বগুড়ায় জোটের মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ : ৩১ জন গ্রেফতার

আব্দুল লতিফ, (বগুড়া): অবরোধকারীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ, ককটেল বিস্ফোরণ, যানবাহন ভাংচুর, ট্রাকে অগ্নিসংযোগের মধ্যদিয়ে বগুড়ায় ২০ দলীয় জোটরে লাগাতার অবরোধ ও ৪৮ ঘন্টার হরতালের প্রথম দিন অতিবাহিত হয়েছে। পুলিশ পিকেটিং এর অভিযোগে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের ৩১ নেতাকর্মিকে গ্রেফতার করেছে। এদিকে, চাঁপাই নবাবগঞ্জের কানসাটে ছাত্রদল নেতাকে ক্রসফায়ারে হত্যা এবং ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মিদের বাড়ীঘরে হামলা-ভাংচুর-অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে রাজশাহী বিভাগের জেলায় ডাকা ৩৬ ঘন্টার হরতাল বগুড়ায় আরও ১২ ঘন্টা বাড়ানো হয়েছে। বগুড়া জেলায় মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত হরতাল চলবে। রোববার সকালে জেলা বিএনপির সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলাম এক সমাবেশে এ ঘোষণা দেন।

অবরোধের পাশাপাশি রাজশাহী বিভাগজুড়ে ডাকা হরতালের সমর্থনে রোববার সকাল থেকেই বগুড়া শহরে সক্রিয় রয়েছে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মিরা। সকাল ৮টায় শহরের চারমাথায়, ৯টায় কলোনী এবং সোয়া ১০টায় সাবগ্রামে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জামায়াত-শিবির। এসময় তারা রাস্তায় পেট্রল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে। সাবগ্রামে দ্বিতীয় বাইপাস সড়কে গাছের গুড়ি ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করে। সকাল ৯টায় শহরের ইয়াকুবিয়া স্কুল মোড়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে জেলা বিএনপি। সমাবেশে জেলা বিএনপির সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলাম ঘোষণা করেন ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মিদের গণগ্রেফতারের প্রতিবাদে রাজশাহী বিভাগে ডাকা ৩৬ ঘন্টার হরতাল আরও বাড়িয়ে বগুড়া জেলায় মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত চলবে। তিনি গণগ্রেফতার বন্ধ করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। দুপুর ১২টার পর জামায়াত-শিবির কর্মিরা চারমাথা এলাকায় বগুড়া-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করে পিকেটিং করেছে।

হরতাল ও অবরোধ চলাকালে শহরের মাটিডালি বিমান মোড়ে অবরোধকারীদের ওপর লাঠিচার্জ করে বিএনপির ৯ নেতাকর্মিকে আটক করেছে পুলিশ। এসময় পুলিশের সাথে অবরোধকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শিলা জানায়, লাগাতার অবরোধ ও রাজশাহী বিভাগে ২০ দলের ডাকা হরতালের সমর্থনে রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় মাটিডালি মোড়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করে বিএনপি। জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা ও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহম্মেদ খান রুবেলের নেতৃত্বে মিছিল শেষে সমাবেশ শুরু হলে হঠাৎ লাঠিচার্জ শুরু করে পুলিশ। এসময় বিকট শব্দে ৩টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। নেতাকর্মিরা ছত্রভঙ্গ হওয়ার পর পুলিশ সাখারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা হেলালসহ ৯ জনকে আটক করে। বগুড়া সদর থানার ওসি আবুল বাসার ৯ জন আটকের কথা স্বীকার করলেও লাঠিচার্জ করার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

এদিকে, অবরোধ চলাকালে পুলিশ পাহারায় মালবাহী ট্রাক পারাপারের সময় শনিবার রাত ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে বগুড়া-ঢাকা এবং বগুড়া-নাটোর মহাসড়কে ৩টি ট্রাকে অগ্নিসংযোগ করা হয়। রাত ৮টার পর অবরোধকারীরা মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার ওপর ‘আজব কাঁটা’ বিছিয়ে দেয়। এসব কাঁটা বিদ্ধ হয়ে একের পর এক মালবাহী ট্রাকের চাকা ফুটো হতে থাকে। চালকরা ট্রাক থামানোর পর রাত ৯টার দিকে শহরের চারমাথা এলাকায় একটি মালবাহী ট্রাকে অগ্নিসংযোগ করা হয়। ফায়ার সার্ভিস কর্মিরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভায়। এঘটনার ঠিক একঘন্টা পর বগুড়া-নাটোর মহাসড়কের ছিলিমপুরে হোটেল নাজগার্ডেনের সামনে একটি এবং বগুড়া-ঢাকা মহাসড়কের বেতগাড়ী ফটকির ব্রীজের কাছে আরেকটি ট্রাকে কে বা কারা আগুন দেয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মিরা গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কঠোর পুলিশী নিরাপত্তার মধ্যে একঘন্টার ব্যবধানে ৩টি মালবাহী ট্রাকে অগ্নিসংযোগের পর মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহনের চালকদের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তা কর্মিদের তৎপরতাও বেড়ে যায়। বগুড়া সদর থানার ওসি আবুল বাসার ৩টি ট্রাকে অগ্নিসংযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অবরোধ চলাকালে বিএনপি নেতাকর্মিদের গ্রেফতারের প্রতিবাদে শনিবার দুপুরে বগুড়া-রংপুর মহাসড়কের বারপুরে একটি চিনি বোঝাই ট্রাকে আগুন দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা।

এদিকে, অবরোধ ও হরতালের সমর্থনে রোববার সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে ২০ দলের নেতাকর্মিরা। শহরে কিছু ক্সিা ছাড়া কোন যানবাহন চলেনি। দোকানপাট ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। সরকারি অফিস খোলা তাকলেও লোক উপস্থিতি ছিল নগণ্য। জেলার সব উপজেলাতেও কঠোরভাবে হরতাল পালনের খবর পাওয়া গেছে। বগুড়া জেলা পুলিশের মিডিয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার গাজিউর রহমান জানান, হরতালে এখন পর্যন্ত কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। নাশকতা ঠেকাতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তৎপর রয়েছে।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *