এই শীতে ঘুরে আসুন পিকনিক স্পটগুলো : শেষ পর্ব

প্রথম সকাল ডটকম: এখন চলছে শীতকাল। আর শীতকালে সবচেয়ে যে বিষয় সবাই করেন সেটা হলো পিকনিক বা বেড়ানো। কিন্তু পিকনিক বা বেড়ানোর জন্য অনেক সময় সঠিক জায়গা খুজে পাওয়া যায়না। তাই পাঠকদের জন্য আমরা আজ তুলে ধরলাম কয়েকটি পিকনিক স্পটগুলোর শেষ তথ্য:- পিকনিক স্পট “গিরি নন্দিনী” কাপ্তাই, রাঙামাটি: পর্যটনের অপার সম্ভাবনা বিবেচনায় সৌন্দর্যের রানী হিসেবে পরিচিত কাপ্তাই উপজেলায় বেসরকারিভাবে আরও একটি পিকনিক স্পট “গিরি নন্দিনী” গড়ে তোলা হয়েছে। প্রকৃতির অপরূপ শোভামণ্ডিত কর্ণফুলী নদীর কোলঘেঁষে শীলছড়ি এলাকায় ১২ আনসার ব্যাটালিয়নের উদ্যোগে নতুন এই পিকনিক স্পট তৈরি করা হয়। গিরি নন্দিনী যেখানে গড়ে তোলা হয়েছে তার পাশেই রয়েছে সুপরিচিত কর্ণফুলী নদী। নদীর ধারে গোলঘর অথবা চেয়ারে বসলে যে কেউই ক্ষণিকের জন্য হলেও মুগ্ধ হবেন। নদীর পাশেই রয়েছে ছায়াঘেরা অপরূপ সুন্দর সুউচ্চ পাহাড়। এখানে বসে নদীতে মৃদু ঢেউয়ে ভেসে চলা নৌকা, সাম্পান, স্পিডবোটসহ দূরদূরান্ত থেকে আসা কলা, জ্বালানি কাঠ, ফলমূল, তরিতরকারি ভর্তি ইঞ্জিনচালিত বোট যেতে দেখা যাবে।। ঐতিহাসিক রাম পাহাড় এবং সীতার পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য নদীতে ব্যাটালিয়নের নিজস্ব স্পিডবোটে ঘুরে বেড়ানোর সুবিধা রয়েছে। কাপ্তাই এ আরো কয়েকটি পিকনিক স্পট রয়েছে বিজিবি কর্তৃক জুম রেস্তোরাঁ, বেসরকারি বনশ্রী কমপেল্গক্স, পাহাড়িকা পিকনিক স্পট, বন বিভাগের প্রশান্তি পিকনিক স্পট, শহীদ মোয়াজ্জেম নৌঘাঁটি পিকনিক স্পট, বিএফ আইডিসি পিকনিক স্পট। নীলগিরি রিসোর্ট বান্দরবান: শহর থেকে ৪৭ কিলোমিটার দূরে চিম্বুক পাহাড়ের মাথায় নীলগিরি রিসোর্ট। এ রিসোর্টে আপনি মন উজাড় করা দুটি জিনিস পেয়ে যাবেন। একটি পাহাড়, অন্যটি সবুজ বনানী। আশপাশে বৌদ্ধমন্দির এবং ঝরনাও পাবেন। পাহাড়ি খাবারও পাবেন। কটেজ ভাড়া পাঁচ হাজার থেকে আট হাজার টাকা। সেনাবাহিনী পরিচালিত রিসোর্টটিতে থাকার জন্য বান্দরবান ডিসি অফিসে যোগাযোগ করতে হবে। মৌ ভ্যালি পর্যটন ও পিকনিক স্পট: শ্রীমঙ্গল-মৌলভীবাজার সড়ক ধরে যে কোন যানবাহনে মৌলভীবাজার থেকে ৫ কিলোমিটার এবং শ্রীমঙ্গল শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার অদূরে অবস্থিত মোকাম বাজার। বাজারের ভেতর দিয়ে দেওরাছড়া-কমলগঞ্জ সড়কের প্রায় অর্ধ কিলোমিটার সামনে এগোলেই প্রেমনগর চা বাগান। এ চা বাগান সংলগ্ন্ন এলাকায় পাহাড়ি টিলায় ২ হাজারের অধিক বৃক্ষবেষ্টিত নয়নাভিরাম বিশাল এলাকাজুড়ে পর্যটন ও পিকনিক স্পট মৌ ভ্যালির অবস্থান। সবুজ প্রকৃতিকে নিবিড়ভাবে উপভোগ করতে এখানে গড়ে তোলা হয়েছে পর্যটননির্ভর নানাবিদ অবকাঠামো। সাজানো রয়েছে শিশুদের মনোরঞ্জনের জন্য বিভিন্ন খেলনার সামগ্রী দিয়ে। বিশাল টিলাঘেরা এ স্পটটির প্রতিটি গাছ সাজানো হয়েছে রঙিন করে। গাছনির্ভর এ স্পটটিতে গাছের ওপরে, তাঁবুতে এবং বিশেষ কাগজের তৈরি কটেজে থাকার ব্যবস্থাও রয়েছে। স্পটটিতে আছে পাকা কটেজও। সাতছড়ি উদ্যান হবিগঞ্জ, সিলেট: সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলায় সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান বনভোজনের জন্য একটি আদর্শ জায়গা। রাজধানী থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত জাতীয় এ উদ্যানটিতে রয়েছে কয়েকটি বনভোজন কেন্দ্র। সঙ্গে সঙ্গে উপভোগ করা যাবে এখানকার নানান জীব বৈচিত্র্য। সাতছড়িতে রয়েছে প্রায় ১৪৯ প্রজাতির পাখি, ২৪ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ১৮ প্রজাতির সরীসৃপ এবং ৬ প্রজাতির উভচর প্রাণী। মুখপোড়া হনুমান, চশমা হনুমান, উলস্নুক, লজ্জাবতী বানর, কুলু বানরের মতো বিরল প্রাণীর দেখা মেলে এ উদ্যানে। এ ছাড়া মায়া হরিণ, খিদির শুকর, বন্য শুকর, বেজি, গন্ধ গোকুল, বনবিড়াল, মেছো বাঘ, কটকটি ব্যাঙ, গেছো ব্যাঙ, গিরগিটি, বিভিন্ন রকম শাপ, গুই সাপ প্রভৃতি রয়েছে এ বনে। ফিঙ্গে, কাঠঠোকরা, মথুরা, বন মোরগ, ধনেশ, লাল ট্রগন, পেঁচা, সুই চোরা এ বনের উলেস্নখযোগ্য পাখি। সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের বনভোজন কেন্দ্র ব্যবহার করতে চাইলে জনপ্রতি ১০ টাকা হিসেবে দিতে হবে। এ ছাড়া কার, জিপ ও মাইক্রোবাস পার্কিং ২৫ টাকা। নাজিমগড় রিসোর্ট সিলেট: পাঁচ একর জায়গার ওপর নির্মিত রিসোর্টটি সব বয়সীদের জন্যই উপযোগী। পাহাড়ের ঢেউ দেখার দারুণ জায়গা এটি। ১৫টি কটেজ আছে এখানে। রেস্টুরেন্টে অনেক পদের খাবার পাবেন। রিসোর্টে আছে বিশাল এক বাগান, পিকনিক ও ক্যাম্পিং স্পট। ঘুরে আসতে পারবেন নুড়ি পাথরের রাজ্য জাফলংয়ে। সিলেট শহর থেকে রিসোর্ট বাসে মাত্র ১৫ মিনিটের পথ। কটেজ ভাড়া পাঁচ থেকে ১০ হাজার টাকা। যোগাযোগ : ০১৭১২০২৭৭২২, .০১৭১২৪৯৫৭৯১। শ্রীমঙ্গল টি রিসোর্ট মৌলভীবাজার: শ্রীমঙ্গল শহর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে এ রিসোর্ট। চা বাগানের মাঝখানে এর অবস্থান। এখানে বাংলোর সংখ্যা ১০টি। বুকিং নিতে হবে কমপক্ষে এক সপ্তাহ আগে। যাঁরা প্রকৃতি ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য এটি স্বর্গরাজ্য। সব ধরনের খাবার পাবেন, সঙ্গে পাহাড়ি খাবারও। বাংলো ভাড়া তিন থেকে ছয় হাজার টাকা। রিসোর্টের নিজস্ব গাড়ি শহর থেকে আপনাকে নিয়ে যাবে। যোগাযোগ: ০১৭১২৯১৬০০১, ০১৭১২০৭১৫০২। রেইন ফরেস্ট রিসোর্ট শ্রীমঙ্গল শহর থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সড়কের পাশেই রয়েছে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে বেড়াতে গেলে থাকতে পারেন রেইন ফরেস্ট রিসোর্টে। শ্রীমঙ্গলের হবিগঞ্জ সড়কে ভালো আবাসন ব্যবস্থা নিয়ে রয়েছে রেইন ফরেস্ট রিসোর্ট (০১৯৩৮-৩০৫৭০৬-৭, ০২-৯৫৫৩৫৭০। জেসটেট হলিডে রিসোর্ট: সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের পাশে দেশের প্রথম রিসোর্ট জাকারিয়া সিটি জেসটেট হলিডে রিসোর্ট। এখানে আছে কৃত্রিম হ্রদ, ৫০০ প্রজাতির ১ লাখেরও বেশি গাছগাছালি, স্পোর্টস কমপ্লেক্স, টেনিস কোর্ট, লং টেনিস কোর্ট, জিমনেশিয়াম ও অডিটরিয়াম। জাকারিয়া সিটি জেসটেট হলিডে রিসোর্টের সহকারী ব্যবস্থাপক ইকবাল করিম মজুমদার বলেন, তাদের ৪৭টি কক্ষের ৯০ শতাংশ ১ থেকে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বুকিং হয়ে গেছে। এ রিসোর্টে প্রতি রাত থাকার জন্য খরচ পড়বে সাড়ে ৩ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে।জেসটেট হলিডে রিসোর্ট (০৮২১-২৮৭০০৪০) ০৮২১-২৮৭০৭৬০। আমতলী নেচার রিসোর্ট শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার: আমতলী নেচার রিসোর্ট ঠিক এমনই এক সবুজে ঘেরা জায়গা। ঢাকা থেকে মাত্র চার ঘণ্টার দূরত্বে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল থানার খুব কাছেই আমতলী চা বাগান। আর এই চা বাগানেই রয়েছে একটি দারুণ রিসোর্ট। একদিকে চা বাগান, অন্যদিকে রবারের বনএই দুয়ে মিলে তৈরি হয়েছে এক নৈসর্গিক পরিবেশ, যা আপনাকে মুহূর্তে ভুলিয়ে দেবে যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি। স্বল্প পরিসরে তৈরি এই রিসোর্টটিতে রয়েছে থাকা-খাওয়ার আধুনিক সব ব্যবস্থা। দিনের বেলা বেড়ানোর জন্য বেছে নিতে পারেন আশপাশের চা বাগান, বন্যপ্রাণীদের সাহচর্য, সীতেশ বাবুর চিড়িয়াখানা, বাইক্কা বিলের অপূর্ব সৌন্দর্য আর সেই সঙ্গে জিভে জল আনা সব খাবার, এর সঙ্গে রাতে চাঁদের আলোয় বারবিকিউ পার্টি সব মিলিয়ে আপনার ছুটির দিন হয়ে উঠতে পারে অনেক বেশি আনন্দময় ও উত্তেজনাপূর্ণ। বছরের সব ঋতুতেই আপনি যেতে পারেন আমতলী। এদিক-ওদিক যাওয়ার জন্য প্রয়োজনে বাগান কর্তৃপক্ষ আপনাকে গাড়ির ব্যবস্থা করে দেবে। নিঃসন্দেহে বলা যেতে পারে, ভ্রমণ পিপাসুদের মন জয় করে নিতে পারে আমতলী নেচার রিসোর্ট।

This website uses cookies.