আগৈলঝাড়ায় একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতি

01 (25)অপূর্ব লাল সরকার, আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি: বরিশালের আগৈলঝাড়ায় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগে প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির কতিপয় সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের ব্যাপক অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির পছন্দের লোকেরা পরীক্ষায় প্রথম না হওয়ায় অন্য পরীক্ষার্থীদের নিয়োগ স্থগিত করা হয়েছে। এনিয়ে এলাকায় দফায় দফায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই স্কুলের চাকুরী প্রার্থীসূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রাজিহার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শরীর চর্চা, কম্পিউটার শিক্ষক ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগের আহ্বাণ করা হয়। সে অনুযায়ী একাধিক প্রার্থী বিভিন্ন পদে আবেদন করেন।

গত ৫ জুন বরিশাল জেলা স্কুলে পরীক্ষা আহ্বাণ করা হয়। কম্পিউটার শিক্ষক পদে ও ৪র্থ শ্রেণী কর্মচারী পদে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও শরীর চর্চা শিক্ষক পদে কোন প্রার্থী অংশগ্রহণ করেনি। কারণ হিসেবে শরীর চর্চা পদের প্রার্থী নৃপেন মধু অভিযোগ করে জানান, স্কুলের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়ার পূর্বেই প্রধান শিক্ষক উজ্জ্বল কুমার মন্ডল বিজ্ঞাপন খরচের জন্য ২৫৫০ টাকা তার কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে নিয়ে নেন। তার কথা অনুযায়ী ওই পদে ৪টি দরখাস্ত জমা দেয়া হয়। ওই দরখাস্ত জমা দেয়ার পর প্রধান শিক্ষক উজ্জ্বল কুমার মন্ডল ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মাসুম হাওলাদার তার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন।

তিনি ওই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সর্বশেষ তার কাছে ৩৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরীক্ষার আগেই টাকা দিতে বললেও তিনি তা দিতে না পারায় পরীক্ষার আগের দিন তাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে নিষেধ করেন প্রধান শিক্ষক। তাই ওই পরীক্ষায় শরীর চর্চা শিক্ষক পদে কোন প্রার্থী অংশগ্রহণ করেনি। এদিকে প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির পছন্দের লোকেরা অন্য দু’টি পদে পরীক্ষায় প্রথম না হওয়ায় ওই পদের অন্য প্রার্থীরা প্রথম হলেও অজ্ঞাতকারণে তাদের নিয়োগ স্থগিত করা হয়েছে বলে বিদ্যালয়সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে ৪র্থ শ্রেণী পদের প্রথম হওয়া প্রার্থীর লোকজন সম্প্রতি স্কুলে গিয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে পরীক্ষার ফলাফল জানতে চাইলে তিনি তা বলতে তালবাহানা করে স্থানীয়ভাবে সভা আহ্বাণ করার কথা জানান। সে অনুযায়ী গত ২৬ জুন সভা আহ্বাণের নির্ধারিত দিনে অনিবার্য কারণ দেখিয়ে কৌশলে ওই সভা স্থগিত করেন। এতে স্থানীয়রা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলে শুক্রবার স্থানীয় আ. রব হাওলাদার প্রধান শিক্ষককে ফোনে স্কুলে ডেকে আনেন। এসময় এলাকাবাসীর কাছে প্রধান শিক্ষক উজ্জ্বল মন্ডল বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্নীতির কথা স্বীকার করেন।

এ ঘটনায় ৪র্থশ্রেণী পদে প্রথম হওয়া প্রার্থী সোবহান হাওলাদারের অভিভাবক সালাম হাওলাদার দূর্নীতিপরায়ন বর্তমান কমিটির অধীনে কোন নিয়োগ না দেয়ার দাবি জানান। এব্যাপারে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক উজ্জ্বল মন্ডল সাংবাদিকদের কাছে বিজ্ঞাপন প্রকাশের জন্য প্রার্থীর কাছ থেকে টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ওই পদে সচরাচর প্রার্থী পাওয়া যায়না। তাই তার কাছ থেকে টাকা নিয়ে তাকে আটকাতে চেয়েছিলাম। প্রার্থীর কাছ থেকে ঘুষ চাওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, সেটা অভিভাবক সদস্য মাসুম হাওলাদার চেয়েছিল। অন্যান্য অভিযোগের ব্যাপারে তিনি ভুল স্বীকার করলেও কোন সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *