সাংবাদিকদের তালিকাভুক্তকরণের পরিকল্পনা

pcপ্রথম সকাল ডটকম (ঢাকা): বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল (বিপিসি) পরীক্ষার মাধ্যমে সাংবাদিকদের তালিকাভুক্তকরণ সনদ দেয়ার একটি প্রথা চালুর পরিকল্পনা করছে। বিপিসির চেয়ারম্যান বিচারপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সাংবাদিকতা পেশায় যোগ্যতা সম্পন্ন লোকদের প্রবেশ নিশ্চিতকরন এবং সাংবাদিকতা পেশার গুনগত মানের পরিবর্তন আনার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বিপিসির তালিকাভুক্তকরণ সনদ অর্জন ছাড়া কেউই সাংবাদিকতা পেশায় যোগ দিতে পারবে না। পরীক্ষার মাধ্যমেই ওই সনদ অর্জন করতে হবে বলেও জানান তিনি। বিচারপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদ জানান, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল যেমন করে আইনজীবি হিসেবে কাজ করার জন্য ল গ্র্যাজুয়েটদেরকে পরীক্ষার মাধ্যমে তালিকাভুক্তকরণ সনদ দিয়ে থাকে ঠিক তেমনি সাংবাদিকদের জন্যও পরীক্ষার মাধ্যমে তালিকাভুক্তকরণ সনদ দেয়ার পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। তিনি আরো বলেন, আইনজীবিসহ অন্যান্য পেশার মতো সাংবাদিকদের জন্যও ‘কল্যাণ’ এবং ‘ত্রাণ’ তহবিল গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর। ‘এ ব্যাপারগুলো নিয়ে আমরা একটি প্রস্তাবের বিষয়ে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। শিগগিরই প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য কাউন্সিলের একটি বৈঠকে পেশ করা হবে। বিচারপতি মমতাজ জানান, গত ৬ আগস্ট বিপিসির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি কুমিল্লা, গোপালগঞ্জ এবং বাগেরহাটসহ ৭টি জেলায় পরিদর্শনে যান। এসময় তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন। তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে আমি বুঝতে পারি যে পেশাগত কাজের জন্য সাংবাদিকদের সনদ দরকার। আর সাংবাদিকতা যেহেতু একটি ঝুঁকিপূর্ণ পেশা সেহেতু তাদের আর্থিক সহায়তার জন্যও কল্যাণ ও ত্রাণ তহবিল গঠন করা দরকার। আর যারা ইতোমধ্যেই এই পেশায় কর্মরত রয়েছেন তাদের কী হবে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জানান, কর্মরত সাংবাদিকদের নিজেদের মিডিয়া হাউজের সুপারিশক্রমে সনদ সরবরাহ করা হবে। বিচারপতি মমতাজ আরো জানান, স্থানীয় সাংবাদিকদের আহবানের প্রেক্ষিতে বিপিসি এই পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘রাজধানী ঢাকা ও ঢাকার বাইরের প্রকৃত সাংবাদিকরা ভুয়া সাংবাদিকদের নিয়ে শঙ্কিত। আর এ কারণেই প্রকৃত সাংবাদিকদের মান রক্ষায় বিপিসি এই পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এছাড়া সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মানহানির মামলার নিষ্পত্তিতে প্রেস কাউন্সিলকে হস্তক্ষেপের ক্ষমতা দেয়ার জন্য পেনাল কোড সংশোধনেও সরকারের কাছে প্রস্তাব দিবে বিপিসি। এসব মামলার বিচারকার্য বর্তমানে সাধারণ আদালতেই পরিচালিত হয়। বিপিসিকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মানহানির মামলার বিচারের দায়িত্ব দেয়া হলে তা খুব দ্রুততার সঙ্গে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে। এতে বাদি ও বিবাদি উভয় পক্ষই অতিরিক্ত হয়রানি থেকে বেঁচে যাবেন বলে জানান তিনি। বিপিসির এই পরিকল্পনার ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, পরীক্ষার মাধ্যমে সনদ প্রদানের এই পদ্ধতি চালু করা হলে খুবই ভালো হবে। এছাড়া শিক্ষানবীশ সাংবাদিকদের জন্য দেশে ও দেশের বাইরে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শও দেন তিনি। বাংলাদেশ ফেডারেল ইউনিয়ন অফ জার্নালিস্ট (বিএফইউজে) এর প্রেসিডেন্ট মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল বলেন, মিডিয়ার ব্যাপারে যে কোনো ধরণের সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার এবং এ পেশায় কর্মরতদের সঙ্গে পরামর্শ করে নিতে হবে। তিনি বলেন, ‘বিপিসি নামক এই সংস্থাটির চেয়ারম্যান ছাড়া আর কোনো সদস্য নেই। সূতরাং পরীক্ষার মাধ্যমে সাংবাদিকদের সনদ সরবরাহের এই প্রস্তাব বিপিসির প্রতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনার যোগ্য নয়। অবশ্য, বিপিসির সভাপতি বিচারপতি মমতাজও পরিকল্পনাটি একান্তই তার ব্যাক্তিগত বলে জানিয়েছেন। জাতীয় প্রেস ক্লাবের প্রেসিডেন্ট কামাল উদ্দিন সবুজ বলেন, মিডিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সাথে পরামর্শ করা ছাড়া সনদ প্রদান পদ্ধতি চালু করা উচিৎ হবে না বিপিসির। প্রেস কাউন্সিল একাই এ ধরণের সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। তিনি বলেন, এ ধরণের একটি পদ্ধতি চালু করার আগে মিডিয়া ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডার, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ এবং সাংবাদিকতা পেশায় কর্মরতদের সঙ্গে ব্যাপক আলাপ-আলোচনা ও পরামর্শ করা জরুরি।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *