রহস্যে ঘেরা বনানীর ‘আত্মহত্যা’

ATTOHOTTA (2)প্রথম সকাল ডট কম ডেস্ক: বনানীতে স্বামী-স্ত্রী ‘খুন’ না ‘আত্মহত্যা’। সেই প্রশ্ন এখন সব মহলে। পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার পর ‘আত্মহত্যা’ বলা হলেও, প্রশ্ন উঠেছে কি এমন বিষয় ঘটল যার জন্যে ‘আত্মহত্যা’ করতে হলো এ দম্পতিকে? নাকি তাদের আত্মহত্যা করতে কেউ বাধ্য করেছে। সেই সব বিষয় আমলে নিয়ে নিহতের ছেলের দায়েরকৃত মামলার তদন্ত করছে পুলিশ। সোমবার রাতে রাজধানীর বনানীর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাড়ি থেকে পঞ্চাশোর্ধ্ব দম্পতির গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত দম্পতি হলেন ব্যবসায়ী আবদুর রব ও রোকসানা পারভীন। স্বজনেরা জানিয়েছেন, আফসার গ্রুপ নামে একটি শিল্পগোষ্ঠীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন আবদুর রব। তাদের এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর এ নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর নিহত দম্পতির ছেলে নাঈম আহমেদ বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় সোমবার রাতেই একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে। পারিবারিক কলহকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে বনানী কবরস্থানে তাদের মরদেহ দাফন করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত রোকসানার বুকের ডান পাশে গোলাকার ও পিঠের ডান পাশে গভীর ছিদ্র এবং আবদুর রবের ডান কানের নিচে গোলাকার ছিদ্র রয়েছে, যা বাঁ পাশ দিয়ে বেরিয়ে গেছে। এগুলো গুলির চিহ্ন বলে সুরতহাল রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পরিবারের পক্ষ থেকে আত্মহত্যা দাবী করা হলেও পুলিশ বিষয়টি শুধু আত্মহত্যা হিসেবে দেখছে না। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহকৃত আলামতের পরীক্ষা শেষে এই বিষয়ে পরিস্কার হতে পারবে। অপমৃত্যুর মামলা হলেও পুলিশ আবদুর রবের ব্যবসায়িক বিষয়, পারিবারিক দ্বন্দ্ব এবং ব্যক্তিগত শত্রুতাসহ বিভিন্ন বিষয় আমলে নিয়ে তদন্ত করছে। এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান জানান, বাসা থেকে সংগ্রহকৃত আলামত পুলিশের বিশেষ টিম পরীক্ষা করে দেখছে। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, তাদের শরীরে যে বুলেট পাওয়া গেছে সেগুলো ব্যবসায়ীর লাইসেন্সকৃত রিভলবারের কিনা তাও পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে জানা যাবে আসলে কি ঘটেছিল।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *