পুলিশ কাজ করতে গিয়ে আত্মরক্ষার্থে গুলি করে

222 (1)প্রথম সকাল ডট কম ডেস্ক: ঢাকা মেট্রোপলিট পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেছেন, ‘আপনারা যাকে ক্রসফায়ার বলেন, আসলে তা ক্রসফায়ার না। পুলিশ কাজ করতে গিয়ে মাঝেমাঝে আত্মরক্ষার্থে গুলি করতে হয়। কোনো কোনো সময় এতে পুলিশ সদস্য আহত বা নিহত হয়ে থাকেন। তবে প্রতিটি ঘটনার বিভাগীয় তদন্ত করে দেখা হয়। সোমবার সকালে মগবাজার ট্রিপল মার্ডার মামলার প্রধান আসামি শাহ আলম খন্দকার ওরফে কালা বাবু মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সঙ্গে বন্ধুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার পরবর্তী এক সংবাদ বিফ্রিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘পুলিশের গুলি বর্ষণের প্রতিটি ঘটনার জুডিসিয়াল তদন্ত হয়। কোন অবস্থাতে গুলি ব্যবহৃত হয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হয়। কালা বাবু পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে কিনা তাও তদন্ত করে দেখা হবে। ঘটনার সময় উভয় পক্ষের গুলিবিনিময় হয়েছে। যে কারো গুলিতে সে নিহত হতে পারে। যুগ্ম কমিশনার বলেন, ‘মগবাজারে তিনজন খুনের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার বাদীকে (কালাচাঁন) ও সাক্ষিকে কালাবাবু দীর্ঘদিন ধরে হুমকি দিয়ে আসছিল। মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বাদীকে হত্যা করারও হুমকি দেয় তারা। তার এই হুমকি পুলিশ জ্ঞাত ছিল। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল জানতে পারে, মগবাজার এলাকায় কালাবাবু তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে বাদিকে হুমকি দিতে আসছে। এই খবর পেয়ে সোমবার ভোররাতে ডিবির দলটি মালিবাগের সুবিধাজনক স্থান ব্যাপারি পাড়ায় অবস্থান নেয়। এসময় কালাবাবু পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে যায়। সে এবং তার দলের সন্ত্রাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। গোলাগুলির একপর্যায় কয়েকজন পালিয়ে যায়। দুইজনকে পুলিশ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। তারা হলেন আল-আমিন এবং রাজীব হাসান। ঘটনাস্থলে একজনকে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। গ্রেফতারকৃত দুইজন পড়ে থাকা যুবকের পরিচয় নিশ্চিত করে জানান তিনিই কালাবাবু। তিনি বলেন, ‘কালাবাবুকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশী পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি, সাত রাউন্ড পিস্তলের গুলির খোসা, আট রাউন্ড বন্ধুক/শর্টগানে গুলির খোসা ও একটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘গ্রেফতারকৃত আল-আমিন দূর্ধর্ষ সন্ত্রাসী। রাজধানীর টিএন্ডটি কলোনিতে গুলি করে নিরাপত্তারক্ষি খুনের ঘটনায় সে অভিযুক্ত আসামি। ট্রিপল মার্ডারে কালাবাবুকে অস্ত্র সরবরাহ করেছে রাজীব। এই দু’জনকে আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ড চাইবে পুলিশ। তিনি আরো বলেন, ‘গোলাগুলির সময় পড়ে গিয়ে দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তারা রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি আছে। গতকাল রোববার মুগদায় তারেক ও তার পরদিন আজ (সোমবার) মালিবাগে কালাবাবু ডিবি পুলিশের সঙ্গে ‘বন্ধুকযুদ্ধে’ নিহত হয়। পরপর এই দুই বন্ধুকযুদ্ধে নিহতের ব্যাখ্যা দেন মনিরুল ইসলাম। বিফ্রিং শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় মনিরুল ইসলাম জানান, বেসরকারি টিভি চ্যানেলের ইসলামিক অনুষ্ঠানের উপস্থাপক নুরুল ইসলাম ফারুকী হত্যাকাণ্ডে দুইটি জঙ্গিগোষ্ঠির সম্পৃক্তাতা পেয়েছে পুলিশ। তাদের গ্রেফতারে কাজ চলছে। প্রসঙ্গত গত মাসের ২৮ আগস্ট রাতে মগবাজারের সোনালীবাগে সন্ত্রাসীদের গুলিতে বৃষ্টি ওরফে রানু (৩০), বিল্লাল (২৫) ও মুন্না (২০) নিহত হয়। রানুর ভাই গুলিতে গুরুতর আহত হয়। এই ঘটনায় নিহত রানুর ভাই কালাচাঁন বাদি হয়ে রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১৫ জন আসামি করা হয়। ইতিমধ্যে চার জন গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

 

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *