হরতাল অবরোধ নয় শান্তি চাই

215 (4)নূরুল ইসলাম নূরচান: ‘দেশের চলমান লাগাতার হরতাল-অবরোধের কারণে প্রতি দিন শত শত কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে। ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা ব্যবস্থা। দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মানুষের জীবনযাত্রা। দেশ দিন দিন চরম সর্বনাশের দিকে ধাবিত হচ্ছে। অথচ এ থেকে উত্তোরণের জন্য কেউ-ই কোন চিন্তা ভাবনা করছে না। দেশের রাজনীতিবীদরা স্ব-স্ব দলীয় ফায়দা হাসিলে ব্যস্ত রয়েছেন। এক দল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে চাইছে আর অন্য একদল গদিসীন হতে চাইছে। ফলে লাগাতার হরতাল-অবরোধ দিয়ে দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা অচল করে দিয়েছে তারা। আমরা এসব নোংরা রাজনীতির আগেও নেই পাছেও নেই। আমরা শুধু শান্তি চাই, পরিবারের সদস্যদের চিন্তামুক্ত দেখতে চাই, কর্ম শেষ করে নিশ্চিন্তে ঘরে ফিরতে চাই। এ কথাগুলো কোনো রাজনৈতিক সভা বা সেমিনারে দেয়া কোনো রাজনীতিবীদের নয়। এগেুলো সাধারণ মানুষের কথা। বাসের জন্য অপেক্ষায় প্রায় দু’ঘন্টা ভেলানগর জেলাখানার মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আমির হোসেন এ কথাগুলো বলেন। গত ৫ জানুয়ারি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাল্টা পাল্টি কর্মসূচিতে সকাল থেকেই সব ধরনের গণপরিবহণ চলাচল বন্ধ থাকে। আতঙ্কিত কর্মজীবী মানুষেরা দিশেহারা হয়ে পায়ে হেঁটেই রওনা হয়েছেন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। গত ১০ দিন যাবৎ নরসিংদীর সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ছিল চোখে পড়ার মতো। সকাল ৮টা থেকে শুরু করে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কোন রোডই চোখে পড়েনি তেমন গণপরিবহন। ৩০ থেকে ৪০ মিনিট পর পর দু’চারটি বাস চলাচল করতে দেখা গেছে । আর প্রাইভেট পরিবহনের চিত্রও ছিল একই রকম। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় সব শপিংমল এবং দোকান বন্ধ রয়েছে। শো রুমের কর্মচারী স্বপন জানান, সকালে এসেছি। দোকান খুলে আবার বন্ধ করেছি। কারণ দেশের পরিস্থিতি তো ভালো না। পুলিশ থাকলে কী হবে। ককটেল ফুটলে সবাই দৌড় দেয়। তখন আমরা পড়বো বিপদে। এর থেকে ভালো দোকান বন্ধ থাকা। রুটগুলোতে বাস বন্ধ থাকায় আর.টি.ভি, সিএনজি, ও রিকশার দাপট ছিল বেশি। এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় আসতে রিকশা চালক ভাড়া দাবি করেন ১৫০ টাকা। এর কমে কেউ যেতে রাজি নয়। অথচ রিকশা ভাড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকা। প্রতিদিন সকাল থেকে মাঝরাত পর্যন্ত যে কোনো সময় সিএনজি পাওয়া যেত; কিন্তু গত বুধবার ছিল একেবারেই ব্যতিক্রম। প্রায় দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকেও কোনো সিএজির দেখা মিলেনি। বাসের জন্য অপেক্ষমান যাত্রী নাজিম উদ্দিন ক্ষোভের সঙ্গে জানান, এটা কেমন হলো। কোনো পরিবহনই তো নেই। রিকশা ভাড়া ৩০ টাকার রিক্সা ভাড়া ১০০ টাকা দাবী করেন। ১৫০ টাকার সিএজি ভাড়া ৩০০ টাকা। আর বাস তো নেই-ই। আর যদিও দু’একটি বাস আসে সেগুলোতে কোনোভাবেই ওঠা সম্ভব হয়ে ওঠে না। দীর্ঘ সময় দাঁড়ানোর পর এলাকাতে চোখে পড়ে মেঘালয় পরিবহনের একটি বাস। ওই বাসের চালক মনির হোসেন জানান, আজ রাস্তার অবস্থা খুবই খারপ। তাই গাড়ি কম। এখন তবু ও দু’একটি চলছে, দুপুরের পর এগুলোও বন্ধ হয়ে যাবে। দুপুর ১২টার দিকে এলাকাতে অবস্থানরত সিএনজি চালক সুমন জানান, পেটের দায়ে সিএনজি চালাই। গাড়ি না চালাইলে ভাত দিবে কে? তাই বাধ্য হয়েই রাস্তায় বেরিয়েছি। ৩ টার দিকে গ্যারেজে চলে যাব। সন্ধ্যায় গাড়ি চালাব না। বাস মালিকরা হরতাল অবরোধের কারণে তাদের গণপরিবহনগুলো রোডে বের হতে দিচ্ছে না। কারণ বিভিন্ন রোডে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়া হচ্ছে। ফলে জান-মাল সবই শেষ হয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া বাস চালক, হেলপারাও সাধারণ মানুষেরমত আতঙ্কিত অবস্থায় আছে। রোডে বের হলে কখন কোন র্দুঘটনা ঘটায় র্দুবৃত্তরা। তাই সাধারণ মানুষ স্বাছন্দে চলাফেরা করতে পারছেনা রাস্তাঘাটে।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *