বিটিভি জাতীয় টেলিভিশন : প্রধানমন্ত্রী

152 (1)প্রথম সকাল ডটকম (ঢাকা): প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিটিভি কেবল সরকারের নয়, এটি জাতীয় টেলিভিশন। বিভিন্ন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে এর ব্যবহার বাড়াতে হবে। বিটিভি শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে যাবে। বিটিভিকে জনগনের মুখপাত্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে বলেও অঙ্গীকার করেন প্রধানমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর রামপুরায় বিটিভি ভবনে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যমটির সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বিটিভিকে ব্যবহার করে স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল অভিযোগ করে শেখ হাসিনা বলেন, অবৈধ ও অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা দখল করে সামরিক শাসক জিয়া (প্রয়াত জিয়াউর রহমান) শুধু স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার-আলবদরদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবেই প্রতিষ্ঠিত করেননি, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং আদর্শকে মুছে ফেলার ঘৃণ্য পরিকল্পনা নিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়াসহ ৭৫ পরবর্তী সামরিক শাসকেরা বিটিভিকে ব্যবহার করেছেন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির হাতিয়ার হিসেবে। রাজধানীর রামপুরা বাংলাদেশ টেলিভিশন ভবনে জাঁকজমক পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে এর সুবর্ণজয়ন্তী উৎসব। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশের শিল্প সংস্কৃতি জগতের সকল মানুষের মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে বিটিভি ভবন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর দেশকে আবারও নব্য পাকিস্তান বানানোর ষড়যন্ত্র শুরু হয়। জাতীয় সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান বিটিভি-বেতারে জাতির পিতার নাম উচ্চারণ নিষিদ্ধ করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের অবিনাশী শ্লোগান জয়বাংলা নিষিদ্ধ করে। রাজাকার, আল-বদর, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ইত্যাদি শব্দগুলো উচ্চারণ করা যেত না। স্বাধীন বাংলা বেতারের জাগরণী গানগুলো বিটিভিতে নিষিদ্ধ ছিল। এ অবস্থার আজ উত্তরণ হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং আদর্শ সম্পর্কে অনেক বেশি সচেতন। আর এটা সম্ভব হয়েছে জাতীয় সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকার কারণে। তিনি বলেন, ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার জাতীয় সম্প্রচার মাধ্যমে মিথ্যাচার বন্ধের উদ্যোগ নেয়। স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে বিটিভি-কে তার জাতীয় দায়িত্ব পালনের সুযোগ করে দেয়। শেখ হাসিনা বলেন, জাতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিটিভি এখন সাধারণ মানুষের আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন, নির্মল বিনোদন এবং রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা মাথায় রেখে অনুষ্ঠান ও সম্প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিশ্বব্যাপী বাঙালি সংস্কৃতির পরিচিতি, প্রসার ও ঐতিহ্য রক্ষায় বিটিভি প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। কৃষির উন্নয়ন, শিক্ষার প্রসার, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, নারীর ক্ষমতায়ন, বাল্যবিবাহ রোধ, বৃক্ষরোপণ, পরিবেশ রক্ষা, সামাজিক-গণসচেতনতা সৃষ্টিসহ ও নানা উন্নয়নমূলক অনুষ্ঠান প্রচারের মাধ্যমে বিটিভি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারের রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়ন ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে এসব অনুষ্ঠান তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জঙ্গিবাদ নির্মূল এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে জনমত সৃষ্টিতেও বিটিভি’র ভূমিকা প্রশংসনীয়। তবে, বিটিভিকে বেসরকারি চ্যানেলগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করারও তাগাদা দেন প্রধানমন্ত্রী। ১৯৬৪ সালের ২৫শে ডিসেম্বর তৎকালীন ডিআইটি ভবনে টেলিভিশনের কার্যক্রম শুরু হয়। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর নামকরণ করেন ‘বাংলাদেশ টেলিভিশন’।

 

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *