এই শীতে ঘুরে আসুন পিকনিক স্পটগুলো : পর্ব-৩

01 (6)প্রথম সকাল ডটকম: এখন চলছে শীতকাল। আর শীতকালে সবচেয়ে যে বিষয় সবাই করেন সেটা হলো পিকনিক বা বেড়ানো। কিন্তু পিকনিক বা বেড়ানোর জন্য অনেক সময় সঠিক জায়গা খুজে পাওয়া যায়না। তাই পাঠকদের জন্য আমরা আজ তুলে ধরলাম কয়েকটি পিকনিক স্পটগুলোর তথ্য:- রয়েল রিসোর্ট ধনবাড়ী, টাঙ্গাইল: জমিদারবাড়িতে থাকতে চাইলে যেতে পারেন রয়েল রিসোর্টে। এটি আসলে নবাব নওয়াব আলীর প্রাসাদ। এখানে আছে এলিফ্যান্ট গেট, ৭০০ বছরের পুরনো মসজিদ ও রাবার বাগান। দিঘিতে ভাসতে পারবেন, ঘোড়া নিয়ে ছুট দিতে পারেন। নবাব প্যালেস, ভিলা, কটেজ এবং বাংলো_এ চার ধরনে থাকতে পারেন। প্যালেসে থাকতে খরচ হবে তিন হাজার ৫০০ থেকে সাত হাজার টাকা। ভিলা এবং কটেজে খরচ হবে এক হাজার থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকা। বাংলোর ভাড়া দুই হাজার ৫০০ থেকে তিন হাজার টাকা। ঢাকার গাবতলী বা মহাখালী থেকে বাসে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গায় যেতে হবে। তারপর টাঙ্গাইল-জামালপুর সড়কে ৫০ কিলোমিটার এগোলে রয়েল রিসোর্টে। যোগাযোগ: ৯১৩০৯০০, .০১৯১১৯৫৬৩৫৭, ০১৭৪৯৪১৯৯৪০। যমুনা রিসোর্ট টাঙ্গাইল: ঢাকা থেকে ৯৫ কিলোমিটার এবং টাঙ্গাইল থেকে ১৯ কিলোমিটার দূরে বঙ্গবন্ধু সেতুর কাছেই আধুনিক একটি অবকাশ কেন্দ্র যমুনা রিসোর্ট। রিসোর্টের পশ্চিম পাশে যমুনার তীর ঘেঁষে এখানে আছে সাজানো গোছানো বনভোজন কেন্দ্র। যমুনা রিসোর্টে বনভোজনে যেতে হলে আগে থেকে যোগাযোগ করতে হবে এই নম্বরে ৮১৪২৯৭১-৩, ০১৭১১৮১৬৮০৭। এলেঙ্গা রিসোর্ট: টাঙ্গাইল: রাজধানী ঢাকা থেকে গাড়ি যোগে মাত্র দুই ঘণ্টার পথ। টাঙ্গাইল শহর থেকে সাত কি.মি. উত্তরে এলেঙ্গায় গড়ে উঠেছে ১৫৬.৬৫ হেক্টর জুড়ে এই রিসোর্ট। রিসোর্টের চারপাশজুড়ে বিভিন্ন গাছের সারি। একটা ছায়াঢাকা গ্রামীণ পরিবেশ। সঙ্গে আছে রেস্তোরাঁসহ নানা আধুনিক সুযোগ-সুবিধা। পাঁচটি ভিআইপি এসি স্যুট ছাড়াও আছে ১০টি এসি ডিলাক্স স্যুট, ১৬টি নানা-এসি কক্ষ, পাঁচটি পিকনিক স্পট, সভাকক্ষ, ছোট যাদুঘর ও প্রশিক্ষণ কক্ষ ইত্যাদি। খেলাধুলার জন্য রয়েছে টেনিস, টেবিল টেনিস, ব্যাডমিন্টন কোর্ট। বাড়তি সুযোগ হিসেবে আরও রয়েছে ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা ইত্যাদি। ছোটদের বিনোদনের জন্য গড়ে তোলা হয়েছে কিড্স রুম। আছে ঘোড়ায় চড়ার ব্যবস্থা ও হেলথ ক্লাব। বিভিন্ন ধরনের দেশী খাবারের পাশাপাশি রয়েছে চীনা, ভারতীয় ও কন্টিনেন্টাল খাবার। নৌ-ভ্রমণের জন্য রয়েছে ট্রলার, দেশীনৌকা ও স্পিডবোড। কাছেই টাঙ্গাইলের তাঁতিবাজার। ইচ্ছে করলে সেখান থেকে কেনাকাটাও করতে পারেন কোনো পর্যটক। এছাড়া রিসোর্টের নিজস্ব গাড়িতে বেড়ানো যায় করটিয়া জমিদারবাড়ি, মধুপুরের গড় আর ধনবাড়ীর জমিদারবাড়ি। ড্রিমল্যান্ড, গাইবান্ধা: গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলায় ১৭ একর জায়গার ওপর বিশাল এই বিনোদন কেন্দ্রটি গড়ে উঠেছে। পশ্চিম দিকে পড়বে “ড্রিমল্যান্ড”।এই বিনোদন কেন্দ্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য এবং আকর্ষণ হচ্ছে এখানে স্থাপন করা হয়েছে বাংলার কৃতী সনত্মান রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কবি নজরম্নল ইসলাম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বিশ্বের ২৫৫ মনীষীর আবক্ষ ভাস্কর্য। গোটা এলাকাতেই নানা ফল ও ফুলের সুদৃশ্য গাছসহ বিভিন্ন পশুপাখির মূর্তি, মিনি পার্ক, লাল শাপলা ফুলের পুকুর এবং পৃথক পৃথক পিকনিক স্পটও এখানে বিদ্যমান। মিনি চিড়িয়াখানায় এখন শুধু রয়েছে বানর। তবে কর্তৃপক্ষরা জানালেন, ঈগল, বনবিড়াল, খরগোশসহ বিভিন্ন ধরনের দেশী পাখি ও জীবজন্তু রাখার পরিকল্পনা তারা নিয়েছে। পাকশী রিসোর্ট। ঈশ্বরদী, পাবনা: যমুনা সেতু থেকে এক ঘণ্টার পথ পাকশী রিসোর্ট। পদ্মা নদীর পাড়ে ৩৬ বিঘা জমির ওপর এই রিসোর্ট। আছে তিন তলাবিশিষ্ট দুটি আধুনিক ভবন। প্রতিটি কক্ষই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। আসবাব অভিজাত, শয়নকক্ষে রয়েছে মখমলের বিছানা। রিসোর্টের “ষড়ঋতু” রেস্টুরেন্টে বাংলাদেশি, ইন্ডিয়ান, চাইনিজ ও থাই ডিশ পাবেন। জুস, বেকারি ও পেস্ট্রিশপও আছে। রিসোর্টের ভেতরে খেলতে পারেন লন টেনিস, বাস্কেট বল, ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস, বিলিয়ার্ড ইত্যাদি। ফুলবাগানে হাঁটতে পারেন, সুইমিং পুলে সাঁতার কাটতে পারবেন। ব্যায়ামাগারও আছে। রিসোর্টে আছে দেশি-বিদেশি প্রায় ৪০০ প্রজাতির গাছ। রিসোর্টের একেকটি রুমের ভাড়া চার হাজার টাকা। ঢাকার মহাখালী বা কল্যাণপুর থেকে বাসে পাকশী যাওয়া যায়। পাবনা, কুষ্টিয়া ও নাটোর শহর থেকে রিসোর্ট আধঘণ্টার পথ। যোগাযোগ: ০১৭৩০৭০৬২৫১, ০১৭৩০৭০৬২৫২। ফোন :০৭৩২-৬৬৩৬৬০হটলাইন: ০১৭৩০-৭০৬২৫৭। অরুনিমা কান্ট্রিসাইড নড়াইল : নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার মধুমতির তীরে পানি পাড়া গ্রামে প্রায় ৫০ একর জায়গা নিয়ে অরুনিমা কান্ট্রিসাইড রিসোর্ট। আধুনিক বাংলো, চিড়িয়াখানা, পুকুর, লেক, গোলাপ বাগান, বাটার ফ্লাই পার্ক, ছেড়াদ্বীপ, ঘোড়ার গাড়ি, গরুর গাড়ি, গলফ খেলার মাঠসহ আরো অনেক আয়োজন আছে অরুনিমায়। নানান গাছপালার মাঝে এখানে বনভোজন করতে ভালো লাগবে সবার।যোগাযোগ: ০১৭১১৪২২২০৩। চিত্রা রিসোর্ট নড়াইল: নড়াইল শহরের চিত্রা নদীর তীরে অবস্থিত চিত্রা রিসোর্ট। প্রায় সাত বিঘা জায়গাজুড়ে এ রিসোর্টে আছে কটেজ, শিশুপার্ক এবং চিত্রা নদীতে নৌ-ভ্রমণের ব্যবস্থা। বনভোজন, অবকাশ যাপন কিংবা পারিবারিক ভ্রমণের জন্য চিত্রা রিসোর্ট একটি উপযুক্ত জায়গা। যোগাযোগ:০১৭১৩০৬৩৬১০। নিরিবিলি বনভোজন কেন্দ্র, নড়াইল: নড়াইল জেলার লোহগড়া থানার রামপুরে অবস্থিত বনভোজন কেন্দ্র নিরিবিলি। প্রায় ১৪ একর জায়গা নিয়ে এ কেন্দ্রটিতে আছে চিড়িয়াখানা, জাদুঘর, এস এম সুলতানের শিল্পকর্ম নিয়ে একটি প্রদর্শনী গ্যালারি, রোপ ওয়ে, রেস্ট হাউস, ফুল ও ফলের বাগানসহ বনভোজন ও অবকাশ যাপনের সব ব্যবস্থা। যোগাযোগ :০১৭১১৬৯৩৭৮৮। ফয়ে’স লেক রিসোর্ট চট্টগ্রাম: ভ্রমণপ্রিয় মানুষের কাছে অত্যন্ত প্রিয় একটি স্থান ফয়ে’স লেক। একটু অবসর পেলেই সেখানে ছুটে যান বিনোদন প্রেমীরা। তাদের সেবায় ফয় স লেক কর্তৃপ প্রদান করে থাকে বেশকিছু সুযোগ-সুবিধা। যেমন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ, রঙিন ক্যাবল টেলিভিশন, রেস্টুরেন্ট, ক্রেডিট কার্ড সুবিধা, টেলিফোন, এটাচ বাথরুম, রুম সার্ভিস, গাড়ি পার্কিংয়ের সুবিধা, কেনাকাটা সুবিধা ইত্যাদি। ফয় স লেকে সাধারণত বিনোদনের জন্যই যাওয়া হয়। তাই বিনোদনের জন্য যা যা দরকার তার প্রায় সবই রয়েছে সেখানে। যেমন সেখানে রয়েছে মজার মজার সব রাইড। এ রাইডে ছোট বড় সবাই চড়তে পারে। রয়েছে বার্বি কিউ নাইটস, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা, লেকে নৌকা ভ্রমণ করার সুযোগ। এছাড়া প্রতিদিন স্বনামধন্য শিল্পীদের পরিবেশনায় জমকালো সঙ্গীতানুষ্ঠান তো থাকছেই। মহামায়া সেচ প্রকল্প মীরসরাই: নীল হ্রদ, পাহাড় ঘেরা পরিবেশ,সুউচ্চ অবস্থান, গাড়ী পার্কিং এর ভালো সুবিধা সবমিলে এ স্পটটি। অবস্থান হলো চট্টগ্রামের মীরসরাই অন্তর্গত ঠাকুর দিঘীর পুবে।কাউকে যেতে হলে প্রথম মীরসরাইয়ের মিঠাছরা বাজার পেড়িয়ে ঠাকুরদিঘী আসতে হবে, এটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পড়ে।এখান থেকে রাস্তার পুবদিকে দেড় কিঃমিঃ গেলেই প্রকল্প। চট্টগ্রামে ঠান্ডছড়ি রিসোর্ট, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নগরীর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ড এলাকায় নতুন একটি রিসোর্ট ও পিকনিক স্পট প্রতিষ্ঠা করেছে। এর নাম দেয়া হয়েছে ঠান্ডাছড়ি রিসোর্ট ও পিকনিক স্পট। দক্ষিণ পাহাড়তলীর ঠান্ডা ছড়িতে প্রায় ১০ একর জমি নিয়ে পর্যটকদের জন্য নতুন এ স্পটটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। পিকনিক স্পট প্রশান্তি রাঙামাটি: পাহাড়, নদী ও প্রাকৃতিক নৈসর্গিক সৌন্দর্যের মাঝে গড়ে উঠেছে পিকনিক স্পট প্রশান্তি। এ পিকনিক স্পটটি বন বিভাগের আওতাধীন। কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে ছায়া নিবিড় পরিবেশে এটি গড়ে তোলা হয়েছে। আসামের লুসাই পাহাড় থেকে নেমে আসা কর্ণফুলী নদীর কোলঘেঁষে কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কের বালুরচরে এর অবস্থান। কাপ্তাইয়ের বিভিন্ন পর্যটন স্পটের মধ্যে এটি একমাত্র সরকারি বন বিভাগ নিয়ন্ত্রিত। বনজসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের উদ্দেশে ২০০২ সালে কাপ্তাই ও কর্ণফুলী রেঞ্জের প্রায় ১৩ হাজার একর বনভূমিকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়। জাতীয় উদ্যানে পর্যটকদের আকর্ষণ বৃদ্ধি ও বিনোদনের জন্য ২০০৪ সালে তৈরি করা হয়েছে প্রশান্তি পিকনিক স্পট। টুক টুক রিসোর্ট রাঙামাটি: পাহাড় ঘেরা টুক টুক রিসোর্ট আপনার মন কেড়ে নেবে দ্রুত। কটেজ আছে চারটি। লোকেশনের ওপর কটেজের ভাড়া নির্ভর করে ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা। রেস্টুরেন্টে পাহাড়ি খাবারও পাবেন। এখান থেকে সুবলং ঝরনা ও পেদা টিং টিং রেস্টুরেন্ট কাছে। রাঙামাটি সদরের রিজার্ভ বাজার গিয়ে ইঞ্জিনবোটে বালুখালী ঘাটে নামতে হবে। রিসোর্ট ঘাটেও নামতে পারেন। যোগাযোগ: ০১৫৫৬৬৪৩১২৮।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *