বিজ্ঞাপনের চুক্তিকারীদের গ্রেফতার করতে হবে : মমতা

প্রথম সকাল ডট কম ডেস্ক: কেন্দ্রের বঞ্চনা ও বিরোধীদের অপপ্রচারের অভিযোগে দলকে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলার নির্দেশ দিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ একইসঙ্গে সারদা তদন্ত নিয়ে তোপ দেগে মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, আইনি চুক্তি করার ‘দোষ’-এ যদি সৃঞ্জয় বোসকে গ্রেফতার করতে হয়, তবে যাঁরা সারদার সঙ্গে বিজ্ঞাপনের চুক্তি করেছিলেন, তাঁদেরও গ্রেফতার করতে হবে৷ কেন্দ্র চক্রান্ত করছে বলে অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, “ওরা উন্ন্য়নে পারছে না৷ কলকাতা থেকে দিল্লি, যত পারো চক্রান্ত করো, আমাদের দাবিয়ে রাখতে পারবে না৷ চুরি তো করিনি, তা হলে ভয়টা কোথায়? কতজনকে গ্রেফতার করবে? কতবড় জেল আছে তোমাদের? সবার মাথা নত করতে পারো, আমার মাথা নত করতে পারবে না৷ দিল্লি জয় তৃণমূল করবেই করবে৷ আমরা চ্যালেঞ্জ অ্যাকসেপ্ট করলাম৷ শুক্রবার দুর্গাপুরে বর্ধমান, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার কর্মীদের বৈঠকে কেন্দ্রের বিরু‌দ্ধে একশো দিনের কাজ-সহ বিভিন্ন্ প্রকল্পের টাকা বন্ধ করে রাজ্যের উন্নয়ন স্তব্ধ করার ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ তোলেন মমতা৷ জানান, পুজোর আগে থেকে ছ’মাস ধরে এক টাকাও দিচেছ না কেন্দ্র৷ অথচ রাজ্য সরকার তার ভাগের টাকা দিয়ে দিয়েছে৷ বিভিন্ন্ কেন্দ্রীয় প্রকল্পের ৫৫০০ কোটি টাকা দেয়নি কেন্দ্রীয় সরকার৷ যার মধ্যে শুধু একশো দিনের কাজের জন্যই প্রাপ্য দু’হাজার কোটি টাকা৷ দলীয় কর্মীদের মুখ্যমন্ত্রী তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়ে বলেন, “জনগণের টাকা না দিলে কলকাতা থেকে দিল্লি আমাদের আন্দোলন চলবে৷ ব্লকে ব্লকে হাঁড়ি নিয়ে মিছিল করুন৷ স্লোগান তুলুন, একশো দিনের কাজের টাকা দিতেই হবে৷ যারা গরিব মানুষকে বঞ্চনা করবে, তাদের ছেড়ে দেওয়া যাবে না৷ রাজনৈতিকভাবেই এই লড়াই হবে৷ সারদা কাণ্ডে সিবিআইয়ের তদন্ত যেভাবে চলছে, তাতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী৷ মিডিয়ার একাংশকে উদ্দেশ্য করে স্পষ্ট বার্তা, “নিজেদের ব্যবসার স্বার্থে বাংলাকে বিকিয়ে দেবেন না৷ কোনও একটি সংস্হা যদি চুক্তি করে থাকে, তবে আপনারাও চুক্তি করে বিজ্ঞাপন নিয়েছেন৷ এর জন্য কেউ একজন দোষী হলে অন্যরাও সমান দোষী৷ দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে মমতা বলেন, “মিথ্যা তথ্যের বিরু‌দ্ধে আমাদের পাল্টা প্রচার করতে হবে৷ গ্রামে গ্রামে পোস্টার-ফেস্টুন নিয়ে অপপ্রচারের বিরু‌দ্ধে প্রচার করুন৷ বলুন, গ্রামীণ উন্নয়নের টাকা কেন্দ্র কেন বন্ধ করেছে৷ রাজস্হান, গুজরাত, মধ্যপ্রদেশকে টাকা দিচেছ কেন্দ্র, বাংলাকে দিচেছ না কেন? এটা সাংবিধানিক অধিকার৷ মানুষের কাছে এসব তুলে ধরুন৷ কেন্দ্রকে কটাক্ষ করে তৃণমূলনেত্রী বলেন, “নিজেদের পাবলিসিটির জন্য যে টাকা খরচ হয়, সেটা গরিব মানুষকে দিলে তারা তো খেতে পাবে৷ আসলে এটা একটা সরকার চলছে না, জোতদারি চালছে৷ অ্যাটিটিউডটাই ফিউডাল ল্যান্ডলর্ড হয়ে গিয়েছে৷ মূলত জেলায় জেলায় এভাবে সম্মেলনের মধ্যে দিয়ে বিরোধীদের প্রচারের জবাব দেওয়ার পাঠ কর্মীদের দিচ্ছেন মমতা৷ এদিন তাঁর সভাস্হল উপচে পড়ে কর্মীদের ভিড়ে৷ এইসময় দলের জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব ও কর্তব্য মনে করিয়ে দিয়ে মমতা বলেন, গ্রামসভা, পঞ্চায়েত সমিতি, পুরসভা, সবাইকে একসঙ্গে গরিব মানুষের জন্য কাজ করতে হবে৷ যে কাজ করবে না, তার বিরু‌দ্ধে কড়া ব্যবস্হা নেবে দল৷ জেলা সভাধিপতি, বিধায়ক, সাংসদ ও স্হানীয় নেতৃত্বকে নিয়ে জেলা সভাপতিদের ‘কোর গ্রূপ’ তৈরি করার নির্দেশ দেন মমতা৷ বৃহস্পতিবার ও এদিন বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বর্ধমানের পাশাপাশি পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা পরিষদকে নিয়ে বৈঠক করেন তৃণমূলনেত্রী৷ এদিন মঞ্চ থেকেই উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিকে নিয়ে আলাদা করে পর্যবেক্ষণ বৈঠক করার জন্য পঞ্চায়েতমন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী৷ বৈঠকে ছিলেন মুকুল রায়, সুব্রত বক্সি, পার্থ চট্টোপাধ্যায়-সহ চার জেলার শীর্ষনেতৃত্ব৷ আগামী সপ্তাহের শুরুতে মুখ্যমন্ত্রী সরকারি সফরে উত্তরবঙ্গ যাচেছন৷ পরের সপ্তাহে সুন্দরবন৷

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *