চিরনিদ্রায় প্রবীণ সাংবাদিক শেখ কল্লোল

প্রথম সকাল ডটকম (রংপুর): প্রবীণ সাংবাদিক শেখ কল্লোল আহমেদ আর নেই। বৃহস্পতিবার ভোর পৌনে পাঁচটায় মহানগরীর সেনপাড়ার নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মুত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৫৪ বছর। ২০১১ সালের শেষের দিকে প্রবীণ এই সাংবাদিক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। এসময় চিকিৎসকরা জানান, তার দু’টো কিডনীই অকেজো হয়ে গেছে। এরপর থেকে সাংবাদিকতার জগত থেকে একটু আড়ালে চলে যান তিনি। শারীরিকভাবে অচল হয়ে পড়া শেখ কল্লোল আহমেদ এর দীর্ঘ ৩ বছর বিছানার শুয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়েন। অবশেষে ‘ঘুম পাগল কল্লোল ভাই’ হিসেবে পরিচিত এ মানুষটি আজ না ফেরার দেশে। বাদ যোহর স্থানীয় সেনপাড়া জামে মসজিদে মরহুমের জানাযার নামাজ শেষে মুন্সিপাড়া কবরস্থানে তার দাফন কার্য সম্পন্ন হবে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। শেখ কল্লোল আহমেদ দীর্ঘ চল্লিশ বছর ধরে সাংবাদিকতায় জড়িয়ে ছিলেন। যার শুরু হয়েছিলো ছোট বেলার কবিতা-গল্প লেখনির হাতে খড়ি থেকে। দীর্ঘ এই পথচলায় শেখ কল্লোল আহমেদ ঢাকায় সাপ্তাহিক জনকণ্ঠ (বর্তমান দৈনিক জনকণ্ঠ) পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও ঢাকায় থাকাকালীন দৈনিক বাংলা, দৈনিক লাল সবুজ, দৈনিক ঢাকা রিপোর্ট, দৈনিক জনতা ও সংবাদে সময় কেটেছে তার। এরআগে রংপুরে সাপ্তাহিক মহাকালে কাজ করেন। ঢাকা থেকে রংপুরে ফিরে দৈনিক বিজলী ও দৈনিক দাবানলে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এসময় তিনি রংপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। সবশেষে দৈনিক দাবানল পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে তিনি কর্মরত ছিলেন। এদিকে তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সরফুদ্দিন আহেমদ ঝন্টু, সাবেক মন্ত্রী গোলাম মোহাম্মদ কাদের, দৈনিক দাবানল সম্পাদক ও সাবেক এমপি খন্দকার গোলাম মোস্তফা বাটুল, রংপুর জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মমতাজউদ্দিন আহমেদ, রংপুর প্রেসক্লাব সভাপতি একেএম ফজলুল হক, সেক্রেটারী ওয়াদুদ আলী,সাবেক পৌর চেয়ারম্যান কাজী মোঃ জুননুন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও মহানগর জাপার আহবায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, সদস্য সচিব এসএম ইয়াসির, জেলা জাপার আহবায়ক ও সাবেক এমপি মোফাজ্জল হোসেন মাষ্টার, সদস্য সচিব ও সাবেক এমপি এইচ এম শাহরিয়ার আসিফ, জেলা আওয়ামী লীগ সেক্রেটারী এ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রাজু, জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সাধারন সম্পাদক তৌহিদুর রহমান টুটুল, জেলা বিএনপি সভাপতি এমদাদুল হক ভরসা, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সামসুজ্জামান সামু, রংপুর রিপোর্টার্স ক্লাব সভাপতি সালেকুজ্জামান সালেক, সেক্রেটারী মোজাফফর হোসেন, সাংবাদিক ইউনিয়ন সেক্রেটারী সরকার মাজহারুল মান্নান প্রমুখ। শেখ কল্লোল আহমেদ এর মৃত্যুর খবরে তার সহকর্মীরাসহ রংপুরে কর্মরত ভিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা শেষবারের মতো দেখার জন্য ছুটে আসেন মরদেহের পাশে। এসময় সেখানে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন অনেকেই। উল্লেখ্য, সাংবাদিক কল্লোল আহমেদ ১৯৬০ সালের ২৮ জুলাই রংপুরে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতা প্রয়াত কবি শেখ আমানত আলী ও মাতা সুসমা আমানত ফাহমিদা। তিনি মৃত্যুকালে শেখ তমাল আহমেদ নামে একমাত্র পুত্র সন্তান ও স্ত্রী তাহ্মিনা আহমেদকে রেখে গেছেন। পুত্র শেখ তমাল আহমেদ এবছর রংপুর জিলা স্কুল থেকে অনুষ্ঠিত পঞ্চম শ্রেণীর প্রাথমিক সমাপণী পরীক্ষা (পিএসসি) দিয়েছেন।

This website uses cookies.