বগুড়ার শাজাহানপুরে নিয়ম বহির্ভুতভাবে নির্মান হচ্ছে ব্রীজ

8আব্দুল লতিফ (বগুড়া): ত্রান ও পুনর্বাসন অধিদপ্তরের অর্থায়নে বগুড়ার শাজাহানপুরে নাম মাত্র একটি ব্রীজ নির্মান করে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। শুধু তাই নয়, নির্মানাধীন ব্রীজটিতে মানা হচ্ছেনা প্রকৌশলী কোন বিধি। জানা গেছে, গ্রামীন অবকাঠামো সংস্কার ও উন্নয়নের লক্ষ্যে ত্রান ও পুনর্বাসন অধিদপ্তরের অর্থায়নের আওতায় উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের বার আঞ্জুল পলিপাড়া এলাকায় প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা ব্যায়ে নির্মান করা হচ্ছে ২০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৬ ফুট প্রস্থের একটি ব্রীজ।

সরকারী প্রকৌশলী নিয়ম অনুযায়ী ব্রীজটিতে প্রতি ৬ ইঞ্চি পর পর রড দেয়ার বিধান থাকলেও দেয়া হচ্ছে ১ ফুট ২ ইঞ্চি পরপর এবং বিপরীত দিক থেকে ৭ থেকে ৮ ইঞ্চি পরপর। প্রচুর রড ও সিমেন্টের পরিমান কম দেয়ায় ব্রীজটি অত্যাধিক দুর্বল হলেও হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে কয়েক লক্ষ টাকা। এতে করে গুরুত্বপুর্ণ এ রাস্তাটিতে যানবাহন চলাচল শুরু করলে অল্প দিনেই ব্রীজটি ভেঙ্গে পড়তে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করছেন স্থানীয় জনগন। এ কারনে জনমনে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ। উল্লেখ্য রড কম দেয়ার কারনে উপজেলার দোসকুল্লা হরিতলা বাজারের রাস্তার মাত্র ৫/৬ বছর পুর্বে নির্মিত ব্রীজটি ইতিমধ্যেই ভেঙ্গে গেছে। এ্কইভাবে বীরগ্রামের রাস্তার ব্রীজও ভেঙ্গে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। এভাবেই উপজেলার অনেক ব্রীজ অকালে ভেঙ্গে পড়লেও অর্থ হরিলুট করে ব্রীজ নির্মান করা হচ্ছে বারবার।

তথাপি দেখার যেন কেউ নেই। এদিকে কনষ্ট্রাকশন নিয়ম বহির্ভুতভাবে ব্রীজটি নির্মান করা হলেও কর্মকর্তাগণ দেখেও না দেখার ভান করছেন। তাই পরোক্ষ মদদের অভিযোগ তুলেছেন ঐ এলাকার সচেতন নাগরিক। শুধু তাই নয়, দুর্নীতির এ মহা উৎসব দেখে হতবাক হয়ে পড়েছেন স্থানীয় জনতা। তারা বলছেন প্রকল্প কর্মকর্তা বিষয়টি নিজ চোখে দেখেও কোন ব্যাবস্থা নিচ্ছেন না। তবে ব্রীজটিতে এভাবে রডও সিমেন্ট কম দেয়ার কারন জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফরিদুল হক বলেন, গ্রামীন জনপদের ব্রীজে এতটা লোড পড়েনা। তাছাড়া ব্রীজ নির্মানে কোন প্রকার অনিয়ম করা হয়নি এবং সরকারী নিয়ম মেনেই ব্রীজটি নির্মান করা হচ্ছে।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *