাস তাই সংযোমের মাস। দিনের বেলায় সকল খাবার কে আল্লাহ তায়ালা হারাম ঘোষণা করেছেন এই পুরো রমজান মাসে। এছাড়া শরীর অপবিত্র হয় (যেমন: শারীরিক সম্পর্ক) এমন কাজ কে আরো কঠোর ভাবে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে এই রমজান মাসে। এই রমজান মাসেই পবিত্র কুরআন শরীফ নাযিল হয় মহানবীর উপর। যা, আর চারটি আসমানী কিতাবের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ্য। রমজান মাসে রোজাদারদের জন্য তাহরাবির নামায পড়া একান্ত জরুরি।

তবে, এটা যে জামাতেই পড়বে হবে এমন কোন কঠোর বিধান নেই। মহানবী নিজে তারাহবীর নামায নিজ ঘরে আদায় করতেন। তবে, কুরআন খতমের মতো অন্যতম সোয়াব পাবার আশায় মুসলমানরা তাহরাবীর নামায জামাতের সাথে হাফেয দ্বারা আদায় করে থাকে। মহান আল্লাহ তায়ালা ধনী এবং গরিব সৃষ্টি করেছেন মানুষের মনুষ্যত্ব এবং মহত্ব দেখার জন্য। যাকে তিনি সম্পদ দিয়েছেন, তাকে হুকুম করেছেন গরিবকে সাহায্য করার জন্য। আর তারই পরিপেক্ষিতে রমজান মাসের নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক-এর উপর যাকাত প্রদান করা ফরজ ঘোষণা করা হয়েছে।

আর এর সাথে মাথাপিছু ফিতরা প্রদানের হুকুম দিয়েছেন, যা শাওয়াল মাসের প্রথম দিন ঈদের জামাত এর পূর্বে পরিশোধ করার জন্য তাগিদ দিয়েছেন। মুলহ এই ফিতরা প্রদানের মতো একটি আনন্দজনক কাজ এর কারণে এই ঈদের নাম “ঈদ-উল-ফিতর”। ধনী আর গরিবের মধ্যে পার্থক্য কমাতে, সমাজে শোসনকে পরিত্যাগ করতে এই নিয়ম। ঈদ প্রতিটি মানুষের জন্য আনন্দময় একটি উৎসব। ঈদের দিন সবাই পরিষ্কার কাপর পরে। গায়ে সুগন্ধি মাখে। ঈদ মানুষকে আরো ত্যাগি এবং মহিমান্বিত করে।

আমাদের সবার উচিৎ সাম্যতা বজায় রেখে চলা। আল্লাহতায়ালা মানুষের জন্য যে সব নিয়ম প্রদান করেছেন, তা প্রতিটি সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ এবং মানবজীবনকে সুখি করার ক্ষেত্রে অতুলনীয়। আসুন, আমার রমজান এবং ঈদ থেকে নিজেদের শুদ্ধ করি, সমাজের প্রতি নিজ নিজ দায়িত্ব গুলো সঠিক ভাবে পালন করি। ঈদ সবার জন্য। সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *