শিল্পী পাখি চাকদোয়েল

ptor8 (4)প্রথম সকাল ডট কম ডেস্ক: নাচে আবার গায়। সারা দিনই নেচে বেড়ায়। মজার পাখি। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অবিরাম নাচন তার। যেন পেখম খুলে নাচে। লেজটাকে পাখার মতো ছড়িয়ে দিয়ে, এই ডাল থেকে ওই ডালে। এ কারণে অনেকেই বলেন নাচুনে পাখি। আসলে পাখিটির নাম চাকদোয়েল। ভারতে এর নাম শামচিরি। চাকদোয়েল লম্বায় ১৮ সেন্টিমিটার। স্ত্রী ও পুরুষ চাকদোয়েল দেখতে একই রকম। কালো রংয়ের এই পাখিটির মাথাও কালো। মাথার দুপাশে চোখের ঠিক উপরের অংশ থেকে দুটি সাদা সরু দাগ আছে। গলা ও ঘাড়ের দু’পাশ সাদা। পেট ধূসর। তবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় হচ্ছে তার লেজ। সুন্দর করে সাজিয়ে জাপানি পাখার মতো ছড়িয়ে রাখে। নাচানাচি করার সময় লেজের দু’পাশ থেকে ডালা দুটি ঝুলে থাকে। পা আর ঠোঁট কালো। চাকদোয়েল বসবাস করে গাছপালায় ঘেরা ছোট ছোট জঙ্গলে। পুকুরপাড়ের ঝোপঝাড়, আর বৈচিত্রময় বাগানে ওদের দেখা মেলে। ওর ঘুরে বেড়ায় জোড়ায় জোড়ায়। জীবনযাত্রা যেন সংগীত ও ছন্দের জালে জড়ানো। পোকা ধরার সময়ও দুই ঠোঁটের ঠোকরের কর্কশ ‘চাক-চাক’ শব্দ শোনা যায়। ভীষণ দুরন্ত আর দুর্দান্ত সাহসী। মানুষের উপস্থিতিতেও সে নির্বিকার। যেন কাউকে গ্রাহ্যই করে না। সে তার মতো করে নাচতে থাকে, গাইতে থাকে। মাতিয়ে রাখে তার নিজের জগৎ। ওদের গানের চমৎকার বর্ণনা দিয়েছেন প্রয়াত শিল্পী অজয় দাস, ‘ছোট সাদা-কালো পাখিটা উঁচু গাছে ঘন পাতার ডালে বসে মেম সাহেবের হাতপাখার মতো লেজ একবার খুলছিল আর গোটাচ্ছিল। পরিষ্কার শুদ্ধস্বরে ‘সা-নি-ধা’ বলে থেমে গেল। এই শুদ্ধ তিনটি পর্দা এক পাখির মুখে শুনে চমকে উঠলাম। আবার গাছের ডালে বসে পরের স্বর থেকে গাইল ‘মা-পা-গা’। খারাপ লাগছিল। হঠাৎ তিন পর্দাতেই গান থেমে যাওয়াতে। কিন্তু আরম্ভ করল ঠিক যে পর্দায় ছেড়েছিল তার পর থেকে। কখনও বা চারটে পর্দা ‘সা-নি-পা’ বা ‘সা-রে-গা’ এক সঙ্গে। চাক-দোয়েলের ছোট্ট সুন্দর বাসার গড়ন অনেকটা গ্লাসের মতো। মিহি ঘাস আর তন্তু দিয়ে বানানো বাসাটি দেখার মতোও বটে। বাসার চারদিকে মাকড়সার জাল দিয়ে ঢাকা থাকে। বাসায় গোলাপি আভাযুক্ত হলদে রংয়ের তিনটি ডিম পাড়ে। ডিম থেকে বাচ্চা ফুটতে ১৬-১৮ দিন সময় লাগে।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *