অতিরিক্ত আদর বাচ্চাদের ক্ষতির কারণ

30 (5)প্রথম সকাল ডট কম ডেস্ক: ছোট বাচ্চারা তাদের বাবা মায়ের চেয়ে অনেক বেশি পছন্দ করে তাদের দাদা-দাদী বা নানা-নানীকে। কারণ যেকোনো ধরনের আহলাদ আর আবদার না চাইতেই পূরণ করেন এই দাদা-দাদী আর নানা-নানীরা। কিন্তু মাঝে মাঝেই তাদের এই অতিরিক্ত ভালোবাসা বাচ্চার ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অবাক লাগছে? ভাবছেন কীভাবে? আসুন, জেনে নেই। ১. পড়ার সময়ে গল্প শোনানো: বাচ্চাদেরকে দাদা-দাদী, নানা-নানীরা সময়ে বিভিন্ন ধরনের রূপকথা বা মজাদার গল্প শুনিয়ে থাকেন। বলেনও খুব মজা করে। আর এ কারণেই নাতিনাতনীরা বেশ আগ্রহ সহকারে গল্পগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনে। কিন্তু সারাক্ষণ, বিশেষ সময়ে পড়ার সময়ে এই গল্প শোনানোর কারণে এমনও হতে পারে যে নাতি-নাতনী পড়াশোনায় কম মনোযোগী হয়ে উঠছে। এই অতিরিক্ত আদর বাচ্চার পড়াশোনায় ক্ষতি করতে পারে। ২. চকোলেট কিনে দেয়া : চকোলেট খেতে প্রতিটি বাচ্চাই অনেক বেশি পছন্দ করে। তাই দাদু ভাইয়েরা নাতিনাতনীর মুখে একটুখানি হাসি দেখতেই চকোলেট কিনে দেন। কিন্তু এতেও বাচ্চার হতে পারে অভাবনীয় শারীরিক ক্ষতি। অতিরিক্ত চকলেট খাওয়ার ফলে দাঁত নষ্ট হওয়া থেকে বিভিন্ন শারীরিক ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। ৩. বিভিন্ন খেলার সামগ্রী কিনে দেয়া : খেলা করা বাচ্চাদের খুব প্রিয় একটি শখ। তাই এই মূল্যবান শখ পূরণ করে দিতেও দাদা-দাদী বা নানা-নানীরা বিভিন্ন ধরনের খেলার উপকরণ কিনে দেন। কিন্তু এই খেলার সামগ্রী পেয়ে বাচ্চারা পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে পড়ে। তাই এই বিষয়েও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। ৪. অল্প বয়সে ব্যয়বহুল কিছু কিনে দেয়া : বাবা মায়েরা মনে করেন বাচ্চাদের সাধারণত মূল্যবান কিছু কিনে দেয়া উচিৎ না। এতে তাদের চাহিদা আরও অনেক বেশি বেড়ে যায় এবং পরবর্তীতে অনেক দামী কিছুর জন্য জিদ করে বসে। দাদুভাইয়েরা এই ধরনের কাজ বেশিরভাগ সময়ে করে থাকেন। কারণ নাতিনাতনির কান্না তাদের থামিয়ে রাখতে পারে না। আর এর ফলেও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে বাচ্চারা। ৫. হাতে টাকা পয়সা দেয়া : বাচ্চারা দাদুভাইদের কাছে অনেক সময় বিভিন্ন ধরনের আবদার করে থাকেন। আর সেই আবদার না পূরণ করা পর্যন্ত দাদুভাইদের কাছেও খুব খারাপ লাগে। কারণ নাতি-নাতনীর মুখে কষ্টের ছাপ তারা কোনোভাবেই সহ্য করতে পারেন না। তাই অনেক সময় আবদার পূরণ করার জন্য তাদের নাতিনাতনীর হাতে টাকা পয়সা দিয়ে থাকেন। এই ব্যাপারটি মারাত্মক ক্ষতি করে বাচ্চাদের। প্রকৃতপক্ষে কোনো দাদা-দাদী বা নানা-নানীই তাদের নাতিনাতনীর অমঙ্গল চান না। তারা শুধু ভালোবাসার কচি মুখটার দিকে তাকিয়ে না বলতে পারেন না। তবে এই ধরনের অতি আদরের ফলে নাতি নাতনীর অবাধ ক্ষতি হয়ে যেতে পারে যা আর কোনোভাবেই পূরণ করা সম্ভব না।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *