বগুড়ায় ২১ শে বই মেলার পিঠা উৎসবকে ঘিরে টা এলাকা উৎসবের আমেজ

DSC03855-600x370আব্দুল লতিফ (বগুড়া): বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী সরকারি আজিজুল হক কলেজের ক্যাম্পাসে আয়োজিত ২১শের বই মেলা এখন উৎসবের মেলায় পরিণত হয়েছে। মেলার পিঠা উৎসবকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকা যেন পরিণত হয়েছিল মিলন মেলায়। ভাষা আন্দোরনের এই মাসে ১লা ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই মেলা যেন এখন বাঙ্গালীর প্রানের উৎসবে পরিপূর্ণ হতে চলছে। মেলায় দর্শনার্থি ছাড়াও এখন শিক্ষার্থী ছাড়াও আবাল বৃদ্ধ বনিতার ভারে মুখরিত। প্রতিদিই বাড়ছে সকল বয়সীদের উপস্থিতি। মেলার ষ্টলে ষ্টলে থরে থরে সাজানো বইয়ের পাশা পাশি রোববার আয়োজন করা হয় পিঠা মেলার।

বাংলার কৃষ্টি এবং ঐতিহ্যকে লালন করতে আয়োজিত পিঠা মেলা যেন সকল উজার করা ভালবাসায় টুইটুম্বর। দিনে দিনে যেন এই মেলার পরিধি একটু একটু করে সকল আনন্দকে স্পর্শ করতে চাইছে। মেলার মুক্ত মঞ্চে থাকছে জারি সারি ও লালনের গানের আয়োজন ছাড়াও মনোজ্ঞ বাংলা সাংস্কৃতিক ভূবনের সব কিছু। বই প্রেমিদের পাশাপাশি সব বয়সীদের সরব উপস্থিতি মেলার আনন্দকে করে তুলেছে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিহীন এক নির্মল আনন্দময় পরিবেশ। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ অধ্যাপক সামস উল আলম সংবাদ সংস্থা এফএনএসকে এই মেলাকে আত্বিয়র বন্ধন, মুক্ত বাতাসে একটি পূর্ণ মিলন হিসাবে উল্লেখ করে বলেন, মানুষের জন্য ভাল কিছুর আয়েজন কখনো তার গতী হারায় না।

মেলার এই পিঠে মেলায় ঘুড়তে গিয়ে অনেক ষ্টলের মধ্যে চোখ পড়ে ১৬ নং ষ্টলের পিঠা আয়োজনে। সেখানে কথা হয় ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের এক ঝাক শিক্ষার্থীদের সাথে। কথা হয় মনিরা, স্বৃতি, জান্নাত, তুহি, ফারজানা, মনিশা, চৈতী ববী, রাজিব , শাহীন, আশিক সানোয়ারের সহ অনেকের সাথে। সেখানে ছিলেন সাবেক অনেক শিক্ষার্থী। তাদের পশরায় স্থান পেয়েছিল বাংলার ঐতিহ্যবাহী দুধ পিঠা থেকে শুরু করে, চাঁদ পিঠা, কুশলি, পুষ্প, পাটি সাপটা, বিবিজান, নাগর, তাল পাথারী পিঠা সহ প্রায় ৩৬ধরনের নাম না জানা এমন অনেক পিঠা।সেখানে না গেলে অগচরেই থেকে যেত ঐতিহ্যবাহী বাংলা পিঠার কি সমাহার। তাদের অনেকেই দাবি করেন সারাটি বষয় যদি এমনি করেই ক্যাম্পাসটা সকল ভেদাভেদ মুক্ত থাকতো তাহলে ভাল হত।

চিরায়িত বাংলার এই পিঠা আয়োজনে শিক্ষার্থী ছাড়াও পিঠার পশরা সাজাতে আসেন প্রতিষ্ঠানের এক সময়ের তুখোর ছাত্রীদের অনেকেই। তাদের সাথে আরো এসেছিলেন তাদের অনেক অভিবাবকরা। একটু সময়ের জন্য হলেও তাদের কাছে যেন মনে হয়েছে আগের সময়ে তারা ফিরে গেছেন। স্বৃতি মন্থর করতে কেউ কেউ ভুল করেননি। উত্তরাঞ্চলের শ্রেষ্ট বিদ্যাপীঠ আবারো যেন নতুন করে তার ঐতিহ্যকে লালন করতে উঠে পড়ে লেগেছে। এ ধরনের প্রচেষ্টা এখন থেকে ভাষার এই মাসে বার বার আয়োজন করা হলে মন্দ হয়রা কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের এই আকুতি। অনন্ত কিছু সময়ের জন্য হলেও সকল হিংসা ভেদা ভেদ ভুলে যেন এই আয়োজন প্রকৃত পূর্ণঃমিলনিতে পরিণত হতে পারেন কামনা তাদের। আগামী ২১ তারিখ পর্যন্ত এই বই মেলায় প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত্রি ৮টা পর্যন্ত সকলের জন্য উম্মুক্ত থাকবে এমনটি নিশ্চিত করেছেন আয়োজকরা।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *