নিজের অশ্লীলতা নিয়ে সাফাই গাইলেন মুনমুন

0 (1)সলিম আহমদ: বাংলা সিনেমার এক সময়ের শরীর দেখানো নায়িকা ছিলেন মুনমুন। ঢাকাই সিনেমায় তিনি আলোড়ন তুলেছিলেন নিজের মহোনীয় রূপ আর খোলামেলা অভিনয়ের সাহসিকতা দেখিয়ে। ১৯৯৬ সালে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় চিত্রনায়িকা মুনমুনের। পরিচালক এহতেশামের ‘মৌমাছি’ সিনেমায় প্রথম কাজ করেন তিনি।

সিনেমাটি মুক্তি পায় ১৯৯৭ সালে। এর পর তাকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। মুনমুন অভিনিত সিনেমার সংখ্যা প্রায় ৯০ এর কাছাকাছি। এক সময় মুনমুনের যৌন আবেদনময়ী দৃশ্য নিয়ে চলচ্চিত্রাঙ্গনে তৈরি হয়েছিল সমালোচনার ঝড়। তবে তিনি এ বিষয়টিকে কখনও পাত্তা দেননি। দুই ছেলে সন্তানের জননী মুনমুন বাবার চাকরির সুবাদে ইরাকে জন্মগ্রহন করেন। বাবা চট্রগ্রামের বাসিন্দা হলেও ঢাকাতেই তিনি বড় হন।

দীর্ঘসময় পার করে মুনমুন ২০১৪ সালে ‘কুমারী মা’ সিনেমায় আবারও অভিনয় করেন। আর সর্বশেষ চলতি বছরের মে মাসে ‘কাসার থালায় রুপালী চাঁদ’ নামের একটি সিনেমায় অভিনয় করেন। সম্প্রতি মুনমুন একটি অনলাইন পত্রিকায় নিজের ‘অশ্লীলতা’ নিয়ে সাক্ষাৎকার দেন। তিনি বলেন, দর্শকদের সামনে আমাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। যারা আমার সিনেমা দেখছেন আর যারা দেখেননি, সবার সামনে আমাকে এমনভাবে উপস্থাপনা করা হয়, যাতে মনে হয় আমি সিনেমায় উলঙ্গ হয়ে কাজ করেছি।

বাস্তবতা হলো- আমি কোনো দিনই কোনো সিনেমায় উলঙ্গ হয়ে অথবা অশ্লীল কোনো দৃশ্যে কাজ করিনি। আমার অভিনীত তিন থেকে চারটা সিনেমায় অশ্লীলতা ছিল। তবে সেগুলোতে আমার অভিনীত অংশগুলোতে অশ্লীল কিছু ছিল না। অশ্লীল যা কিছু ছিল, তা হচ্ছে ‘কাটপিস’। এর জন্য তো আর আমি দায়ী নই। আমি তো পরিচালক-প্রযোজক নই। আমার অভিনীত অশ্লীল কোনো দৃশ্য নেই। তবে আমার সিনেমায় অন্যের দৃশ্য কাটপিস হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। যা আমি সিনেমা তৈরির সময় বা আগে এটা জানতাম না।

পাঠক মুনমুনের এমন বক্তব্য পড়ে সবাই ভাববেন তিনি তুলসি পাতা দিয়ে দোয়া। কোনদিনই শরীর দেখাননি। কিন্তু একটু পিছন ফিরে তাকালে দেখা যাবে সিনেমা হলে মুনমুনের শরীর দেখার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়তো। তার শরীর প্রদর্শনের সময় হই হুল্লোড় শুরু হতো। তাহলে তিনি কিভাবে নিজেকে ‘অশ্লীল’ শব্দ থেকে দুরে সরিয়ে নিলেন? ৯৭ এ অশ্লীলতা মুনমুন, ময়ুরী, নাসরিন, পলির মতো নায়িকারা নিয়ে আসেন।

তখন পরিচালক এদের ছাড়া সিনেমা তৈরীতে যেন আগ্রহ দেখাতেন না। তখন সিনেমা হলে লোক সমাগমের একটি মাত্র পন্হা ছিল যৌনতা। আর সেক্ষেত্রে মুনমুন, ময়ুরী, পলি, নাসরিনরা ছিলেন একমাত্র ভরসা। কিন্তু মুনমুনের বক্তব্য পড়ে হাসা ছাড়া আর কিছুই করার ছিলনা। তিনি খুব সহজে নিজের খোলস বদলে সাফাই গাইলেন।

আমরা পাঠকদের জন্য তখনকার মুনমুন অভিনিত কয়েকটি সিনেমার গানের দৃশ্য এখানে দিলাম। এবার আপনারই বিচার করবেন ‘অশ্লীলতা’ সাফাই গেয়ে দুর করা যায় নাকি নিজের দোষ স্বিকার করে ‘অশ্লীলতা’ থেকে বেরিয়ে আসা যায়।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *