পিরানহা কাহিনী

2 (3)প্রথম সকাল ডটকম ডেস্ক: দক্ষিণ আমেরিকার স্বাদুপানির ভয়ঙ্কর রাক্ষুসে মাছের নাম পিরানহা। বাংলাদেশে এই মাছ কীভাবে এলো সেটা জানা না গেলেও ধারণা করা হয় থাইল্যান্ড থেকে প্রথম এই মাছ বাংলাদেশে আনা হয়। এ্যাকুয়ারিয়ামের বাহারি মাছ হিসেবে বাংলাদেশে এর আগমন হলেও প্রথমে উৎসাহী হ্যাচারি টেকনিশিয়ানের হাতে সফল প্রজননের পর এ্যাকুয়ারিয়ামের গণ্ডি ছাড়িয়ে চলে যায় চাষের পুকুরে। বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় এই মাছ চাষ ও বিক্রি হচ্ছে। রাক্ষুসে প্রজাতির এই মাছে রয়েছে শক্ত ও তীক্ষ্ণ দাঁত এবং শক্তিশালী চোয়াল। এ জন্য এরা খুব সহজেই শিকারি প্রাণীর দেহ ফুটো বা মাংস ছিঁড়ে নিতে পারে। সাধারণত এরা মাংসাশী স্বভাবের মাছ। পিরানহা লম্বায় সাধারণত ১৪-২৬ সেন্টিমিটার হয়। তবে কিছু কিছু প্রজাতির ক্ষেত্রে এরা ৪৩ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। আমাজনের অববাহিকায় বিশেষ করে ব্রাজিলের অরিনকো, গায়ানা ও প্যারাগুয়ের পারানা নদীতে এদের দেখা মেলে। পিরানহা মাছকে বাংলাদেশে বিক্রি করা হয় রূপচাঁদা মাছ হিসেবে। সাধারণ ভাবে রূপচাঁদার সাথে কিছুটা মিল থাকার কারণে অনেকে একে রূপচাঁদা মাছ হিসেবে ভুল করে থাকেন। অল্প দামে পাওয়া যায় বলে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কাছে এই মাছ দিনে দিনে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এখন বাজারে গেলে হরহামেশাই দেখা যায় এই দানবীয় মাছটিকে। কিছুটা লুকোচুরি কিছুটা প্রকাশ্যেই চলে বেচাকেনা। বাংলাদেশে প্রায় ২৬০ প্রজাতির স্বাদু পানির মাছ এবং ৪৭৫ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ রয়েছে। বাংলাদেশ মৎস্য সম্পদের দিক দিয়ে নিঃসন্দেহে অনেক সমৃদ্ধ। কিন্তু এ রকম বহিরাগত রাক্ষুসে মাছ আমাদের মৎস্য সম্পদের বিশাল ক্ষতি করতে পারে। পিরানহা নামের দানবীয় রাক্ষুসে মাছটি ছোট মাছ, বড় মাছ, গৃহপালিত পশু এমনকি মানুষ পর্যন্ত ভক্ষণ করতে পারে। পুকুরে এই প্রজাতির মাছ চাষের ফলে পুকুরে অবস্থিত দেশি প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। কোন ভাবে যদি পুকুর থেকে এই মাছ নদীতে চলে আসে তাহলে আমাদের মৎস্য সম্পদের জন্য এক মহা বিপর্যয় নেমে আসবে। পিরানহার রাক্ষুসে দাঁতের কবল থেকে রক্ষা পাবেনা স্বাদু পানির দেশি প্রজাতির মাছের ডিম এবং পোনা। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় আমাদের দেশে এখন দেদারে চাষ হচ্ছে এই রাক্ষুসে পিরানহা মাছ। এই পিরানহা মাছ যেন আর কোথাও চাষ, বিপণন ও সংরক্ষণ করা না হয় সেজন্য সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ সহ সকলকে সচেতন হতে হবে।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *