নমনীয়তা এক আদর্শের নাম

7 (1)মাওলানা নেছার উদ্দীন আহমাদ: নমনীয়তা একটি আদর্শ ও গুণের নাম। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এর ব্যবহার অপরিহার্য। যাদের মধ্যে এ গুণটি রয়েছে তারা হন সম্মানীত ও শ্রদ্ধার পাত্র। মানুষের মধ্যে নমনীয়তা ব্যতীত অন্যান্য গুণাবলী থাকলেও তা কোন কাজে আসেনা। নমনীয়তা এমন একটি গুণ যা অন্যগুণাবলীকে সফলতার সাথে প্রকাশ করে। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সব শ্রেণি পেশার মানুষের জন্য নম্র, ভদ্র, মার্জিত, রুচিশীল, নমনীয় ব্যবহারের বিকল্প নেই। নমনীয় ব্যবহার না করার কারণে পরিবারের মধ্যে দ্বন্দ্ব, রাজনৈতিক নেতেৃবৃন্দের মধ্যে দ্বন্দ্ব, রাষ্ট্র প্রধানদের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব। এভাবে গোটা বিশ্বব্যাপি আজ অশান্তি ছড়িয়ে পড়ছে। একে অপরের প্রতি বিষোধগার, কটুক্তি, কটুবাক্য, কটু ভাষণ, কড়া কথা, চড়া কথা, খোঁটা, পরচর্চা, বাজে কথা, গালি, অভিশাপ, অশ্লীল কথা, কটাক্ষ, ঠাট্টা, উপহাস, তিরস্কার, ধিক্কার, ধমক, ভর্ৎসনা, গর্জন,তর্জন,অশালীন কথা ও অপবাদের মূল কারণ-শ্রদ্ধাভক্তি না থাকা, অহংকার করা ও নম্রতার অভাব। মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির, গীর্জাসহ সব ধর্মীয় উপসনালয় থেকেই বলা হচ্ছে, সহিংসতা বন্ধ করুন, শান্তি ফিরিয়ে আনুন। কিন্তু কেউ কারো কথা শুনছেনা। মূলত কথা-বার্তায় নমনীয়তা না থাকার কারণেই আজ দেশের বেহাল অবস্থা। অর্থনীতির নাজুক অবস্থা। অথচ এ সম্পর্কে আলাহ বলেন, “মানুষের সঙ্গে ভদ্রচিত আলাপ করো। অন্য শ্রেণির লোকের প্রতি অবজ্ঞাভরে বিদ্রুপ করো না। এছাড়া মুসনাদে আহমদের এক হাদিসে বলা হয়েছে,‘যে বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা এবং ছোটদের প্রতি স্নেহ করেনা, সে আমার উম্মত নয়। নমনীয়তা ও উদারতার দৃষ্টান্ত নবী রাসুলদের জীবন থেকে শিক্ষা নেয়া দরকার। তায়েফের ময়দানে মহানবী (স.)কে নির্যাতনের সময় আল্লাহর নির্দেশে পাহাড় নিয়ন্ত্রণকারী ফেরেশতা বলেছিলেন, হে নবী! আপনি যদি চান, তবে আমি তায়েফবাসিকে মক্কার দুই পাহাড় একত্রিত করে পিষে মারি। কিন্তু মহানবী বলেছিলেন, না। অনুরূপভাবে হযরত ইউসুফ (আ.) তার ভাইদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, “আজ তোমাদের বিরুদ্ধে আমার কোন অভিযোগ ও অনুযোগ নেই। (সূরা ইউসুফ : ৯২)। ক্ষমতা দেখানোর নাম ক্ষমতা নয়। বরং শক্তি আছে ব্যবস্থা নেয়ার কিন্তু শক্তি প্রয়োগ করছিনা। এটার নাম নম্রতা-নমনীয়তা। সুতরাং আমরা রাষ্ট্রের অভিভাবকদের কাছে সেই ধরণের নমনীয়তাই আশাকরি। তাহলেই ফিরে আসতে পারে একটি সুন্দর সমাজ ও রাষ্ট্র। নমনীয়তা শেখার জন্য আমাদেরকে খুশু-খুজু বজায় রেখেই সলাত আদায় করতে হবে। আমরা অনেকেই সলাত আদায় করি অথচ সবার মাঝে এ গুণটি নেই। আলাহর সামনে দাঁড়াতে হলে নমনীয়তার সাথেই দাঁড়াতে হয় সে কথা আমরা ভুলে যাই। যে কারণে নিয়মিত সলাত আদায়ের পরেও চরিত্র পরিবর্তন হয়না। তাই আমরা অহংকার পরিহার করে নমনীয়তা প্রকাশ করবো। এটাই হোক আজকের মূল শিক্ষা। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে তার বিধান জানা ও মানার তাওফিক দিন। আমীন। লেখক: খতীব, ছফেদীয়া জামে মসজিদ, মির্জাগঞ্জ, পটুয়াখালী।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *