জগন্নাথপুরে বিশিষ্টজনের নামে ফেসবুকে মিথ্যা অপপ্রচার

0 (26)প্রথম সকাল ডটকম (জগন্নাথপুর): জগন্নাথপুরে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের নামে সোস্যাল মিডিয়ার জনপ্রিয় যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে চলছে মিথ্যা অপপ্রচার ও ঘৃন্য অপতৎপরতা। ফলে সামজিক যোগাযোগের এই মাধ্যমটি নিয়ে জগন্নাথপুরবাসীর মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হচ্ছে। সাম্প্রতিককালে একটি মহল জগন্নাথপুরের জনপ্রতিনিধি রাজনীতিবীদ, সাংবাদিক, শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের নামে ফেসবুকে ভূয়া আইডি খুলে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করছে।

যা নিয়ে তৈরী হচ্ছে সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও মামলা মোকদ্দমা। যোগাযোগের ইতিহাস বদলে দেয়ার শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে সারা দুনিয়ায় যখন ফেসবুক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ঠিক তখনি জগন্নাথপুরে ফেসবুকে যুক্ত হচ্ছে ঘৃণ্যরুচির কিছু নরপিশাচ। তারা নিজেদের কথা চিন্তা না করে মিথ্যাচারের মাধ্যমে জগন্নাথপুরের বিশিষ্টজনদের নামে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ তালিকায় ইতিমধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন আওয়ামীলীগ বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের একাধিক নেতা। উপজেলা পরিষদ, পৌর পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, শিক্ষকসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিকৃত রুচির কিছু মানুষ   নামের নরপিশাচরা প্রতিনিয়ত ভালো মানুষরে চরত্রি হরণ করছে। বখাটের যেন এ নেশায় মত্ত হয়ে উঠেছে। প্রবাসী আত্বীয় স্বজনদের দয়া ও দানের পাওনা টাকা ও দামি মুঠোফোন ব্যবহার করে কোন কাজ না করে বেকার ঘুরাফেরা ও বখাটেপনা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের কাছে আক্রান্ত হচ্ছে স্কুল কলেজ পড়ুয়া মেয়েরা। ভূয়া নাম ব্যবহার করে ফেসবুক আইডি খুলে একের পর এক মিথ্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে। লোকলজ্জার ভয়ে মেয়েরা মুখ না খুললেও প্রতিনিয়ত স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া মেয়েরা আক্রান্ত হচ্ছে বলে খবর মিলছে।

ইতিমধ্যে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আকমল হোসেন,ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তাদীর আহমদ মুক্তা,পৌরসভার মেয়র আক্তার হোসেন, প্যানেল মেয়র আবাব মিয়া, পৌর বিএনপি নেতা এডঃ জিয়াউর রহিম শাহীন.যুবলীগ নেতা শিক্ষক সাইফুল ইসলাম রিপন, উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মজিবুর রহমান মুজিব, ছাত্রলীগ নেতা সাফরোজ ইসলামসহ জগন্নাথপুরের বিশিষ্টজনদের নামে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হয়েছে। তন্মেধ্যে পৌর বিএনপি নেতা জিয়াউর রহিম শাহীন কে সন্ত্রাসী ও হেরোইনের গডফাদার হিসেবে আখ্যায়িত করে তাকে ধরিয়ে দেয়ার ঘোষনা দেয়া হয়।  ফেসবুকে অপপ্রচারের তালিকায় রয়েছেন জগন্নাথপুরের দুই  সাংবাদিক অমিত দেব ও আলী আহমদ।

বিকৃত রুচির মানসিকতায় গড়া এসব বখাটেরা ফেসবুকে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া প্রয়াত জাতীয় নেতা আব্দুস সামাদ আজাদ, আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় নেতা অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান ও জেলার প্রবীণ রাজনীতিবীদ সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ সহ-সভাপতি  সিদ্দিক আহমদের নামেও ঘৃন্য কমেন্ট করে ফেসবুকে অপপ্রচার করছে। ফেসবুকে অপপ্রচারের মাত্রাবৃদ্ধি পাওয়ায় বৃহস্পতিবার উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে অবিলম্বে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে এদেরকে আইনের আওতায় আনার জোর দাবী জানানো হয়। ইতিমধ্যে জগন্নাথপুর থানায় তথ্য  ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে ইতিমধ্যে দুটি মামলা হয়েছে।

জগন্নাথপুরের ইকড়ছই সিনিয়র মাদ্রাসার শিক্ষক উপজেলা যুবলীগ নেতা  সাইফুল ইসলাম রিপন জানান, বেশ কিছুদিন ধরে তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে ফেসবুকে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। ভূয়া আইডির মাধ্যমে এসব করা হলেও এসব করছে তার রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিপক্ষ বলে তিনি মনে করেন। তাঁর মতে জন্মপরিচয়হীন বখাটেরা যৌক্তিক সমালোচনা না করে মিথ্যা অপপ্রচার করছে। এদেরকে আইনের আওতায় আনার জোর দাবী জানান তিনি। জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আকমল হোসেন বলেন, কিছু সংখ্যক বখাটে কুরুচিপূর্ণ মানুষের কারণে সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় মাধ্যমটি ক্ষতিগ্রস্থ করা হচ্ছে।

যারা এসব করছেন তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে। এসব কারণে তিনি তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে রেখেছেন বলে জানান। ফেসবুকে মিথ্যা অপপ্রচার প্রসঙ্গে জগন্নাথপুরের বাসিন্দা সিলেট জজ কোর্ট থেকে সদ্য সুনামগঞ্জবারে যোগদানকারী আইনজীবি এডঃ জুয়েল মিয়া বলেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতার নামে কারো সন্মানহানি করা হলে তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় আসতে হবে।  তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা অভিযোগ একটি জামিনঅযোগ্য অপরাধ। এই ধারায় সর্বোচ্চ ১৪ বছর থেকে সর্বনিম্ন ৭ বছরের কারাদন্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, আইনটি সর্ম্পকে মানুষের ব্যাপক সচেনতনা সৃষ্টি না হওয়ায় অনেকেই না বুঝে এ অপরাধে অভিযুক্ত হন। এটি একটি কঠোর শাস্তিযোগ্য আইন। এছাড়াও আরো কঠোর আইন করার প্রস্তুতি চলছে। জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আসাদুজ্জামান জানান, জগন্নাথপুরের বিশিষ্টজনদের নিয়ে ফেসবুকে মিথ্যা প্রচারনার বিরুদ্ধে পুলিশ কাজ করছে। ইতিমধ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে দুটি মামলা হয়েছে।  ভূয়া আইডি সনাক্ত করতে আমরা কাজ শুরু করেছি।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *