চরম দূর্ভোগ নোবিপ্রবি’র হলগুলোতে

20p (14)প্রথম সকাল ডেস্ক: নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) এর আবাসিক হল গুলোতে ছাত্রছাত্রীদের দূর্ভোগের কোনো শেষ নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ে হল আছে মাত্র দু’টি। ছাত্রদের জন্য ভাষা শহীদ আবদুস সালাম হল ও ছাত্রীদের জন্য হযরত বিবি খাদিজা হল। চার তলা বিশিষ্ট দুটো হলের অবকাঠামোগত গঠন একই। দুটো হলেই ৮৬টি করে কক্ষ রয়েছে। প্রতিটি হলের ধারণ ক্ষমতা ৪৩০ জন হলেও হযরত বিবি খাদিজা হলেই বর্তমানে ৯৫০ জন ছাত্রী অবস্থান করছে। এছাড়ও নতুন ছাত্রীদেরকে একাডেমিক ভবনের চার তলায় শ্রেণী কক্ষে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যার দৃষ্টান্ত দেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই। ছাত্রীরা পর্যাপ্ত সুবিধা ও নিরাপত্তা কিছুই পাচ্ছে না। এতে অনেক অভিভাবক তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। খাদিজা হলের ডাইনিং, টিভি কক্ষ ও পত্রিকা কক্ষকে গণরুম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানান একাধিক ছাত্রী। হলে নেই কোনো পাঠ কক্ষ। একটি কক্ষের ধারণ ক্ষমতা চার জন হলেও পাঁচটি বেড দিয়ে প্রতি কক্ষে ১০ জনকে রাখা হচ্ছে পক্ষান্তরে রয়েছে পাঁচটি টেবিল ও চারটি লকার। পঞ্চম ব্যাচের একাধিক ছাত্রী জানান রুম গুলোতে পড়ার কোনো পরিবেশ নেই। হল ডাইনিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। সিনিয়র ছাত্রীরা মেস পদ্ধতিতে ডাইনিং চালান। এতে মিলের দাম বেশি পড়ে। তাই অনেক ছাত্রী নিজেই রান্না করে খায়। একই অবস্থা ভাষা শহীদ আবদুস সালাম হলেও। বরং তার চেয়েও খারাপ অবস্থা ছাত্র হলে। হল দখল ও ডাইনিং নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মাঝে প্রায়ই সংঘর্ষ লেগে থাকে। এতে দুরাবস্থায় পড়ে হলের সাধারণ ছাত্ররা। প্রতি মাসে ছাত্রলীগ ডাইনিং থেকে হাতিয়ে নেয় লক্ষ টাকার উপরে। যার ফলে, মিলের দাম অনেক বেশি পড়ে। টাকা দিতে দেরি হলে সাধারণ ছাত্রদেরকে মারধর ও হল থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেয় তারা। এছাড়া খাবারের মানও খুবই নিম্নপর্যায়ের। ছাত্র হলে রয়েছে মাদকের সবগুলো উপাদান। গত কিছু দিন আগেও শিক্ষকরা দু’জন মাদক ব্যবসায়ীকে হল থেকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। আটককৃতরা পুলিশকে জানায় ছাত্রলীগের একটি অংশ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। মাদক কেনার অর্থ জোগানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জিনিস চুরি করে বিক্রি করছে মাদকাসক্তদের একটি অংশ। হলের এ সমস্যার ব্যাপারে জানতে চাইলে আবদুস সালাম হল প্রভোস্ট ড. সেলিম হোসেন বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক সংকট রয়েছে এবং এ সমস্যা সমাধানের জন্য নতুন একটি হল নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়াও আরো দু’টি হল নির্মাণের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *