১০৬ বছরে জীবনের রেলগাড়ি

25 (5)আবদুল মান্নান পলাশ, চাটমোহর (পাবনা): তখনো কুয়াশার ধুঁয়াশা কাটেনি। বাবু পূজো থেকে কেবল উঠলেন। অপেক্ষা। অল্প বাদেই এলেন তিনি। লাঠিভর দিয়ে। কোমড়টা একটু বাঁকা। চোখে ভারী মোটা কাঁচের চশমা। পরনে ধুতি-গেঞ্জি। শুভ্র দাঁড়ি-চুল, গলায় রুদ্রাক্ষরের মালা। দাঁত না থাকায়, সব সময় মুখ নড়াচড়া করছেন। আমাদের দেখে দুইহাত একসাথে করলেন। উঠে দাঁড়িয়ে তাই করলাম। এলাম একটি খবরের সত্যতা যাচাইয়ে। দেখলাম তিনি নিজেই একটা জলজ্যান্ত খবর।  নাম সুধীর চন্দ্র দাস। জন্ম বাংলা ১৩১৫ সাল। সে হিসাবে ১০৬ বছর চলছে তার জীবনের রেলগাড়ী। পাবনার চাটমোহর উপজেলা শহর থেকে ৫ কিমি দূরের হরিপুর ইউনিয়ন সদর। সেখান থেকে কিলো খানেক গহিনে বিখ্যাত মৈত্রপাড়া। সেই পাড়ার বাসিন্দা এই শতবর্ষী। এই বিজয় দিবসে কথা হয় তার সনে। বলেন, ‘এই ইউনিয়নের আমার চাইতে বেশি বয়সের আর কেউ নাই।’ প্রশ্ন তুলি, ‘এতো বছর বেঁচে আছেন। কি পেলেন জীবনে? বলেন, ‘অনেক কিছু। শূন্য থেকে শুরু করেছিলাম। বাবা মরার পরে খাজনা বাকির দায়ে ৩৫ বিঘা জমি ঋন সালিশী বোর্ডের নিলামে উঠেছিল। জমিদাররা সব কিনে নিয়েছিল। আমি তখন ১১ বছরের শিশু। মামা-জেঠুর বাড়িতে কাজ করে বড় হয়েছি। অনেক কষ্ট করেছি। পেয়েছি অনেক। এই যে আমার ছেলে-মেয়ে, তাদের ছেলেমেয়ে অর্থাৎ নাতিপুতি দেখে যেতে পারছি। এটাতো কম কথা নয়। তাদের সংখ্যা এখন ২৯ জন। এটাই আমার জীবনের বড় পাওয়া। আরো অবাক করে দিয়ে বলেন, ‘৭০ বছর হলো, এক সূর্যে দুইবার আহার করি না। যখন বয়স ৩২ বছর। এই বাড়ির জমি কিনে ঘর তুলি। এই এলাকার আগশুয়াইল গ্রামের বাদল দাসের মেয়ে শান্তি রানী দাসকে ১১ বছর বয়সে ঘরে তুলি। তিনি এখনো আছেন। তবে পক্ষাঘাতে শয্যাশায়ী।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *