একজন ছায়া মানব

1 (6)আহমেদ বশীর : আমার এই লিখাটা একটু পেছন থেকেই শুরু করলাম। মাস ও তারিখের কথা সঠিক মনে নেই তবে কম পক্ষে দশ বছর আগেকার কথা। আমি তখন দুই দুটো কাজ নিয়ে হিমশিম খেয়ে চলেছি। একদিকে সময়ের স্বল্পতা অন্যদিকে শারীরিক অসুস্থতা আমাকে ভাবিয়ে তুলেছে। আকাশ চুম্বী মেডিকেল ইন্সুরেন্সের প্রিমিয়াম। মধ্যবিত্তদের পক্ষে এই ইন্সুরেন্স রাখা অসম্ভব ও কষ্ট সাধ্য। ক’দিন ধরেই আমার গলার ভেতরটায় প্রচন্ড ব্যথা অনুভব করছি। যে কোন সময় বড় কিছু হয়ে যাবে এটা আরও বেশী চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হাপানী আছে সাথে উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়বেটিস, সব গুলো রোগই আমার ভেতর বিদ্যমান। ঘটনার দিন রাতে আমি ডাঃ মুরাদের বাসায় গেছি। আমাকে দেখে উনি বললেন বশীর ভাই আজই আপনাকে এন্টিবায়টিক খেতে হবে। কিন্তু এতো রাতে ঔষধ কোথায় পাওয়া যাবে? উনি প্রেসকিপশন দিতে পারবেন না বলে জানালেন। তবে কি ঔষধ খেতে হবে সেটা বলে দিতে পারবেন। হাতের কাছের একটি নাম্বারে ফোন করলাম। বললাম, আমার শরীর ভীষণ খারাপ এখনি ঔষধ লাগবে। ডাঃ মুরাদকে ফোনটা ধরিয়ে দিলাম।

উনি ঔষধের নামটা বললেন। সেই সন্ধ্যে রাতে ফার্মেসী বন্ধ হয়ে গেছে, কি ভাবে ঔষধ পাবো? বললেন, আমি বাসা থেকে যাচ্ছি ফার্মেসীতে আপনি আসেন। তখন রাত্রী সাড়ে এগারোটা। এসে দেখলাম উনি ঔষধ নিয়ে আমার জন্য অপেক্ষা করছেন। কি বলে যে উনাকে কৃতজ্ঞতা জানাবো তা ভাষায় প্রকাশ করার নয়! এই রকম আরো অনেক ঘটনার সাক্ষী ছিলাম আমি! এই ফার্মাসিস্ট ব্যক্তিটি ছিলেন জনাব মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী। 1 (4)বাংলাদেশ কমিউনিটির একজন একনিষ্ঠ সৎ,কর্মঠ মানুষ এই মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী। আমার সঙ্গে তাঁর যোগ সূত্র সেই দুই দশক হবে! তরঙ্গকে নিয়ে যখন আমরা অনুষ্ঠান শুরু করছি সেই তরঙ্গকে নিয়ে তাঁর প্রথম পথ চলা। একটু একটু করে এগিয়ে এখন সেই তরঙ্গ দেশ ও বিদেশ নন্দিত একটি সফল সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান। ক’দিন আগে ঢাকাস্থ টিভি চ্যানেল আই কর্তৃক এই তরঙ্গ আজীবন সন্মামনা পেয়েছে। এই ছায়া মানবের আরো অনেক দৃষ্টান্ত আমার কাছে রয়ে গেছে। স্যান্টা ক্লারিটাতে যে অনুষ্ঠান গুলো হচ্ছে এতদিন তিনি পরোক্ষ ভাবে সহযোগিতা করেছেন।

ইদানিং লস এঞ্জেলেসের বড় বড় যেই অনুষ্ঠান গুলো হচ্ছে তার সব গুলোর পৃষ্ঠপোষক হলেন, এই ছায়া মানব। এতো ভাল অনুষ্ঠান কোনদিনও হতে শুনিনি কারণ তখন ভাল পৃষ্ঠপোষক ছিলনা। উনি যেখানেই অর্থ সাহায্য করেছেন সেখানেই কল্পনাতীত উন্নত অনুষ্ঠানের বিস্ফোরণ ঘটেছে। এ বছর বাফলার স্বাধীনতা প্যারেড ছিল মনে রাখার মত! এ’লের প্রথম গ্রন্থ উৎসব, ফ্রেন্ডস ক্লাবের বাৎসরিক অনুষ্ঠান, বৈশাখী মেলা, ফোবনার মত বড় বড় অনুষ্ঠানের পৃষ্টপোষক এই ছায়া মানব।

আমি তাঁকে ছায়া মানব বলে আখ্যায়িত করেছি কারণ, এই ছায়ার তলে থেকেই লস এঞ্জেলেস তথা সমগ্র দেশ ও দেশের সাংস্কৃতির ক্রমবিকাশ ঘটছে এবং ঘটবে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামর সৃষ্ঠি ও রচনাকে তিনি যে ভাবে এই বিদেশে তরঙ্গের মাধম্যে প্রচারণা করছেন তা অতুলনীয়। এই ছায়া মানবের আর একটি পৃষ্ঠপোষকতার দৃষ্ঠান্ত সৃষ্টি হতে যাচ্ছে অচিরেই। স্বাধীনতার আজ চুয়াল্লিশ বছর পরও দেশের সরকার এই জাতীয় কবির কোন রকম নিদর্শন বাংলাদেশে কেউ সৃষ্টি করতে পারেনি।

তাঁর মুখ থেকে শুনেছি, বাংলার প্রতিটি গ্রামের তৃনমূল মানুষ জানবে জাতীয় কবির রচনা সামগ্রী। কষ্টে খেটে খাওয়া সেই নজরুলের জীবনী হবে কষ্টে খেটে খাওয়া মানুষদের পথ চলার পাথেও। তাঁর একক প্রচেষ্ঠা ও পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশে গড়ে উঠছে যাচ্ছে “নজরুল নগরী”। অচিরেই ব্রামনবাড়িয়াতে গড়ে উঠবে সেই স্বপ্নের “স্বপ্ন জগৎ” নজরুল নগরী। আমি এই ছায়া মানবের আরো অনেক অনেক সফলতা কামনা করছি। ছায়ার মত তিনি আছেন আমাদের মাঝে। ছায়া হয়ে থাক আমাদের পথ চলা। লেখক:- আমেরিকা প্রবাসী

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *