নরসিংদীবাসীর আকুতি: আমরা স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা চাই

01নূরুল ইসলাম নূরচান: দুর্বৃত্তদের ছোঁড়া পেট্রল বোমায় মাসাধিকাল সময়ের মধ্যে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছে। এর মধ্যে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশ কিছু হত্যাকান্ড ঘটেছে বলে সংবাপত্রের সূত্রে জানা গেছে। গণপরিবহণে(বাস) পেট্রলবোমায় গত ৩০ জানুয়ারি শুক্রবার কুমিল্লার চৌদ্দ গ্রামে ৭ জন যাত্রী মারা গেছে। এর মধ্যে নরসিংদীর পলাশ উপজেলার বাবুচর গ্রামের আছমা বেগম(৩৫) ও তার ছেলে শান্ত(১৩) নামের ২ জন রয়েছে। আরো ১৬ জন অগ্নিদগ্ধ রোগি আশংকা জনক অবস্থায় রয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে।

গত জানুয়ারি মাসের ৫ তারিখে ঢাকায় জনসভা আহ্বান করে বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোট। পাশাপাশি বর্তমান সরকারের ১ বছর পূর্তি উপলক্ষে সরকারদলীয় লোকজন ঢাকায় জনসভা করার উদ্যোগ নেয়। শেষ পর্যন্ত কাউকেই সভা-সমাবেশ করতে দেয়নি পুলিশ প্রশাসন। সে থেকে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে। সরকারের প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার অনমোনীয়তা এবং ২০ দলীয় জোট প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার কারণে দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা চলছে বলে শান্তিপ্রিয় মানুষ মন্তব্য করছেন। এখন ঘরে-বাইরে কোথাও মানুষের জানমালের কোন নিরাপত্তা নেই। ফলে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে বের হতে চায়না। তাছাড়া দূরপাল্লার যানবাহন ও রাস্তায় নেই খুব একটা। এরপর ও একেরপর এক মানুষ খুন হচ্ছে, মারা যাচ্ছে। মানুষ এখন চরম আতংকের মধ্যে রয়েছে। ভয় মানুষের পিছু চাড়ছে না, এই বুঝি বাসে পেট্রলবোমা পড়ছে, দুর্বৃত্তরা গুলি ছুরছে বা ক্রসফায়ার শুরু হচ্ছে।

পেট্রলবোমা এখন যেন এক মূর্তিমান আতংক। প্রায় প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন স্থানে কারোনা কারো প্রাণ যাচ্ছে ভয়ংকর এ বোমা হামলায়। দায়িত্বে নিয়োজিত আইন-শৃংখলারক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি ও সামাল দিতে পাছেনা পরিস্ততি। সরকার প্রধানরা বলেছিল, এক সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি ঠিক হয়ে আসবে। কিন্তু এ আশ্বাসের প্রায় ৩ সপ্তাহ পার হলেও দেশের বিরাজমান পরিস্থিতি স্থিতিশীল হচ্ছেনা। এখন ও পেট্রলবোমায় দগ্ধ মানুষের স্বজনদের আহাজারিতে বিবেকবান মানুষের মন কেঁদে ওঠে। ঢাকা মেডিকেলসহ বিভিন্ন হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পেট্রলবোমায় দগ্ধ রোগি এবং স্বজনদের হৃদয়বিদারক কান্নার রোল চলছে। এত কিছুর পরও সরকার এবং সরকার বিরোধীদের মন এতো টুকু গলছেনা। নরসিংদীসহ দেশের শান্তি প্রিয় মানুষ বলছে, ক্ষমতালোভী একপক্ষ চাইছে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে আর অন্যপক্ষ চাইছে মানুষ পুড়িয়ে মেরে ক্ষমতা দখল করতে। সাধারণ মানুষের কথা তারা কেউ ভাবছেনা। হরতাল-অবরোধের কারণে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সময়সূচি ও তছনছ হয়ে গেছে। পরীক্ষার্থীরা নির্ধারিত তারিখে পরীক্ষা দিতে পারছেনা। দ্বিতীয়বার পাঠ্য বইয়েও তারা মন বসাতে পারছেনা। ফলে তাদের পরীক্ষার ফলাফল ও ভাল হবেনা বলে সংশ্লিষ্টরা বলছেন। টানা অবরোধ-হরতালে মানুষের জীবনযাত্রা যেমন ব্যাহত হচ্ছে তেমনি দেশের অর্থনীতির চাকাও প্রায় অচল হয়ে গেছে বলে অর্থনীতিবীদরা মনে করছেন।

নরসিংদীর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, ব্যবসায়ী, সাধারণ মানুষের সাথে কথা হয়। তারা কেউ নাম প্রকাশ করতে রাজি হয়নি। এদের সবার একটাই কথা,‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আপনারা দয়ে করে জেদাজেদি বন্ধ করুন, সংলাপে বসুন, রাজনীতির অচল অবস্থা নিরসন করুন। আমরা পেট্রলবোমা আর ক্রস ফায়ারে মরতে চাই না। আমরা আপনাদের কাছে স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা চাই।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *