কঠোর পরিশ্রমী সেলিনার গল্প

7485 (3)প্রথম সকাল ডটকম: অদম্য পরিশ্রম আর সাহসিকতার সঙ্গে পোল্ট্রি ও ডেইরি ফার্ম করে স্বাবলম্বী হয়েছেন কক্সবাজার শহরের কলাতলীর নয়ন সেলিনা নামের এক নারী। এর মধ্যে দিয়ে তিনি এক সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে সুনাম অর্জন করেছেন। কক্সবাজার শহরের কলাতলীতে ৩০ শতক জমিতে নিজের হাতে গড়ে তোলা প্রকল্পে দিন-রাত কঠোর পরিশ্রম করে তিলে তিলে দাঁড় করিয়েছেন তার স্বপ্ন বিস্তারের পরিকল্পাগুলো। জীবন-সংসারে যুদ্ধ করে ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছেন ওই অদম্য নারী। কোনো বাধাই তাকে দমাতে পারেনি। তিনি কর্মের গুণে  কক্সবাজারে এক মডেল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে সবার কাছে সম্মানিত হয়েছেন। ১৯৯৫ সালে তিনি ১০০ লেয়ার মুরগি দিয়ে পোল্ট্রির যাত্রা শুরু করেন। বর্তমানে তার প্রকল্পের মধ্যে লেয়ার (ডিম পাড়ার) মুরগি রয়েছে ৬ হাজার, ব্রয়লার (মাংসাশী) মুরগি রয়েছে ৪ হাজার, ডেইরি ফার্মে রয়েছে ১৮টি পিজিয়াম বিদেশি গাভী। যেগুলো থেকে প্রতিদিন ৮০ লিটারের মতো দুধ পান, তা দিয়ে তিনি শহরবাসীর দুধের চাহিদা মিটিয়ে থাকেন। এছাড়া তিনি ১০টি ছাগল, প্রায় ১০০ জোড়া কবুতর পালন করে আসছেন। এতেও তার ভাগ্যের চাকা ঘুরেছে। প্রতি ১৫-২০ দিন পর ২০ জোড়া কবুতরের বাচ্চা আসে। আর এ থেকে তার বার্ষিক আয় হয় ২ লাখ টাকা। বর্তমানে তার প্রকল্পে ৮ শ্রমিক নিয়মিত (মাসিক বেতনে) কাজ করছে। এদিকে ৬ হাজার লেয়ার মুরগি থেকে দিনে গড়ে ৫ হাজার ডিম হয়। বর্তমানে ডিমের বাজারদর কম থাকায় তিনি প্রতিদিন প্রায় আড়াই হাজার টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন বলে জানান। এছাড়া মাঝেমধ্যে মুরগির খাদ্যের দাম বেড়ে যায়। তবে এবার তিনি বিপ্লব ঘটিয়েছেন ব্রয়লার মুরগির ক্ষেত্রে। অধিক পরিচর্যা আর যতেœর কারণে মাত্র ২৮ দিনে প্রতি মুরগির ওজন ২ কেজি ২০০ গ্রাম থেকে ২ কেজি ৪০০ গ্রাম পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় তিনি লাভের মুখ দেখেছেন। এই থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকার মতো আয় হবে বলে ধারণা করছেন তিনি। কক্সবাজারের প্রথম উদ্যোক্তা তিনি। তার ফার্মের বর্জ্যগুলো দিয়ে বায়োগ্যাস প্লান্ট তৈরি করেছেন। এ থেকে যে গ্যাস উৎপন্ন হয় তা দিয়ে তার সংসারের পুরো মাসের জ্বালানির চাহিদা মিটে যায়। এছাড়া তিনি বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য যে পরিকল্পনা করেছিলেন তা ভেস্তে গেছে অর্থায়নের অভাবে। ব্যাংক থেকে তিনি যে সহযোগিতা পাওয়ার কথা তা পাচ্ছেন না বলে ওই প্রকল্পের কাজ স্থগিত রয়েছে। এজন্য তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক ও কৃষি ব্যাংক, কক্সবাজার শাখার কর্মকর্তাদের দোষারোপ করেন এবং তাদের সদিচ্ছা না থাকার কারণে যথাসময়ে কোনো সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না বলে জানান। নয়ন সেলিনা জানান, ব্যাংক তার সঙ্গে বারবার প্রতারণা করে আসছে। তাকে যেভাবে সহযোগিতা দেওয়ার কথা তারা তা দিচ্ছে না। ফলে তিনি পরিকল্পনা অনুযায়ী এগুতে পারছেন না। এজন্য তিনি সরকারের উচ্চমহলের সহযোগিতা কামনা করছেন। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা ঠিকমতো সহযোগিতা না করারও। বর্তমানে তিনি সমাজ সেবায় নিয়োজিত। আশপাশের গরিব অসহায় পরিবারের মেয়েদের নিজ খরচে বিয়ের ব্যবস্থা করছেন তিনি। এজন্য প্রতিবেশীরা তাকে উপকারী সেলি আপা বলে ডাকে। সব সুযোগ-সুবিধা যদি ঠিকভাবে পান তাহলে কক্সবাজারের ডিম, দুধ ও মুরগির চাহিদা পূরণ করে আশপাশের জেলাগুলোর চাহিদা পূরণে সক্ষম হবেন এই সফল নারী উদ্যোক্তা। -এই সময়ের  সৌজন্যে

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *