প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর

Tanguar haorএস এম শাহজাহান: সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর ও ধর্মপাশা উপজেলার মেঘালয়ের ঠিক নিচে অবস্থিত। বাংলাদেশের ২য় বৃহত্তম মিঠা পানির জলাভূমি টাঙ্গুয়ার হাওর। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বিশাল জলরাশির হাওর শীতের কুয়াশাঘেরা অতিথি পাখির কলকাকলি ও কন্ঠস্বরে মুখরিত হয়ে উঠে হাওরসহ আশপাশের অঞ্চল। আয়তনে প্রায় ১০০ বর্গ কিলোমিটার। মেঘালয় পাহাড় থেকে ৩০ টি ঝর্ণা মিশেছে এই হাওরে। স্বচ্ছ টলমলে জলের নিচে দেখা যায় ঘাস। অতিথি পাখি কখনো জলকেলি, কখনো খুনসুটিতে কিংবা খাদ্যের সন্ধ্যানে এক বিল থেকে অন্য বিলে এক হাওর থেকে অন্য হাওরে গলায় প্রাণকাড়া সুর তুলে ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ছে। স্থানীয়ভাবে পরিচিত ছয়কুরি কান্দা আর নয় কুরি বিলের এ বিশাল জলভূমি টাঙ্গুয়ার হাওরে শীতের শুরু থেকে অস্ট্রেলিয়া, সাইবেরিয়াসহ বিভিন্ন শীত প্রধান দেশ থেকে হাজার মাইল রাস্তা অতিক্রম করে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের  টাঙ্গুয়ার হাওরের পাশ্ববর্তী শনি, মাটিয়ান, কানামিয়াসহ আশপাশের হাওরে এসব অতিথি পাখি অবস্থান নেয় এদের মধ্যে, মৌলতি হাঁস, বালি হাঁস, লেঞ্জা সরালি, পিয়ারি, কাইম, কালা কুঁড়া, রামকুড়া, মাছরাঙ্গা, কানিবক, পানকৌড়িসহ অনেক পাখি খাদ্যের সন্ধানে এক হাওর থেকে অন্য হাওরে ডানা ঝাপটিয়ে অবাধ বিচরন করে। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কিছু না কিছু পর্যটক কষ্ট করে দুর্গম টাঙ্গুয়ার হাওরে এসে মনোমুগদ্বকর প্রকৃতির সৌন্দর্য দৃশ্য দেখছেন। প্রতি বছরই এই হাওরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখার জন্য বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটক আসার পাশাপাশি বিদেশি পর্যটকও আসেন। এ হাওরে প্রায় ৫১ প্রজাতির পাখি ও ২০০ প্রজাতির মাছ পাওয়া যায় এর মধ্যে রয়েছে বিখ্যাত মহাশোল মাছও। এছাড়াও রয়েছে টাঙ্গুয়ার হাওরে জলজ উদ্ভিদযেমন হিজল, করচ, বরুন, পানিফল হেলেঞ্জা, বনতুলশী, নল খাগড়া, বল্লোয়া, চাল্লিয়া ইত্যাদী। অনেক ব্যস্ততার মাঝে একটু অবশর পেলেই ঘুরতে যেতে পারেন এই টাঙ্গুয়ার হাওরে। কিভাবে যাবেন? ঢাকা থেকে যাতায়াতের ব্যাবস্থা: ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জ শ্যামলী, ইউনিক, মামুন, এনাসহ আরো অনেক পরিবহন যাত্রী সেবা দিয়ে থাকে। টিকেট মুল্য ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা, সুনামগঞ্জে বাষ্টান্ড থেকে সাহেব বাড়ি ঘাট অথবা বৈঠাখালিঘাট পর্যন্ত রিকশায় যাবেন। সেখান থেকে টাঙ্গুয়ার হাওরের উদ্দেশ্যে ইঞ্জিন চালিত নৌকায় অথবা মোটর সাইকেলের যাতায়াতের সু-ব্যবস্থা আছে। নৌকায় দিন প্রতি ভাড়া ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা আর মোটর সাইকেলে দিন প্রতি ভাড়া ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা একটা মোটর সাইকেল দিয়ে ড্রাইভারসহ তিনজন যাওয়া যাবে। হাওরে পৌঁছাঁতে নৌকা দিয়ে সময় লাগবে ৫ থেকে ৬ ঘন্টা আর মোটর সাইকেলে গেলে সময় লাগবে ২ থেকে ৩ ঘন্টা। আবার ঘাট থেকে টাঙ্গুয়ার হাওরে যেতে পারেন ২ দিক দিয়ে (১) ঘাট থেকে সরাসরি উপজেলা হয়ে ও (২) অপরূপ সৌন্দর্যের নদি যাদুকাটা, বারিকের টিলা, বড়ছড়া  শুল্ক ষ্টেশন ও টেকেরঘাট চুনাপাথর খনি প্রকল্প হয়েছে। থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা: একদিকে তাহিরপুর বাজারে উপজেলা গেস্ট হাউজ এ থাকার ব্যবস্থা আছে, খাওয়ার জন্য হোটেলও পাওয়া যাবে এ বাজারেইl অন্যদিকে বড়ছড়া জয়বাংলা বাজার হোটেল খন্দকার আবাসিক এ থাকা যাবে, রুচি সম্মত পরিবেশে খাওয়ার জন্য এ বাজারেই একাধিক হোটেল পাওয়া যাবে। লেখক: সমাজকর্মী ও সম্পাদক, পাহাড়ের কান্না (ম্যাগাজিন), তাহিরপুর, সুনামগঞ্জ।

1 reply

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *