ক্যানসার প্রতিরোধে ফুলকপি

01 (3)প্রথম সকাল ডটকম: এখন শীতকার। আর শীত মানেই হলো নানান খাবারের সমারোহ। তার মধ্যে আবার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার হচ্ছে শীতের সবজি। শীতকালে মাঠে মাঠে থাকে হরেক রকম সবজি সেগুলো যেমন সুস্বাদু তেমনি উপকারি। শীতে যত সবজি আমরা খেয়ে থাকি তার ভিতর সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো ফুলকপি। ফুলকপি নানাভাবে রান্না করে খেয়ে আমরা আমাদের রসনা তৃপ্ত করে থাকি। ফুলকপি ভাজি, রান্না,পাকোড়া, রোষ্ট ইত্যাদি করে যেমন খাওয়া যায় তেমনি আবার পোলাও, নুডুলস,খিচুড়ীতেও ফুলকপি দিয়ে রান্না করলে তা খেতে হয় সুস্বাদু আবার তেমনি উপকারিও বটে। ফুলকপি নানা খাদ্যগুনে ভরপুর। ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে বড়রা পর্যন্ত সবাই অনায়াসে ফুলকপি খেতে পারে। এছাড়া এই সবজি খেতে সুস্বাদু বিধায় ছোট বড় সবাই পছন্দও করে। শীতকালে নিয়মিত ফুলকপি খাওয়া হলে আমাদের শরীর যেমন অনেক রোগ থেকে দুরে থাকবে তেমনি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়বে। ফুলকপিতে নানান ভিটামিন ও খনিজ উপাদান বর্তমান। এছাড়া এতে ক্যালরিও অনেক কম। ফুলকপিতে আছে ভিটামিনি এ ও সি। যা শীতকালে জ্বর, সর্দি, কাশি প্রতিরোধ করে।এছাড়া ভিটামিন এ চোখের জন্যেও অত্যন্ত উপকারি।উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যেও ফুলকপি প্রয়োজন। কেননা এ দুটি রোগ কমাতে ফুলকপি সাহায্য করে। ক্যান্সার রোগ প্রতিরোধে ফুলকপির বিশেষ ভূমিকা আছে। এটি ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করে। পাকস্হলী, প্রোষ্টেট,স্তন ও ডিম্বাশয় ক্যান্সার প্রতিরোধের ব্যাপারে ফুলকপি বিশেষ ভূমিকা রাখে। ফুলকপিতে আছে আয়রন, পটাশিয়াম,সালফার ও ক্যালসিয়াম। যা আমাদের শরীরের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় ও উপকারী। বিশেষ করে ক্যালসিয়াম সবার জন্যই ভীষন দরকার। ফুলকপির ডাটা ও পাতাতেও আছে প্রচুর ক্যালসিয়াম। এটি আমাদের হাড় ও দাতের জন্য প্রয়োজন। ফুলকপিতে আছে আয়রন প্রচুর পরিমানে। তাই গর্ভবতী মা, শিশু ও অতিরিক্ত পরিশ্রম করা ব্যাক্তির জন্য ফুলকপি বিশেষ প্রয়োজন। জিহবায় ও মুখে ঘা হয় ভিটমিন বি ও সি এর অভাবে। এছাড়া তালুর উপরের ও নিচের চামড়া উঠে যায় বা ছিলে যায় এ দুটি ভিটামিনের অভাবে। এসব সমস্যা দুর করতে ফুলকপি সাহায্য করবে। যেহেতু ফুলকপিতে আছে প্রচুর পরিমানে আমিষ,প্রোটিন ও পটাসিয়াম তাই এটি কিডনি রোগীদের জন্য উপযোগী নয়। সুতারং যারা কিডনির জটিলতায় ভুগছেন তারা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ফুলকপি খাবেন। শীত মানেই সবজি, আর সে সবজির প্রথমেই আসে ফুলকপির নাম। কই মাছ দিয়ে ফুলকপি রান্না কিংবা ফুলকপির পাকোড়া কিংবা ফুলকপি দিয়ে অন্য কোন পদ তৈরী করা, সবই অনন্য, সবই সুস্বাদু। তবে ফুলকপির যে খাদ্যগুন তা পুরোপুরিভাবে পেতে হলে রান্না বা ভাজি নয়, ফুলকপি হালকা সিদ্ধ করে সামান্য গোলমরিচ ও বিট লবন ছিটিয়ে যদি খাওয়া যায় তাহলে সেটাই হবে সবচাইতে অসাধারন। ফুলকপি যেমন আমাদের রসনা তৃপ্ত করে তেমনি এর পুষ্টিগুন আমাদের শরীরকে ভাল রাখতে ও রোগ প্রতিরোধ করতে অনেক সাহায্য করে। তাই প্রিয় ফুলকপিকে আরও প্রিয় মনে করে প্রচুর পরিমানে খাওয়াটাই এখন কাম্য।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *