ত্বকের যত্নে কনা আলমের কিছু টিপস

প্রথম সকাল ডটকম: শীত আমাদের মাঝে চলে এসেছে। শীতে নানা রখম ত্বকের সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে। তাই এই শীতে ত্বকের কিভাবে যত্ন নিবেন সে বিষয় জেনে নিন আপনাদের অতিপরিচিত বিউটি এক্সপার্ট কনা আলমের কাছ থেকে। হাতের যত্নে:- অতিরিক্ত নেইলপলিশ ব্যবহার করা ক্ষতিকর। তাই মাঝেমধ্যে নখকে স্বাভাবিক অবস্থায় রাখা উচিত। ১. কাপড় কাচার পর হাত ভালো করে ধুয়ে ভেজা হাতে ম্যাসাজ ওয়েল মেখে নিন। এরপর খানিকটা লিকুইড সোপ নরম ব্রাশে নিয়ে হাতের কোণে জমা ময়লা বা মরা চামড়া ভালোভাবে পরিষ্কার করুন। তারপর হাতে ভালো কোনো ক্রিম লাগিয়ে নিন। ২. শীতে বাইরে বের হওয়ার সময় দুই হাতে অবশ্যই ময়েশ্চারাইজার মেখে নিবেন। ৩. শীতে ধুলোবালিতে দূষণ বেশি ছড়ায়। তাই এই সময় নখ বড় না রাখাই ভালো। ৪. বারবার হাত পানিতে ভেজালে ত্বক ফুলে ওঠে। শীতে এই সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করে। এ অবস্থায় হাত পানিতে কম ভেজানোই উত্তম। পায়ের যত্নে:- মানুষের একটি গুরুত্বপূর্র্ণ অঙ্গ পা। শীতে নানা কারণেই পায়ে সমস্যা দেখা দিতে পারে। ১. শীতে পা ফেটে যায়। পায়ের ফাটা প্রতিরোধে সতর্ক দৃষ্টি দিতে হবে। যেমন খালি পায়ে হাঁটা যাবে না, পায়ে ধুলো-ময়লা লাগলে সঙ্গে সঙ্গে তা পরিষ্কার করতে হবে, গোসলের সময় অমসৃণ মেঝে কিংবা ঝামা ইট বা গোড়ালি ঘষার উপকরণ দিয়ে ঘষে গোড়ালির মরা চামড়া দূর করতে হবে। গোসল বা প্রতিবার পা ধোয়ার পর ভালো করে মুছে এরপর তাতে ভেসলিন বা গ্লিসারিন লাগাতে হবে। ২. রাতে ঘুমানোর সময় কখনোই মোজা পরে শোবেন না। আর নাইলনের মোজা ব্যবহার না করে সুতির মোজা পরুন। ৩. প্রতিদিন গোসলের আগে তেল মেখে নিন। তারপর সাবান মেখে ক্রাবার দিয়ে পায়ের চামড়া, গোড়ালি, আঙুলের কোণ ও ধারগুলো পরিষ্কার করুন। পরিষ্কার করুন নেলব্রাশ দিয়ে নখের চারপাশ, মাঝখানের অংশও। ৪. প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে কোনো ভালো ক্রিম দিয়ে পা ম্যাসাজ করুন। ৫. সপ্তাহে অন্তত দুই-দিন উষ্ণ ও একদিন ঠান্ডা পানিতে পা ভেজাবেন। এতে শরীরের রক্তপ্রবাহ ভালো হয়। ত্বক চর্চার টিপস্:- ১. শীতের সাবান অবশ্যই যেন ময়েশ্চারাইজারযুক্ত হয়। সকালে ঘুম থেকে উঠে মুখ ধোয়ার পর, ঘর থেকে বের হওয়ার আগে, দুপুরে বা সকালে গোসলের পর, বিকেলে ঘুম থেকে উঠে কিংবা বাইরে থেকে ফিরে মুখ ধুয়ে প্রসাধনী লাগাতে হবে। মোটামুটি দিনে তিন-চারবার মুখে প্রসাধনী লাগালেই যথেষ্ট। ২. শীতে মুখের শুষ্কতা, রুক্ষতা দূর করার জন্য প্রথমত যেকোনো ভালো কোল্ডক্রিম ব্যবহার করুন। বিকল্প হিসেবে গ্লিসারিনও লাগাতে পারেন। ৩. যাদের মুখ তৈলাক্ত তারা ভিটামিন ‘ই’ ক্রিম মাখতে পারেন। এতে মুখ তেলতেলে লাগবে না এবং সজীব থাকবে। ৪. শীতের সংস্পর্শে যাদের ত্বক খুব বেশি রুক্ষ হয়ে যায় তারা পেট্রোলিয়াম অর্থাৎ ভেসলিন জেলি ব্যবহার করতে পারবেন। ৫. যেকোনো ক্রিম, ময়েশ্চারাইজার, গ্লিসারিন রাতে শোবার আগে মুখ ধুয়ে পরিষ্কার করে একটু বেশি করে লাগালে ভালো। আর এইসব ক্রিম সবসময়ই চোখের চারদিকে আলতোভাবে একটু বেশি লাগাবেন। শীতের ত্বকের যত্নে অলিভ ওয়েলও ব্যবহার করতে পারেন। ৬. শীতের সময় ঘর থেকে বের হওয়ার আগে শরীরের উন্মুক্ত স্থানে সানস্ক্রীন লাগানো, চোখে সানগ্লাস, প্রয়োজনে মাথায় হ্যাট পরতে পারেন। সঙ্গে ছোট ক্রিম রাখতে পারেন, রাখতে পারেন লিপজেল বা ভেসলিন। ৭. আয়েশ করে রোদে দাঁড়াবেন না। রোদ এড়িয়ে চলুন। যতক্ষণ রোদে থাকবেন মুখে ও শরীরের খোলা জায়গায় সানস্ক্রিন লাগিয়ে নেবেন। ৮. পথে রিকশায় যাওয়ার সময় হুড তুলে রাখবেন। ধুলোবালি থেকে যথাসম্ভব দূরে থকার চেষ্টা করবেন। ৯. এমন জামাকাপড় পরুন যাতে শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় থাকে।

This website uses cookies.