গাড়ি ছিনতাইয়ে জড়িত রেন্ট এ কার ব্যবসায়ীরা

ff (2)প্রথম সকাল ডেস্ক: গাড়ি ছিনতাইয়ের সঙ্গে রেন্ট এ কার ব্যবসায়ীরা জড়িত রয়েছে। ছিনতাই ও চোর চক্রটি দীর্ঘ ৫/৭ বছর ধরে রাজধানী ঢাকাসহ আশেপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে গাড়ি চুরি করে আসছে। ছিনতাই ও চুরি হওয়া গাড়িগুলোর মধ্যে বেশিরভাগই সিলেটের বিভিন্ন রেন্ট এ কার ব্যবসায়ীরা কিনে নেয়। ছিনতাইকারী ও চোর চক্রের সদস্যদের আটকের পর তাদের জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে র‌্যাপিড এ্যাকশান ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। র‌্যাব জানায়, কয়েকটি চক্র খুবই সুক্ষ্মভাবে ছিনতাই ও চুরির কাজটি করে থাকে। তারা গাড়ি চুরির কাজে একটি মাস্টার কী (চাবি) ব্যবহার করে। এই মাস্টার কী দিয়ে খুব অল্প সময়ে তারা গাড়ি চুরি করে থাকে। চক্রটি কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে কিছু কৌশল অবলম্বন করে চুরি ও ছিনতাইয়ের কাজটি সম্পন্ন করে। প্রথমে তারা চুরি করার জন্য মার্কেট/বড় বড় শপিং মল/ব্যাংক ইত্যাদি স্থানে রাখা গাড়িগুলো টার্গেট করে। চক্রের একজন সদস্য গাড়ি পার্কিং করার সঙ্গে সঙ্গে গাড়ির চালক ও মালিকের কার্যক্রম অনুসরণ করে পেছনে পেছনে যায়। ওই সদস্য সংকেত দিলে অন্য সদস্যরা মাস্টার কী ব্যবহার করে দ্রুত গাড়ি নিয়ে ওই স্থান ত্যাগ করে। দ্বিতীয় কৌশল হিসেবে তারা অফিস ও স্কুলে যাওয়া-আসার কাজে ব্যবহৃত কিছু গাড়িকে অনুসরণ করে। অফিস ও স্কুলে যাওয়া-আসার সময় ওই গাড়িটি কখন-কোথায় কতটা সময় ব্যয় করছে তা লক্ষ্য রাখে। সুযোগ বুঝে পার্কিং করার পর তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী মাস্টার কী ব্যবহার করে গাড়ি চুরি করে নিয়ে যায়। তবে এ চক্রটি শুধু চুরি করেই থেমে থাকেনি। চক্রটি গাড়ি চুরি করে গাড়ির মালিককে ফাঁদে ফেলে কৌশলে গাড়ি ফিরিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিকাশের মাধ্যমে টাকাও হাতিয়ে নেয়। এ চক্রের ফাঁদে পড়ে ওই সমস্ত গাড়ির মালিক সর্বশান্ত হয়ে গেছে। এভাবে এই চক্রের ফাঁদে পড়ে গাড়ি হারান আব্দুল্লাহ আল মামুন নামে এক ব্যক্তি। মামুন জানান, গত ৮ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মিরপুর-১ নম্বরের ছিন্নমূল মার্কেটের সামনে তার ব্যবহৃত ঢাকা মেট্রো গ-১৪-৫০৪৫ ছাই রঙের টয়োটা করোলা ইই-১১১ মডেলের গাড়িটি রেখে তিনি মার্কেটে যান। কাজ শেষে ২০ মিনিট পর ফিরে এসে তিনি গাড়িটি দেখতে পাননি। এরপর বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে বিকাশের মাধ্যমে দুই লাখ টাকা দিলে গাড়িটি ফেরত দেওয়া হবে বলে চক্রটি জানায়। পরে বিষয়টি তিনি র‌্যাব-২ এর কাছে জানান। র‌্যাবের একটি সূত্র জানায়, আব্দুল্লাহ আল মামুনের অভিযোগের ভিত্তিতে র‌্যাব-২ এর একটি দল মিরপুর রোডস্থ শেরে বাংলা নগরের তালতলা থেকে ওই চক্রের মূল হোতা আব্দুল আলিমকে (২৮) একটি মোটরসাইকেলসহ (সিলেট মেট্রো ল-১১-৪০৬৬) আটক করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আগারগাঁও পরিসংখ্যান ভবন বড় রাস্তার পাশ থেকে আব্দুল্লাহ আল মামুনের গাড়ি (মেট্রো গ-১৪-৫০৪৫) এবং অপর একটি গাড়ি (ঢাকা মেট্রো গ-১১-৮১০২) উদ্ধার করে র‌্যাব। জিজ্ঞাসাবাদে আব্দুল আলিম জানান, তার সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে গাড়ি চুরির সঙ্গে জড়িত রয়েছে। চক্রটি ঢাকার মোহাম্মদপুর, মিরপুর মাজার রোড, পল্লবী ও উত্তরা থেকে গাড়ি চুরি করে। ইতোমধ্যে দুটি গাড়ি সিলেটে বিক্রি করেছে তারা। তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী র‌্যাব-৯ এর একটি দল শাহী ঈদগাহ, কোতোয়ালী থানা, সিএমপি, সিলেট থেকে দুটি গাড়িসহ (ঢাকা মেট্রো গ-১৯-০৬৭৬ ও ঢাকা মেট্রো গ-১২-৯৫৯৫) আল-আমিন ইসলাম রুবেল (২৯) ও জসীম উদ্দিনকে আটক করেছে। পরে তাদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী ১৬ আগস্ট দুপুরে সাদেক খান পেট্রোল পাম্প, মোহাম্মদপুর, ঢাকা এর বিপরীত পাশ থেকে দুটি গাড়িসহ ইমাম হোসেন শামীম ওরফে শিপন (২৫) ও বাচ্চু মিয়াকে (৩১) আটক করা হয়। ১৬ আগস্ট রাত সাড়ে ৪টায় বিটাকের মোড়, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা থেকে একটি গাড়িসহ (ঢাকা মেট্রো গ-১৪-৮২৯০) আজম খান ওরফে রাজু (২৫) ও সোহাগ মিয়াকে (২৫) আটক করা হয়। এ ব্যাপারে র‌্যাবের লিগ্যাল এন্ড মিডিয়া উইং কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান জানান, চক্রটিকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় তারা দীর্ঘ ৫/৭ বছর ধরে রাজধানী ঢাকাসহ আশেপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে গাড়ি চুরি করে আসছে। গাড়ি চুরির পর মালিকের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে বিকাশের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা নিয়ে নিরীহ ও সহজ সরল গাড়ির মালিকদের সর্বশান্ত করে আসছে। তিনি জানান, এই চক্রটির সঙ্গে কিছু কিছু রেন্ট এ কার ব্যবসায়ী জড়িত রয়েছে বলে আটকদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে। তারা চুরি করে নেওয়া গাড়ি ওই সমস্ত রেন্ট এ কার মালিকদের কাছে অল্প দামে বিক্রি করে দেয়। এর মধ্যে বেশিরভাগ গাড়িই সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন রেন্ট এ কার ব্যবসায়ীরা কিনে নেয়। তিনি আরো জানান, সংঘবদ্ধ এই চক্রের সদস্যরা শুধু গাড়ি চুরি করেই ক্ষ্যান্ত হয় না। তারা মালিকের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে গাড়ি ফিরিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিকাশের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকাও হাতিয়ে নেয়। কিন্তু টাকা নিলেও তারা প্রকৃতপক্ষে কাউকে গাড়ি ফেরত দেয়নি। এছাড়া ঢাকা এবং পার্শবর্তী জেলাগুলোতে আরো বেশ কয়েকটি গাড়ি চোর চক্র জড়িত রয়েছে বলেও আটকদের জিজ্ঞাসাবাদে গেছে। তিনি আরো জানান, ওই চক্রটির মধ্যে খোকন মিয়া ও মনির হোসেন (২৮) এবং আবু তালেব তিনটি প্রধান গাড়ি চোর চক্রের দলনেতা হিসেবে দীর্ঘদিন যাবত কাজ করে আসছে। এদের মধ্যে খোকন মিয়া বিকাশ খোকন নামেও পরিচিত। সংশ্লিষ্ট চক্রগুলোর সদস্যদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী র‌্যাব ভবিষ্যতে অভিযান অব্যাহত রাখবে বলেও জানান তিনি।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *