পলাশে লিমন হত্যাকান্ড : কোন আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ

85এম.এ হাসান বিশেষ প্রতিনিধি: নরসিংদী পলাশের চাঞ্চল্যকর মো: আবুল কাশেম লিমন মৃধা হত্যাকান্ডের দীর্ঘ দুই মাস অতিক্রম হলেও মামলার কোন আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। হত্যাকারী আরিফ, মিঠু, সোলায়মান, হারিছুল হক, লিটন, ফারুক, আলমগীর, কবির, রোমান ও মন্টু মুখ লুকিয়ে থেকে উল্টো নিহত লিমনের পরিবারকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। এমনটাই অভিযোগ উঠে এসেছে লিমনের পরিবারের কাছ থেকে। পালিয়ে থাকা হত্যাকারীদের ভয়ে সার্বক্ষণিক উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে নিহত লিমনের পরিবারের সদস্যরা। জানা গেছে, পলাশ উপজেলার ইছাখালী গ্রামের সোলায়মান মৃধার ছেলে লিমন মৃধা। সে স্থানীয় একটি নির্মানাদীন গার্মেন্টেসে বালু সরবরাহ করত। সেই সাথে এলাকার সামাজিক কর্মকান্ডে, মাদকদ্রব্য ও জোয়া প্রতিরোধে অগ্রণী ভূমিকা রাখত। তার এই বালু ব্যবসাকে কেন্দ্র করে রামানন্দী গ্রামের কুখ্যাত মাদক ও জোয়া ব্যবসায়ী আবুল বাছেদ বাচ্চুর ছেলে আরিফ মিয়ার সাথে লিমনের বিরোধ চলছিল। এরই জের ধরে গত ৪ নভেম্বর আরিফ, লিমন সহ তার দুই বন্ধু অলি উল্লাহ ও রুবেলকে ডেকে নিয়ে বালু সরবরাহ দিতে নিষেধ করে এবং ৫ নভেম্বর গার্মেন্টেস মালিক জাহাঙ্গীরের কাছ থেকে বালু সরবরাহের বকেয়া টাকা পরিশোধের কথা বলে লিমন ও তার দুই বন্ধু অলি উল্লাহ ও রুবেলকে ডাকা হয়। বেলা ১টার সময় লিমন সহ তার দুই বন্ধু ঘটনা স্থানে পৌছালে আরিফ, মিঠু, সোলাইমান, হারিছুল, লিটন, ফারুক, আলমগীর, কবির, রোমান ও মন্টু সহ একদল সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র দিয়ে লিমনের উপর হামলা চালায়। ঘটনার সময় লিমনের দুই বন্ধু পালাতে সক্ষম হলেও লিমন গুরুত্বর আহত অবস্থায় পড়ে থাকে। পরে স্থানীয় এলাকাবাসী লিমনকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত ডাক্তার তাবে মৃত ঘোষনা করে। গত ৭ নভেম্বর নিহত লিমনের মা শেফালী আকন্ধ বাদী হয়ে উল্লেখিত ব্যাক্তিদের আসামী করে পলাশ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। লিমনের মাতা শেফালী আকন্ধ বলেন, আমার স্বামী ও অন্যান্য আত্মীয় স্বজনরা থানা পুলিশের নিকট বার বার ধর্না দিলেও তাদেরকে তেমন আমলে নিচ্ছে না পুলিশ। সেই সাথে মামলার তদন্ত এবং আসামী গ্রেফতারে পুলিশের কোন তৎপর ও দেখা যাচ্ছে না। এরই পেক্ষিতে গত ২৫ শে নভেম্বর লিমনের পরিবার পরিজন ও এলাকাবাসী হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবীতে নরসিংদী প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল পালন করে। এবং জেলা প্রশাসকের কাছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবর একটি স্মারক লিপি প্রদান করে। পরবর্তীতে আবারো গত ৭ ডিসেম্বর একই দাবীতে পলাশ উপজেলা চত্ত্বরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল পালন করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট একটি স্মারক লিপি প্রদান করে। এ ব্যাপারে পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস,এম শাহাদাত হোসেন জানান, লিমনের জানাযার সময় তার আত্মীয় স্বজনরা মাইকের মাধ্যমে হত্যাকারীদের নাম বলে দেওয়ায় সমস্ত আসামীরা গা ডাকা দিয়ে আছে। তবে অচিরেই সমস্ত আসামীদের আইনের আওয়তায় আনা হবে।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *