দেশজুড়ে গণঅসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে : সমাবেশে বক্তারা

870 (1)প্রথম সকাল ডেস্ক: ১৯৭৫ সালের আগের সরকার যে পথে হেটেছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারও একই পথে হাটছে। গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে ওই সময়ের সরকার যেভাবে পতন হয়েছিল ঠিক একইভাবে বর্তমান সরকারেরও পতন হবে। তাদের পতন কেউ ঠেকাতে পারবেনা। জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালার প্রতিবাদ ও বাতিলের দাবিতে ২০ দলীয় জোট কর্তৃক মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন। বক্তারা বলেন, সরকারের সীমাহীন দুর্নীতি ও ব্যর্থতার কারণে দেশজুড়ে গণঅসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। আর এ জন্য একটি চূড়ান্ত গণআন্দোলনের মাধ্যমে এ সরকারের পতন ঘটাতে হবে। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও হাজার হাজার মানুষ সমাবেশে অংশ নেওয়াই প্রমাণ করে দেশের মানুষ আর এ সরকারকে ক্ষমতায় দেখেতে চায় না। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আওয়ামী লীগ আবারো বাকশালের পথে হাঁটছে। ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের মুখ থেকে আগে গণতন্ত্রের ফেনা বের হলেও এখন তাদের আসল চেহারা উন্মোচিত হতে শুরু করেছে। তাদের আসল চেহারা, তাদের প্রকৃত মুখোশ বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। তাদের নেতারা বলতে শুরু করেছেন, গণতন্ত্র থাকলে নাকি দেশের উন্নয়ন হয় না। ফখরুল বলেন, ক্ষমতাকে কুক্ষিগত, নিরঙ্কুশ ও চিরস্থায়ী করতে এই অবৈধ সরকার একের পর এক অন্যায় পদক্ষেপ নিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা প্রণয়ন করছে সরকার। এভাবে তারা গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করতে চায়। তারা অতীতের মতো মানুষের বাক-স্বাধীনতা হরণ করতে চায়। তিনি বলেন, এর আগে স্বাধীনতার পর এই আওয়ামী লীগ মানুষের বাক-স্বাধীনতাকে স্তব্ধ করে দিয়েছিলো। তারা বাকশাল প্রতিষ্ঠা করে জনগণের অধিকার হরণ করেছিলো। সব পত্রিকা বন্ধ করে দিয়েছিল। মাত্র চারটি পত্রিকা তারা সরকারের নিয়ন্ত্রণে চালু রেখেছিল। ফখরুল বলেন, আজো ঠিক একইভাবে এগিয়ে যাচ্ছে এই অবৈধ সরকার। গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করে অবৈধ ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে চাচ্ছে তারা। এগুলোর একটাই উদ্দেশ্য যাতে তাদের অন্যায়-অপকর্ম নিয়ে কেউ কথা বলতে না পারে। তিনি বলেন, এই সরকার চ্যানেল ওয়ান, ইসলামিক টিভি, দিগন্ত টিভি, জনপ্রিয় পত্রিকা আমার দেশ বন্ধ করে দিয়েছে। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ের মতোই তারা আবারো গণমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, শুধু তাই নয়, একের পর এক অন্যায় পদক্ষেপের অংশ হিসেবে আবারো সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে এই অবৈধ সরকার। এর মাধ্যমে তারা বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা হাতে নিচ্ছে। সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মজিবুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকারকে দেশের কোনো মানুষই মেনে নেয়নি। এ সরকারকে জাতিসংঘসহ আর্ন্তজাতিক বিভিন্ন সংস্থা মেনে নেয়নি। এরপরও এ সরকার জোর করে ক্ষমতায় থাকতে চাচ্ছে। তিনি বলেন, শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের পথেই অগ্রসর হচ্ছে বর্তমান সরকার। সরকারকে ভুয়া সরকার আখ্যা দিয়ে জামায়াতের এ নায়েবে আমির বলেন, ১৯৭৫ সালের আগের সরকার যে যে কাজ করেছে এ সরকারও ঠিক একই কাজ করছে। এভাবে চলতে থাকলে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কবর রচনা হবে। তিনি বলেন, এ সরকারকে পতনের জন্য বৃষ্টির মধ্যে যেভাবে জনগণ রাস্তায় বেরিয়ে তাতে যে কেউই বুঝতে পারে যে, এ সরকার আর কতদিন টিকবে। তিনি সামনের দিনে আন্দোলন সংগ্রামে দলের নেতাকর্মীদের আরো শক্তিশালী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। এ সময় তিনি ঢাকা মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদসহ আটক দলের শীর্ষ নেতাদের মুক্তি দাবি করেন। সমাবেশে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির ও সাবেক মন্ত্রী মাওলানা ইসহাক বলেন, যেভাবে সাধারণ মানুষ প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে রাস্তায় নেমে এসেছে তাতে বুঝাই যাচ্ছে এ সরকারের পতনের সময় বেশি বাকি নেই। তিনি বলেন, সমাবেশস্থল থেকে প্রায় এক মাইল এলাকায় নারী-পুরুষ জমায়েত হয়েছে। তরুণ-যুবকরা রাজপথে নেমেছে। প্রতিবাদী এ তরুণদের থামানো যাবে না। তিনি বলেন, এ অবৈধ সরকারের পতন ছাড়া রাজপথ ছাড়বে না ২০ দলীয় জোট। এ সময় তিনি নবগঠিত ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সক্রিয়তার প্রশংসা করেন। সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী বর্তমান সরকারকে অবৈধ সরকার বলে আখ্যা দিয়েছেন। এ সময় তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, তওবা করে জাতির কাছে ক্ষমা চান, নইলে পরিণতি খুবই ভয়াবহ হবে। তিনি বলেন, নীতিমালা করে পতন ঠেকাতে পারবেন না। তাই ক্ষমতা নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দেওয়ার পবিবেশ সৃষ্টি করুন। জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, সম্প্রচার নীতিমালা করে পতন ঠেকানো যাবে না। তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করেন বলেন, সাগর-রুনীর হত্যাকারী, শেয়ারবাজার ধ্বংসের হোতা ও নায়ায়নগঞ্জের সাত খুনের সঙ্গে জড়িতদের রক্ষার জন্যই কী এসব নীতিমালা করা হচ্ছে? এসব করে পার পাওয়া যাবে না। বৃষ্টি উপেক্ষা করেও ২০ দলীয় জোটের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশস্থল জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালার প্রতিবাদ ও বাতিলের দাবিতে মঙ্গলবার দুপুরের আগে থেকেই সমাবেশ স্থলে মানুষের ঢল নামে। বেলা তিনটায় সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ১০ মিনিট আগেই কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সমাবেশের কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। এরমধ্যেই সোয়া তিনটার দিকে বৃষ্টি নামে। বৃষ্টিতে ভিজেই সমাবেশ স্থলে শীর্ষ নেতাদের বক্তব্য শুনতে থাকেন উপস্থিত জনতা। এছাড়াও বৃষ্টি উপেক্ষা করে চারদিক থেকে সমাবেশ স্থলে মানুষের ঢল নামে। দীর্ঘ বৃষ্টিতেও জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে ২০ দলীয় জোটের আজকের সমাবেশ। এদিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আজকের সমাবেশে ব্যাপক শোডাউন দিয়েছে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা। মঙ্গলবার বেলা পৌঁনে তিনটায় আনুষ্ঠানিকভাবে সমাবেশ শুরু হলেও বেলা দুইটার মধ্যেই উদ্যানে অবস্থান নেয় জামায়াত-শিবির। এ সময় তাদেরকে সরকার বিরোধী শ্লোগান দিতেও দেখা গেছে। তবে এ সময় দলের নেতা-কর্মীদের মুক্তির দাবিতে জামায়াত-শিবির সবচেয়ে বেশি শ্লোগান দিয়েছে। এর আগে গত ১৬ আগস্ট গাজা ইস্যুতে কালো পতাকা মিছিলেও ব্যাপক শোডাউন দিয়েছিল দলটি। দুপুরে ২০ দলীয় জোটের সমাবেশে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে সহস্রাধিক নেতা-কর্মীর একটি মিছিল দুপুর সোয়া দুটায় সমাবেশস্থলে পৌঁছেছে। তবে আজকের সমাবেশে আসার পথে জামায়াত-শিবিরকে কোনো প্রকার বাধা দেয়নি পুলিশ। ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন থানা থেকে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে সমাবেশে যোগ দিয়েছে। একই সঙ্গে সমাবেশে বিভিন্ন স্থানে ছাত্রদল ও যুবদলকর্মীরা সরকার বিরোধী শ্লোগান দিতে থাকে।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *