২০১৪ সাল : সিলেটের আলোচিত ১৩ হত্যাকাণ্ড

01 (101)প্রথম সকাল ডটকম (সিলেট): শুরু হলো নতুন বছর। নতুন বছরে সব কিছু নতুন করে শুরু করার পালা। এভাবেই বছর যায়, নতুন বছর আসে। কিন্তু ফেলে আসা বছরকে ঘিরে থেকে যায় নানা ঘটনা আর দুর্ঘটনার স্মৃতি-বিস্মৃতি। ৩৬৫ দিনের আরেকটি বছর ২০১৪ সাল পার হলো। বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে ইংরেজী নববর্ষ ২০১৫। ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সিলেটে অনেক ঘটনাই ছিল নানা কারণে আলোচিত-সমালোচিত। অসংখ্য চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি আর লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। অনেক অপরাধের মধ্যে আলোচনার শীর্ষে ছিল ১৩টি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড। যেগুলো সিলেটবাসীকে করেছে হতাশ। করেছে ব্যথিত, ছড়িয়েছে আতঙ্ক। বাড়িয়েছে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা। শুধু সিলেট মহানগরীর ৬ থানা এলাকায় ৪১টি হত্যা মামলা হয়েছে। এরমধ্যে কোতোয়ালী, জালালাবাদ ও এয়ারপোর্ট থানায় মোট ২১টি এবং দক্ষিণ সুরমায় ৭টি, মোগলাবাজার ৮টি এবং শাহপরান থানায় ৫টি হত্যা মামলাসহ মোট ২০টি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। এত হত্যাকাণ্ডকে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন সিলেটের সচেতন মহল। আর মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, এসব হত্যাকাণ্ড ঘটেছে পারিবারিক কলহ, জায়গা জমির বিরোধ আর লাশ অজ্ঞাত যাদের পরিচয়ই ঠিকমত শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের মাঝে ২৬ জানুয়ারি মদনমোহন কলেজছাত্র সোহানুর রহমান সোহানকে তার ছোট বোনের সামনে কুপিয়ে হত্যা, ২৫ এপ্রিল জাফলংয়ে দেবরের হাতে দুই ভাবি, জগন্নাথপুরে ভাতিজার হাতে চাচা ও ধর্মপাশায় বাবার হাতে ছেলে খুন, ৪ জুন সন্ধ্যায় সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের এমবিবিএস চতুর্থ বর্ষের ছাত্র, কলেজ ছাত্রদলের আপ্যায়নবিষয়ক সম্পাদক তাওহীদুল ইসলাম তৌহিদকে কুপিয়ে হত্যা, ২৭ জুন সন্ধ্যায় শিবিরের কায়দায় রগকেটে প্রতিপক্ষ গ্রুপের হাতে মহানগর ছাত্রদল নেতা জিলু খুন, ১১ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ২টায় জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মখলিছুর রহমান দৌলাকে হত্যা, ১৫ সেপ্টেম্বর সিলেটের মদন মোহন কলেজছাত্র সোহান হত্যা মামলার আসামি ছাত্রদল কর্মী কামাল আহমদকে কুপিয়ে হত্যা, ২৩ অক্টোবর বালাগঞ্জ সদর উপজেলার পূর্ববাজার জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুল হামিদ শুকুর ওরফে কালা হুজুর ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক আরশ আলীর লাশ ৬ দিন পর উদ্ধার, ২৪ অক্টোবর কোম্পানীগঞ্জের পাথর ব্যবসায়ী আব্দুল আলীকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা, ২০ নভেম্বর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিবিএর শিক্ষার্থী ছাত্রলীগ কর্মী সুমন চন্দ্র দাসকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ছিল সর্বত্র আলোচিত। কলেজছাত্র সোহান হত্যা : ২০১৪ সালের প্রথম মাস ২৬ জানুয়ারি মদনমোহন কলেজছাত্র সোহানুর রহমান সোহানকে তার ছোট বোনের সামনে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ওই দিন দুপুর আড়াইটার দিকে নগরীর লামাবাজার পুলিশ ফাঁড়ির কাছে সোহানকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত সোহান সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রাক্তন মহিলা কাউন্সিলর, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় নেত্রী শাহানা বেগম শানু ও খুলিয়াপাড়া ৫২/৪ নম্বর বাসার স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা তাজুল ইসলামের ছেলে। সোহান সিলেট মদন মোহন কলেজের মানবিক বিভাগের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিল। জানা গেছে, নগরীর জিন্দাবাজারস্থ একটি কিন্ডার গার্টেন থেকে ছোট বোন নুশরাত জাহান স্বর্ণাকে নিয়ে খুলিয়াপাড়া বাসায় ফিরছিল সোহান। লামাবাজার পুলিশ ফাঁড়ির কাছে আসার পর কয়েকজন সন্ত্রাসী তার গতিরোধ করে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে সোহানকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। একদিনে চার খুন : ২৫ এপ্রিল সিলেটে পৃথক চার স্থানে ৪টি খুনের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে জাফলংয়ে দেবরের হাতে দুই ভাবি, জগন্নাথপুরে ভাতিজার হাতে চাচা ও ধর্মপাশায় বাবার হাতে ছেলে খুন হন। জানা যায়, সিলেটের সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাট উপজেলার পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের পান্তুমাইয়ে মুর্তাগাছ নিয়ে বিরোধের জেরে দেবরের হাতে খুন হয়েছেন দুই ভাবি। দুপুরে বাড়ির সীমানায় মুর্তা গাছের মালিকানা নিয়ে ঝগড়ার একপর্যায়ে জোড়া খুনের ঘটনা ঘটে। নিহত হন উপজেলার পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের পান্তুমাই গ্রামের আজির উদ্দিনের স্ত্রী হাসিনা বেগম ও জমসু উদ্দিন মিয়ার স্ত্রী মালেকা বেগম। তাদেরকে হত্যা করার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয় ঘাতক দেবর মোহন মিয়াকে। ওই দিন সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলায় ভাতিজার ঘুষিতে চাচা মারা যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। নিহত নজির আলী উপজেলার চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের গাধিয়ালা গ্রামের বাসিন্দা। পূর্ববিরোধের জের ধরে ভাতিজা এমরান মিয়ার সঙ্গে তার আপন চাচা নজির আলী প্রাণ হারান বলে অভিযোগ ওঠে। ওইদিন সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরহাটি ইউনিয়নের কুড়িকাহনিয়া গ্রামে বাবার হাতে খুন হন ছেলে। পারিবারিক কলোহের জের ধরে আব্দুল কুদ্দুস তার ছেলে আজগর আলী ওরফে শাহজানকে হত্যা করেন বলে অভিযোগ উঠে। মেডিক্যালছাত্র তৌহিদ হত্যা : ৪ জুন সন্ধ্যায় সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের এমবিবিএস চতুর্থ বর্ষের ছাত্র তৌহিদুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগ ক্যাডাররা। সন্ধ্যায় আবু সিনা ছাত্রাবাসের ১০০৩ নম্বর কক্ষে তাওহীদকে কুপিয়ে আহত করে একই কলেজের ছাত্র ছাত্রলীগ ক্যাডাররা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাওহীদুল ইসলাম তাওহীদকে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে রাত ৯টার দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত তাওহীদ কলেজের এমবিবিএস চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তিনি মা-বোনের সঙ্গে নগরীর কাজলশাহ এলাকায় থাকতেন। তাদের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরে। তৌহিদ সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ ছাত্রদলের আপ্যায়নবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। তার মৃত্যুকে ঘিরে সিলেট ছাত্রদলে আন্দোলনের ঝড় ওঠে। ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ তখন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ছাত্রদল নেতা জিলু হত্যা : ২৭ জুন সন্ধ্যায় শিবিরের কায়দায় রগকেটে একই দলের প্রতিপক্ষ গ্রুপের হাতে মহানগর ছাত্রদল নেতা জিলু খুন হন। ওই দিন জিলুর সহকর্মীরা জানান, সন্ধ্যায় কুপিয়ে হত্যা করা হয় জিলুর হক জিলুকে। হত্যার আগে জিলু ও ছাত্রদল নেতা ভূলনকে একটি বাসায় নেওয়া হয়। বাসা থেকে বের হওয়ার পর মদিনা মার্কেটের একটি পেট্রোলপাম্প সংলগ্ন গলিরমুখে পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাকে হত্যা করে। হামলার সময় ভূলন একটি বাড়িতে পালিয়ে আশ্রয় নেন। কিন্তু জিলুকে এলোপাতাড়ি কুপায় দুর্বৃত্তরা। তাকে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। এ হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করতে ছাত্রদলের একটি গ্রুপ টানা আন্দোলন করে। এ ঘটনায় ছাত্রদলের অন্য নেতার বাড়িতেও হামলা ভাঙচুর করা হয়। আওয়ামী লীগ নেতা দৌলা খুন : গত ১১ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ২টায় সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের নিজপাট লামাপাড়া মোরগা ব্রিজের পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় দৌলাকে ফেলে যায় দুর্বৃত্তরা। তাকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়। দৌলা দীর্ঘ ১৮ বছর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন নিজপাট ইউপির প্রাক্তন চেয়ারম্যান ও এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। জানা যায়, কোটি টাকার জায়গার জন্য দৌলাকে হত্যা করা হয়। তাকে খুন করার জন্য আগে বৈঠক করা হয়। বৈঠকে দৌলাকে খুন করতে আড়াই লাখ টাকা চাঁদাও তোলা হয়েছিল। এরপরই দুলাল ও তার সহযোগীদের হাতে খুন হন প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা দৌলা। দৌলা হত্যা মামলায় গ্রেফতার হওয়া দুই আসামি আদালতে ১৬৪ ধারা জবানবন্দিতে এমন তথ্য জানিয়েছিল। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৪র্থ আদালতের বিচারক মো. কুদরাত-ই-খোদার আদালতে আসামি সমছর উদ্দিন ও নজরুল ইসলামের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। ছাত্রদল কর্মী কামাল খুন : ১৫ সেপ্টেম্বর সিলেটের মদন মোহন কলেজছাত্র সোহান হত্যা মামলার আসামি ছাত্রদল কর্মী কামাল আহমদকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। কামাল প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হন বলে অভিযোগ ওঠে। তিনি ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। গলাসহ বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে তাকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ওই দিন রাত ৮টার দিকে নগরীর কুয়ারপাড় এলাকায় নিজ বাসার সামনে তাকে হত্যা করা হয়। কামাল আহমদ একই এলাকার নীলিমা-২৩ নম্বর বাসার মৃত সুরুজ আলীর ছেলে এবং সোহান হত্যা মামলার আসামি ছিলেন। ইমাম ও অটোরিকশা চালক খুন : ২৩ অক্টোবর বালাগঞ্জ সদর উপজেলার পূর্ববাজার জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুল হামিদ শুকুর ওরফে কালা হুজুর ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক আরশ আলীর লাশ ৬ দিন পর উদ্ধার করে পুলিশ। উপজেলার ইলাশপুর বড়চর গ্রামের এক প্রবাসীর স্ত্রী আফিয়া বেগমের বাড়িতে দিনভর অভিযান চালিয়ে সন্ধ্যায় বাথরুমের বাথটবের নীচে গর্ত থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়। আব্দুল হামিদ ওরফে কালা হুজুর দীর্ঘদিন ধরে বালাগঞ্জ পূর্ববাজার জামে মসজিদে ইমামতি করে আসছিলেন। অটোরিকশাচালক আরশ আলী উপজেলার কাশিপুর গ্রামের মৃত বাহার উলার ছেলে। খুন করে লাশ গুম করার চেষ্টা উম্মোচনের খবর পেয়ে ওই দিন দুপুর থেকে আফিয়া বেগমের বাড়ি ঘেরাও করে ভাঙচুরের চেষ্টা চালায় হাজার হাজার মানুষ। খবর পেয়ে বালাগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আটক করে আব্দুল হামিদ ওরফে কালা হুজুরের শ্যালিকা আফিয়া বেগম, তার ছেলে মারজানুল আলম শিমুল, শাকিল আহমদ ও শারমিনকে। লাশ দুটি ঘরের বাথরুমের বাথটবের নীচে গর্ত করে মাটি চাপা দিয়ে উপরে পাকা ঢালাই দেয় হত্যাকারীরা। ১৮ অক্টোবর শনিবার রাত ১০টার দিকে বালাগঞ্জ পূর্ব বাজার জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফেজ আব্দুল হামিদ ওরফে আব্দুস শুকুর কালা হজুর বালাগঞ্জ বাজার থেকে সিএনজি অটোরিকশাযোগে তাজপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। এরপর থেকে তাদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। ৬ দিন পর ২৩ অক্টোবর তাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পাথর ব্যবসায়ী আব্দুল আলী হত্যা : ২৪ অক্টোবর কোম্পানীগঞ্জের পাথর ব্যবসায়ী আব্দুল আলীকে কুপিয়ে ও গুলি হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ওই দিন সন্ধ্যায় কোম্পানীগঞ্জের কাটাখাল এলাকায় এ খুনের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে তার পক্ষের লোকজন তাকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আবদুল আলীর বাড়ি কোম্পানীগঞ্জ সদর গ্রামে। ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারির একজন প্রভাবশালী পাথর ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত আবদুল আলী যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। পাথর ব্যবসায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে তাকে খুন করা হয় বলে ধারণা পুলিশ ও তার পরিবারের। হত্যার ঘটনার পর কোম্পানীগঞ্জ এলাকায় একের পর এক ঘটে অপ্রীতিকর ঘটনা। হত্যার জের ধরে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয় আসামিদের বাড়িতে। ছাত্রলীগ কর্মী সুমন হত্যা : ২০ নভেম্বর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিবিএর শিক্ষার্থী ছাত্রলীগ কর্মী সুমন চন্দ্র দাসকে গুলি করে হত্যা করে একই দলের প্রতিপক্ষ গ্রুপের ছাত্রলীগ নেতারা। ওই দিন আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে ছাত্রলীগের কমিটি গ্রুপ ও পদবঞ্চিত গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় বন্দুকযুদ্ধে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। রক্তক্ষয়ী এই সংঘর্ষে ছাত্রলীগ কর্মী সুমন নিহত হয়। ওই দিন প্রক্টর ও পুলিশসহ কমপক্ষে ৪০ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় শাবি ক্যাম্পাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ছাত্রলীগের উভয়গ্রুপের বহিরাগত ক্যাডারদের প্রায় ১০০ রাউন্ড গুলি ছোড়ায় শাবিপ্রবিতে আতঙ্কের ক্যাম্পাসে পরিণত হয়। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও অধ্যাপক ড.ইলিয়াস উদ্দিন বিশ্বাসকে আহবায়ক করে ৩ সদস্যদের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এরপর সুমন দাশের পুরো পরিবার আওয়ামী লীগপন্থি হলেও একটি পক্ষ সুমনকে ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অপারগতা স্বীকার করে। এ নিয়ে ছাত্রলীগে শুরু হয় একের পর এক খোলা চিঠি প্রকাশ করা। ওই সংঘর্ষের ঘটনায় শাবিপ্রবিতে এখনও আতঙ্ক বিরাজ করছে। মহানগরে হত্যাকাণ্ড বেড়ে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (গণমাধ্যম) মো. রহমত উল্লাহ ও অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) জেদান আল মূসার বক্তব্য ছিল একই। তারা জানান, হত্যাকাণ্ডগুলোর মধ্যে পারিবারিক কলহই বেশি। আর অনেক লাশ নদীতে ভেসে আসে। কোনো কোনো লাশ ৫-৭ দিন পর খবর পেয়ে উদ্ধার করা হয়। সেক্ষেত্রে লাশের পরিচয়ও শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। উপপুলিশ কমিশনার রহমত উল্লাহ বলেন, ‘মদিনা মার্কেটে ছাত্রদলকর্মীকে দলের ছেলেরা খুন করে। আবার শাবিপ্রবিতে একজন মারা যায় দলীয় কোন্দলের কারণে সংঘর্ষে। অনেক হত্যার ঘটনা ঘটে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে। আমরা যে সকল ঘটনা পরিকল্পনার আগে জানতে পারি তা যেভাবেই হোক প্রতিহত করার চেষ্টা করেছি।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *