সিলেটের শাহী ঈদগাহ : বাংলাদেশের প্রাচীনতম ঐতিহাসিক স্থাপনা

প্রথম সকাল ডটকম: সিলেট শহরের উত্তর সীমানায় শাহী ঈদগাহ বা ঈদগাহ মাঠের অবস্থান। বাংলাদেশের প্রাচীনতম ঐতিহাসিক স্থাপনা সমুহের মধ্যে ১৭০০ সালের প্রথম দিকে নির্মিত সিলেটের শাহী ঈদগাহকে গণ্য করা হয়। দেশের প্রাচীনতম ঈদগাহ এটি। মনোমুগ্ধকর কারুকার্যময় এই ঈদগাহটি মোগল ফৌজদার ফরহাদ খাঁ নির্মাণ করেন। শাহী ঈদগাহটি নানা কারণে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয়। ইতিহাস থেকে জানা যায়, এখানেই হাদা মিয়া ও মাদা মিয়া ভ্রাতৃদ্বয়ের নেতৃত্বে ইংরেজ বিরোধী অভ্যুত্থান হয়েছে। সপ্তদশ শতকে ঢাকা মোগল সম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়। সম্রাট আলমগীর (যিনি আওরঙ্গজেব নামে সমধিক পরিচিত ছিলেন)। তখন তিনি ছিলেন দিল্লীর সম্রাট। অন্য মোগল বাদশাহদের মত তিনি বড় বড় স্থাপন বানিয়ে রাজকোষের অর্থ খরচ করতেন না। তার সময়ে নির্মিত অল্প কয়েকটি মাত্র বড় স্থাপনার খোঁজ পাওয়া যায়। এর মাঝে লাহোরের বাদশাহী মসজিদ, দিল্লীর লাল কেল্লার মসজিদ আর সিলেটের শাহী ঈদগাহ। এই ঈদগায় এসছেন ভারতের অহিংস আন্দোলনের নেতা মহাত্মা গান্ধী, কায়দে আযম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, মাওলানা মোহাম্মদ আলী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং শেরে বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হক। অতীতে সিলেটের বড় বড় সমাবেশের স্থানও ছিল এটি। আর প্রতি বছর ঈদ জামায়াতে লোক সমাগমের বিষয়টি তো বলাই বাহুল্য। এখানে এক সাথে প্রায় দেড় লাখ মুসল্লী ঈদের জামাত আদায় করতে পারেন। ঈদগাহর প্রাকৃতিক দৃশ্য খুবই মনোরম। নগরীর শাহী ঈদগাহ এলাকায় এর অবস্থান। এই ঈদগাহটির নামে ঐ এলাকার নামকরণ হয়েছে। ঈদগাহের উত্তরে শাহী ঈদগাহ মসজিদ, পাশে সুউচ্চ টিলার ওপর বন কর্মকর্তার বাংলো, দক্ষিণে বাংলাদেশ টেলিভিশনের সিলেট কেন্দ্র, পূর্ব দিকে হযরত শাহজালাল (র.) এর অন্যতম সফরসঙ্গী শাহ মিরারজী (র.) এর মাজারের পাশের টিলার ওপর রয়েছে সিলেট আবহাওয়া অফিস। ঈদগাহের পুর্ব সীমানায় যে পুকুরখানা রয়েছে সেটা আগে আরো বড় ছিল, মুসল্লীদের নামাজের সুবিধার্থে সেটা এক তৃতীয়াংশে ছোট করে ফেলা হয়েছে। অনুপম কারুকার্যখচিত এই ঈদগাহের মূল ভূ-খণ্ডটি ২২টি সিঁড়ি মাড়িয়ে উপরে উঠতে হয়। এরপরই ১৫টি গম্বুজ সজ্জিত ঈদগাহ। সীমানা প্রাচীরের চারদিকে রয়েছে ছোট বড় ১০টি গেইট। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, এই ময়দান থেকে ১৭৮২ খৃস্টাব্দের মহররম মাসে দুই ধর্মীয় নেতা সৈয়দ মোহাম্মদ হাদী ও তাঁর ভাই মাহাদী তাদের অনুসারীসহ বৃটিশদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন। মহররমের মিছিল করে তারা এই ময়দানে আসেন এবং পরিকল্পনা করা ছিল হঠাৎ করে বৃটিশদের উপর আক্রমন করবেন। কিন্তু তৎকালীন সিলেটের কালেক্টর রবার্ট লিন্ডসে গুপ্তচরের মাধ্যমে আগের দিনই বিষয়টি জেনে ফেলেন। লিন্ডসে ঐ দিন তার বাহিনীসহ এই ময়দানে এসে তাদেরকে আত্মসমর্পণ করতে বলেন। কিন্তু দুই ভাই ও তাদের অনুসারীগণ অস্বীকার করেন। ফলে লিন্ডসের গুলিতে মোহাম্মদ হাদী শহীদ হন এবং মাহাদীও যুদ্ধ করে মৃত্যুবরণ করেন। সিলেট শহরের কেন্দ্রবিন্দু হতে প্রায় দুই কিঃমিঃ দুরত্ব শাহী ঈদগাহ। ওসমানী আন্তরজাতীক বিমান বন্দর হতে ৭ কিঃমিঃ এবং সিলেট রেল ওয়ে থেকে ৫ কিঃমিঃ দুরত্বে শাহী ঈদগাহ’র অবস্থান।

This website uses cookies.