ত্যাগী নেতাদের মাঠে চান তৃণমূল কর্মীরা

251প্রথম সকাল ডট কম ডেস্ক: সিরাজগঞ্জে বিএনপির কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। দলের অনেক কর্মসূচি এখানে ঢিলেঢালাভাবে পালিত হচ্ছে। জনসমর্থন অনুযায়ী আন্দোলনের গতি নেই বলে দলের অনেক নেতাই স্বীকার করেছেন। বেশ কিছু নেতা-কর্মী গ্রেফতার হওয়া এবং নেতৃত্বের সংকটকেও দায়ী করছেন অনেকে। আন্দোলনের মাঠে নেতাদের যেভাবে থাকার কথা ছিল তারা সেভাবে নেই। আর এ নিয়ে দলের মধ্যেই আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এদিকে, খুব অল্প সময়ের মধ্যে বিএনপির সিরাজগঞ্জ জেলা কমিটি ভেঙে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের কথা শোনা যাচ্ছে। এ নিয়ে চলছে নানা হিসেব-নিকাশ। জেলা বিএনপির বর্তমান অবস্থায় অনেকে মনে করছেন, বিএনপির পুরনো নেতৃত্বকে ফিরিয়ে আনা উচিৎ। দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের সমন্বয়ে তৃণমূল নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ বিএনপি দেখতে চায়। বিএনপি নেতা হুমায়ুন ইসলাম খান, মেজর মোহাম্মদ হানিফ (অব.) বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পেলেও বর্তমান সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটিতে প্রাক্তন সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌর মেয়র টিআরএম নূর-ই-আলম হেলাল, জিয়া পরিষদের প্রাক্তন আহ্বায়ক রহমুতল্লাহ আইয়ুব, জেলা বিএনপির প্রাক্তন যুগ্মআহ্বায়ক ও জেলা ছাত্রদলের প্রাক্তন সভাপতি মির্জা মোস্তফা জামান, জেলা ছাত্রদলের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক আসলাম উদ্দিন, জেলাশ্রমিকদলের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক নিয়ামুল হাকিম সাজুসহ জেলার পরীক্ষিত একাধিক নেতার জায়গা হয়নি। এ নিয়ে কমিটি গঠনের শুরু থেকেই তৃণমূলে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এক সময় জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করলেও বর্তমানে তারা পদবঞ্চিত রয়েছেন।দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এসব নেতার মধ্যে অনেকে দলের অভ্যন্তীণ নোংরা রাজনীতির শিকার হয়ে দলছুট হয়ে বাইরে ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, দলের ভেতর থেকে একটি মোসাহেবি গ্রুপ তাদের স্বার্থের কারণে ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ নেতাদের কোণঠাসা করে রেখেছে। এদিকে, যারা বিএনপির রাজনীতিকে জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে সক্ষম এবং দলের মধ্যে যারা কোণঠাসা অবস্থায় ছিলেন, তাদেরও গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত করছেন দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এতে সিরাজগঞ্জের ত্যাগী ও বঞ্চিত নেতাদের মনে আশার সঞ্চায় হয়েছে। বর্তমানে জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং সাধারণ সম্পাদক পদে পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট মোকাদ্দেস আলী দায়িত্ব পালন করছেন। গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পরে দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পরিকল্পনায় দলকে ঢেলে সাজানোর অংশ হিসেবে এসব ত্যাগী নেতাকে মূল্যায়ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সিরাজগঞ্জের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মাঝে নতুন করে প্রাণসঞ্চার হয়েছে। তাদের মতে দলের এই ক্রান্তিলগ্নে ঐক্যবদ্ধ বিএনপির বিকল্প নেই। জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি হুমায়ুন ইসলাম খান জানান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা ও সিনিয়র সহসভাপতি তারেক রহমান যদি তাকে জেলা বিএনপির জন্য কাজ করতে নির্দেশ দেন, তাহলে তিনি অবশ্যই সিরাজগঞ্জে ফিরে আসবেন। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মেজর মো. হানিফ বলেন, ‘সরকার পতনের আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ বিএনপির বিকল্প নেই। বিগত সময়ের ভুল-ত্রুটিকে মাথায় রেখে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। জেলার ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করে দলকে পুনর্গঠন করতে পারলে আন্দোলনের সফলতা আসবে।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *