শামসুল আরেফীন : লোকগবেষণার নিভৃত সাধক

7আবু ইউসুফ: ২০ নভেম্বর ১৯৭৭সালে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার সদর এলাকায় শামসুল আরেফীনের জন্ম।পিতা আবদুল মোবিন ও মাতা তমনারা বেগম। ৯০ দশকের প্রথমে ছড়া-কবিতা দিয়ে লেখালেখি শুরু। শূন্য দশকের সূচনালগ্ন পর্যন্ত চট্টগ্রামের আঞ্চলিক দৈনিক, সাহিত্যপত্রিকা, বিভিন্ন শিশুতোষ পত্রিকা ও ছড়াসংকলনে অনেক  ছড়া ও কিশোর  কবিতা লিখেন।৯০ দশকের প্রায় মাঝামাঝি লোকগবেষণায় সম্পৃক্ত হন। লোকগবেষণায় সম্পৃক্ত হয়ে তৎপর হন বিলুপ্ত ও বিস্মৃতপ্রায় লোককবি ও তাদের রচনা উদ্ধারে।আজ অব্দি চট্টগ্রামের আঞ্চলিক দৈনিক, জাতীয় দৈনিক, বিভিন্ন লিটল ম্যাগ, সাহিত্যপত্রিকা ও নিজের গ্রন্থের মাধ্যমে চট্টগ্রাম তথা বাংলাদেশের প্রায় ৭০ জন বিলুপ্ত, বিস্মৃত ও কম আলোচিত লোককবি সম্পর্কে আলোচনা ও তাদের গান বা রচনা প্রকাশ করেন।

লোক বিষয়ে বা লোককবিদের নিয়ে তাঁর ৮টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বাংলা সাহিত্যের কথাশিল্পী আহমদ ছফাকে নিয়েও লেখালেখি করেন এবং গ্রন্থ প্রকাশ করেন। কবিতা নিয়েও প্রকাশিত হয় তাঁর গ্রন্থ। ২০০৯ সালের ১১ ডিসেম্বর শামসুল আরেফীনের গ্রন্থ বা লেখালেখি নিয়ে বাংলাদেশ টেলিভিশন থেকে প্রচারিত হয় ‘শিল্পরূপ’ নামে একটি অনুষ্ঠান। শামসুল আরেফীন বর্তমানে Encyclopedia of Bangladesh War of Liberation Project, Asiatic Society of Bangladesh নিযুক্ত মুক্তিযুদ্ধের তথ্যসংগ্রাহক ও গবেষক। শামসুল আরেফীনের গ্রন্থতালিকা: আজ অব্দি তিনি ১০টি গ্রন্থ প্রকাশ করেন। ১.আহমদ ছফার অন্দরমহল, বলাকা প্রকাশন-চট্টগ্রাম, ফেব্রুয়ারি ২০০৪, পৃষ্ঠাসংখ্যা ১৪৪। আহমদ ছফা বাংলাদেশের অনন্যসাধারণ কথাসাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী ও সমাজবিজ্ঞানী। চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দক্ষিণ গাছবাড়িয়া গ্রামে ১৯৪৩ সালের ৩০ জুন জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০০১ সালের ২৮ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন।

আহমদ ছফার মৃত্যুর পরে আরেফীন দৈনিক পূর্বকোণে তাঁকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ‘ভূমিজ ভৃগু আহমদ  ছফার অন্দরমহল’ শিরোনামে ধারাবাহিক লেখা লিখেন। ২০০৪ সালে এই লেখা ও আহমদ ছফার ৫২টি পত্র নিয়ে ‘আহমদ ছফার অন্দরমহল’ গ্রন্থ প্রকাশ করেন। মুখবন্ধ লিখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের  অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। আনিসুজ্জামান লিখেন: “আহমদ ছফার অন্দরমহল’ বইতে শামসুল আরেফীন প্রাথমিক উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তার জীবনকাহিনী পুননির্মাণ করার চেষ্টা করেছেন এবং আহমদ ছফার পত্রগুচ্ছ সংকলন করে তার মানসপ্রকৃতি  উদ্ঘাটনের প্রয়াস পেয়েছেন। এ-ধরনের উদযোগ অল্প সময়ে সম্পূর্ণ হওয়ার নয়, তবু তার মূল্য আছে”। গ্রন্থটি আহমদ ছফার প্রথম জীবনী ও পত্রসংকলন। ২. আস্কর আলী পণ্ডিত: একটি বিলুপ্ত অধ্যায়, বলাকা প্রকাশন-চট্টগ্রাম, ফেব্রুয়ারি ২০০৬, পৃষ্ঠাসংখ্যা ১১২। আস্কর আলী পণ্ডিত চট্টগ্রামের একজন শক্তিমান লোককবি। ১৮৪৬ সালে সাতকানিয়া উপজেলার পুরানগড় এলাকায় জন্মগ্রহণ করে পরবর্তীতে পটিয়া উপজেলার শোভনদণ্ডি গ্রামে স্থায়ী বসতি স্থাপন করেন।

১৯২৭ সালের ১১ মার্চ মৃত্যুবরণ করেন। ডালেতে লড়িচড়ি বৈও চাতকি ময়নারে,কী জ্বালা দি গেলা মোরে, এক সের পাবি দেড় সের নিবি ঘরত নিবি কী, কী লইয়া যাইয়ুম ঘরে সন্ধ্যাকালে আইলাম বাজারে প্রভৃতি তাঁর রচিত কালজয়ী গান।তিনি অজস্র গানসহ একাধিক পুঁথিও রচনা করেন।শামসুল আরেফীন এই বিলুপ্ত  লোককবি সম্পর্কে আলোচনা ও তাঁর প্রায় ৩০০ গান-কবিতা নিয়ে প্রকাশ করেন ‘আস্কর আলী পণ্ডিত: একটি বিলুপ্ত অধ্যায়’। আলোচনাটি দৈনিক পূর্বকোণে ধারাবাহিক আকারে প্রকাশিত হয়। কথাসাহিত্যে বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার প্রাপ্ত কথাশিল্পী জাকির তালুকদার ২০০৬ সালের ১১আগস্ট দৈনিক ভোরের কাগজ পত্রিকায়  ‘আস্কর আলী পণ্ডিতের ভাবের জগত’ শিরোনামে গ্রন্থটির একটি গবেষণামূলক প্রবন্ধ  লিখেন।তিনি প্রবন্ধটিতে লিখেন:” বাংলাদেশের অনেক বাউল ও লোককবির মতো আস্কর আলী পণ্ডিতেরও লোকবিস্মৃতির আশংকা দেখা দিয়েছিল।

এ বিষয়ে জীবৎকালে নিজের উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন ক্রমশ বাংলাদেশের বিবেক হয়ে ওঠা আহমদ ছফা। তিনি চট্টগ্রামের বিভিন্ন সংগঠন, লেখক ও গুণীজনদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছিলেন আস্কর আলী পণ্ডিতের রচনা ও সঙ্গীতের আবাদ জারি রাখার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করতে। কিন্তু তাঁর আবেদনে প্রতিষ্ঠিত কেউ এগিয়ে আসেননি।এগিয়ে এসেছেন তরুণ কবি ও স্বউদ্যোগী-স্বনিয়োজিত গবেষক শামসুল আরেফীন। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার ফসল হিসেবে তিনি সংগ্রহ করতে পেরেছেন আস্কর আলী পণ্ডিতের আংশিক জীবনী এবং ২৫৪টি গান। আস্কর আলী পণ্ডিতের জীবদ্দশায় প্রকাশিত কোনো গীতিগ্রন্থই অখণ্ড অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পঞ্চসতী প্যারজান, জ্ঞানচৌতিসা, বর্গসাস্ত্র, হাফেজ বাহাদুর, নন্দবিলাস প্রভৃতি গ্রন্থের বিভিন্ন ছিন্ন অংশ এবং স্থানীয় মানুষের স্মৃতি থেকে সংগৃহীত গানগুলোর সঙ্গে আস্কর আলী পণ্ডিতের সংক্ষিপ্ত জীবনকাল নিয়ে শামসুল আরেফীন প্রকাশ করেছেন ‘আস্কর আলী পণ্ডিত: একটি বিলুপ্ত অধ্যায়’ গ্রন্থটি।

চট্টগ্রাম বলাকা প্রকাশন থেকে প্রকাশিত ১১২ পৃষ্ঠার এই গ্রন্থটিই এক বিস্মৃতপ্রায় লোককবিকে বিস্মৃতির অতল থেকে ফিরিয়ে আনার এখনো পর্যন্ত একমাত্র উদ্যোগ-স্মারক”। গ্রন্থটির মাধ্যমে জানা যায়, শামসুল আরেফীনের তথ্যসহায়তা নিয়ে আস্কর আলী পণ্ডিত সম্পর্কে ২০০৪ সালের ৩০ এপ্রিল ‘মাটির গান’ নামে একটি অনুষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিভিশন থেকে সম্প্রচারিত হয়। তাতে শামসুল আরেফীন আলোচক ছিলেন। ৩.বাঙলাদেশের লোককবি ও লোকসাহিত্য ১ম খণ্ড, বলাকা প্রকাশন-চট্টগ্রাম, ফেব্রুয়ারি ২০০৭, পৃষ্ঠাসংখ্যা ১২৮। এ গ্রন্থে ৯জন লোককবি সম্পর্কে আলোচনা ও তাদের রচনা অন্তর্ভুক্ত। এখানে মোয়াজ্জম রচিত ‘ভেলুয়া’ পুঁথি লিপিবদ্ধ করা হয়। দৈনিক আজকের কাগজ পত্রিকায় মাহমুদ শাওন এ-গ্রন্থের আলোচনা লিখেন। ৪.বাঙলাদেশের লোককবি ও লোকসাহিত্য ২য়-৪র্থ খণ্ড, বলাকা প্রকাশন-চট্টগ্রাম, জানুয়ারি ২০০৮, পৃষ্ঠাসংখ্যা ২৪০। এ গ্রন্থে ১৭জন লোককবি সম্পর্কে আলোচনা ও তাদের রচনা স্থান পেয়েছে।

০৫ ডিসেম্বর ২০০৮, দৈনিক প্রথম আলোতে তারেক রেজা ‘উৎসের দিকে ফেরা’ শিরোনামে গ্রন্থটি নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি লিখেন: “গ্রামজীবনের নানা অনুষঙ্গে সমৃদ্ধ লোককবিদের সাহিত্যভাণ্ডার। শামসুল আরেফীনের বাঙলাদেশের লোককবি ও লোকসাহিত্য ২য়-৪র্থ খণ্ড বইটি লোকসাহিত্যের বিচিত্র বিষয় প্রকরণের সঙ্গে আমাদের নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেয়। লেখক লোককবিদের জীবনদর্শন ও শিল্পভাবনা সম্পর্কেও বেশ তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছেন,যা তাঁদের কবিতা অনুধাবনে সাহায্য করবে।এ গ্রন্থে ১৭জন লোককবি ও তাঁদের রচনা সংকলিত হয়েছে। গ্রন্থভুক্ত কবিদের অধিকাংশই চট্টগ্রামের এছাড়া বরিশাল, পপটুয়াখালী, ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া ও নোয়াখালী অঞ্চলের কবিরাও অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। সংকলিত রচনাগুলোর মধ্যে রয়েছে জারিগান, বারমাসি, উপদেশ গীত,পুঁথি ,পালাগান, আধ্যাত্মিক বিষয় অবলম্বনে সাধকতত্ত্ব। জীবন সম্পর্কে গভীরতর উপলব্ধিকেই ছন্দবদ্ধ করেছেন লোককবিরা।

সেই সঙ্গে আধ্যাত্মিক চেতনাকে সম্পৃক্ত করেছেন তাঁরা। বিলুপ্ত লোককবি আবদুল্লাহ বাঞ্জারামপুরীর দুটি চরণ মানুষের ভিতরে মানুষ তার ভিতরে আছে সাঁই/যে চিনিল সে কিনিল মাইজভাণ্ডার খেলে কানাই। ৫.আস্কর আলী পণ্ডিতের দুর্লভ পুথি জ্ঞানচৌতিসা ও পঞ্চসতী প্যারজান (সংগ্রহ ও সম্পাদনা), বলাকা প্রকাশন-চট্টগ্রাম, ফেব্রুয়ারি ২০১০, পৃষ্ঠাসংখ্যা ২৮০। এ গ্রন্থে আস্কর আলী পণ্ডিতের জ্ঞানচৌতিসা ও পঞ্চসতী প্যারজান পুঁথিদ্বয় আলোচনা সহকারে সম্পাদিত। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের তুখোড় পণ্ডিত যতীন সরকার গ্রন্থটি পাঠ করে ‘আশীর্বাদ’ শিরোনামে একটি আলোচনা করেন।২৯ জুলাই ২০১১ ও ২২ জুন ২০১২,আলোচনাটি দৈনিক পূর্বকোণে প্রকাশিত হয়। যতীন সরকার তাতে লিখেন: “জ্ঞানচৌতিসা নামে সৈয়দ সুলতান প্রমুখ কবিবৃন্দ… যে-সব কাব্য রচনা করেছিলেন, তারই ধারাবাহিকতায় এ-যুগেও আস্কর আলী পণ্ডিতের (১৮৪৬-১৯২৭) জ্ঞানচৌতিসা রচিত।১৯৫১ সালে এই জ্ঞানচৌতিসা প্রথম মুদ্রিতরূপে প্রকাশিত হয়। এতে বোঝা যায়: বিশ শতকের গ্রামীণ পাঠকদের কাছেও এর সমাদর রয়ে গেছে, এবং এই গ্রামীণ পাঠকরাই বাংলা কাব্যের মূলধারাটিকে আজও রক্ষা করে চলেছেন। শামসুল আরেফীন ১৯৫১ সালে মুদ্রিত জ্ঞানচৌতিসা সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে প্রকাশ করেছেন ২০১০সালের ফেব্রুয়ারিতে।

এর মধ্য দিয়ে একটি অসাধারণ সারস্বত দায়িত্ব পালন করে তিনি আমাদের ধন্যবাদার্হ হয়েছেন। যতীন সরকার আরও লিখেন: “শামসুল আরেফীনের সম্পাদিত ও সংগৃহীত জ্ঞানচৌতিসা ও পঞ্চসতী প্যারজান হাতে পেয়ে আমি উল্লসিত হয়ে উঠেছিলাম। কারণ এই দুটো পুথি পাঠ করে আমার মনে হয়েছিল যে আরেফীনের সংগৃহীত পুথি দুটোতেও মূলধারার কবিতারই সন্ধান পাওয়া গেল।… বয়সে জ্যেষ্ঠ হওয়ার সুবাদেই কনিষ্ঠ শামসুল আরেফীনকে আমি প্রাণভরে আশীর্বাদ জানাই। তাঁর অনুসন্ধিৎসা তাঁকে সিদ্ধির দিগন্তে পৌঁছে দিক, আস্কর আলী পণ্ডিতের মতো আরও আরও বিস্মৃত-প্রায় কবির পরিচয় উদ্ঘাটন করে তিনি বাংলা সাহিত্যে গবেষণার জাড্য দূর করতে যত্নবান হোনএই আমার কামনা”। ৬.বাংলাদেশের বিস্মৃতপ্রায় লোকসঙ্গীত ১ম খণ্ড(সংগ্রহ ও সম্পাদনা), ফেব্রুয়ারি ২০১২,বলাকা প্রকাশন-চট্টগ্রাম, পৃষ্ঠাসংখ্যা ৪৩২।এ গ্রন্থে ২২ জন লোককবির ১৬০০গান, শহিদে এমাম নামে ১টি জারি গান, জাহাঁগীর চরিত নামে ১টি জীবনীকাব্য, মেঘনা নদী ভাঙ্গনে হাতিয়া দ্বীপের করুণ কাহিনী নামে ১টি লোককবিতা অন্তর্ভুক্ত।

এ গ্রন্থ নিয়ে কবি ও প্রাবন্ধিক জয়নাল আবেদীন শিবু ‘বাংলা সাহিত্য সমৃদ্ধকরণে শামসুল আরেফীনের সংগ্রহ ও সম্পাদনার এক ঋদ্ধভাণ্ডার বাংলাদেশের বিস্মৃতপ্রায় লোকসঙ্গীত’ শিরোনামে একটি আলোচনা ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করেন দৈনিক পূর্বকোণে। গ্রন্থটিতে আরেফীনের লেখা ভূমিকা ‘লোককবি ও লোকসঙ্গীত’ শিরোনামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক সৈয়দ আকরম হোসেন সম্পাদিত ‘উলুখাগড়া’-ফেব্রুয়ারি ২০১২ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। তারও আগে ভূমিকাটি রাজশাহীতে ‘লোকসঙ্গীতের স্বরূপ সন্ধানে’ শিরোনামে মোজাফ্ফর হোসেন সম্পাদিত ‘শাশ্বতিকী’-একুশে বইমেলা ২০১১ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। ৭.বাঁশরিয়া বাজাও বাঁশি(পল্লীগানের গ্রন্থ), ২০১২ সালে ‘বাংলাদেশের বিস্মৃতপ্রায় লোকসঙ্গীত ১ম খণ্ড’ গ্রন্থভুক্তির মাধ্যমে প্রকাশিত। এ গ্রন্থে আরেফীন রচিত কিছু গান লিপিবদ্ধ।উল্লেখ্য, আরেফীন বাংলাদেশ বেতারের অনুমোদিত গীতিকার। তিনি আধুনিক ও পল্লীগান রচনা করেন। স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের শব্দসৈনিক প্রবাল চৌধুরী ও মৃণাল কান্তি ভট্টাচার্য, এছাড়া সাইফুদ্দিন মাহমুদ খান, আবদুর রহিম, পাপিয়া আহমেদ, জালাল আহমেদ প্রমুখ তাঁর গানে সুরারোপ করেছেন।

তাঁর গান গেয়েছেন প্রতীমা ঘোষ দস্তিদার, সুপর্ণা রায়, আসমা পারভিন, এস এম জাহাঙ্গীর সরকার, অনামিকা তালুকদার,রাজিব ভট্টাচার্য, সুতপা চৌধুরী মুমু প্রমুখ। ৮.আস্কর আলী পণ্ডিত: ৮৬বছর পর(সংগ্রহ ও সম্পাদনা), বলাকা প্রকাশন-চট্টগ্রাম, ফেব্রুয়ারি ২০১৩, পৃষ্ঠাসংখ্যা ১৬০।এ গ্রন্থে আস্কর আলী পণ্ডিতকে নিয়ে লেখা বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের লেখকদের প্রবন্ধ, আস্কর আলী পণ্ডিতের রচনা, তাঁকে নিয়ে পত্রিকায় চলা তর্ক-বিতর্ক, তাঁর সম্পর্কিত চিঠিপত্র অন্তর্ভুক্ত হয়। ৯.গাঙ্গেয় বদ্বীপের অনন্য সঙ্গীতজ্ঞ: স্বপন কুমার দাশ(সম্পাদনা), সরগম একাডেমী, আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম, ২৭ ডিসেম্বর ২০১৩, পৃষ্ঠাসংখ্যা ৩২। এ গ্রন্থে স্বপন কুমার দাশকে নিয়ে লেখা ৮ জনের গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ স্থান পায়। ড.মনিরুজ্জামান, ড.মো: আবুল কাসেম, ড.এম আর মাহবুবু, কল্যাণী ঘোষ প্রমুখ প্রবন্ধ লিখেছেন। ১০.রুবাইয়াত-ই-আরেফীন(কাব্য), বলাকা প্রকাশন-চট্টগ্রাম, ফেব্রুয়ারি ২০১৪, পৃষ্ঠাসংখ্যা ৬৪। কাব্যে ২৫৯টি রুবাই অন্তর্ভুক্ত। শাহিদ হাসান কাব্যটি নিয়ে  ‘শামসুল আরেফীনের রুবাই: উত্তর ঔপনিবেশিক চেতনায় বহমান’ শিরোনামে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন।

বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার প্রাপ্ত প্রভাংশু ত্রিপুরা বলেন: “খৈয়াম এবং হাফিজের ঘরানাকে অস্বীকার করে বাংলার লোক ঐতিহ্য ও মিথ প্রভৃতি ব্যবহার করে শামসুল আরেফীন রুবাই রচনা করেছেন। এভাবে যে রুবাই রচনা করা যায়, তা আরেফীন প্রথম দেখালেন।গ্রন্থভুক্ত প্রতিটি রুবাইয়ে ছন্দ, অন্ত্যমিলও একেবারে নির্ভুল। রুবাইগুলোতে জীবন ও জগতের অজস্র দিক উন্মোচিত হওয়ায় মহাকাব্যের স্বাদও পাওয়া যায়। বস্তুত ‘রুবাইয়াত-ই-আরেফীন’ বাংলা সাহিত্যে নতুন সংযোজন। তা বাংলা সাহিত্য-পরিমণ্ডলে নবদিগন্তের সূচনা করেছে”। পুরস্কার: ১. আস্কর আলী পণ্ডিত পদক-২০১১। ২. শুভেচ্ছা স্মারক : দরিয়ানগর কবিতামেলা-২০১২। ৩. চট্টগ্রাম নবকুঁড়ি পদক-২০১৫।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *