শুভ জন্মাষ্টমী

প্রথম সকাল ডেস্ক: আজ শুভ জন্মাষ্টমী। এই দিনে ভগবান শ্রী কৃষ্ণ পৃথিবীর বুকে এসেছিলেন। হিন্দু পুরান মতে, পাশবিক শক্তি যখন ন্যায়নীতি, সত্য ও সুন্দরকে গ্রাস করতে উদ্যত হয়েছিল, তখন সেই শক্তিকে দমন করে মানবজাতির কল্যাণ এবং ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠার জন্য ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টম তিথিতে ভগবান শ্রী কৃষ্ণ জন্মগ্রহণ করেন। তাদের বিশ্বাস, দুষ্টের দমন করতে এভাবেই যুগে যুগে ভগবান মানুষের মাঝে নেমে আসেন এবং সত্য ও সুন্দরকে প্রতিষ্ঠা করেন।দিনটি উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সরকার রোববার সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া পৃথক বাণীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি জন্মাষ্টমীর শুভেচছা জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। আবহমানকাল থেকে এদেশের সকল ধর্মের অনুসারীরা পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ঐক্য বজায় রেখে নিজ নিজ ধর্ম পালন করে আসছেন। তিনি আরো বলেন, মানবপ্রেমের প্রতীক শ্রীকৃষ্ণের ভাবধারা ও আদর্শ ছিল সমাজ থেকে হানাহানি দূর করে মানুষে মানুষে অকৃত্রিম ভালবাসা ও সম্প্রীতির বন্ধন গড়ে তোলা। তিনি ছিলেন একাধারে পরোপকারী, মানবপ্রেমিক এবং রাজনীতিজ্ঞ। প্রচলিত ঐতিহ্য মতে তিনি মথুরার অত্যাচারী রাজা কংসকে হত্যা করে মথুরায় শান্তি স্থাপন করেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, শ্রীকৃষ্ণ আজীবন অধর্মের বিনাশ ও দুষ্টের দমন করে ধর্মস্থাপন ও শিষ্টের পালন করেছেন। তাঁর মতে জীবাত্মা ও পরমাত্মা এক, পরমাত্মার সঙ্গে জীবাত্মার মিলনই জীবের প্রধান কাক্সিক্ষত বিষয়। শ্রীকৃষ্ণের ভাবাদর্শ আজও ভক্তদের বোধ ও বিশ্বাসে এবং মন ও মননে গভীরভাবে প্রোথিত। ধর্মের পাশাপাশি সংস্কৃত ও বাংলা সাহিত্যে শ্রীকৃষ্ণকাহিনী গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছে। জয়দেবের গীতগোবিন্দম, বড়ূচ-ীদাসের শ্রীকৃষ্ণকীর্তন এবং মধ্যযুগের বৈষ্ণব সাহিত্যের এক বিরাট অংশ কৃষ্ণকাহিনী নিয়ে রচিত। পদাবলি কীর্তন, পালাগান, বিচ্ছেদী গান ইত্যাদি লোকসংগীত রাধাকৃষ্ণের প্রণয়-কাহিনীকে আশ্রয় করেই রচিত হয়েছে, যা বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষ যুগ যুগ ধরে মিলেমিশে বসবাস করে আসছে। শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মদিন জন্মাষ্টমী উপলক্ষে হিন্দু ধর্মাবলম্বী সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, শ্রীকৃষ্ণ আজীবন শান্তি, মানবপ্রেম ও ন্যায়ের পতাকা সমুন্নত রেখেছেন। তিনি তাঁর জীবনাচরণ এবং কর্মের মধ্য দিয়ে সত্য ও সুন্দরের আরাধনা করেছেন। মানুষে মানুষে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন এবং সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠাই ছিল তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। শ্রীকৃষ্ণের আদর্শ ও শিক্ষা বাঙালির হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করতে তাঁর ভক্তদের অনুপ্রাণিত করবে বলে প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে আশা ব্যাক্ত করেন। বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া তার বাণীতে বলেন, শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আমি হিন্দু ধর্মাবলম্বী সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আমি তাদের সুখ, শান্তি ও কল্যাণ কামনা করি। তিনি আরো বলেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের আরাধ্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিন জন্মাষ্টমী অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। যেকোন ধর্মীয় উৎসব সম্প্রদায়ের ভেদরেখা অতিক্রম করে মানুষে মানুষে মিলনের বাণী শোনায়, মানব সমাজের মধ্যে এক অনন্য ভ্রাতৃত্ববোধ জাগরিত করে। আনন্দরুপ বিনম্রতায় সমাজে সকলকে এক গভীর শুভেচ্ছাবোধে আপ্লুত করে। বেগম জিয়া বলেন, সকল ধর্মের মর্মবাণী শান্তি ও মানব কল্যাণ। যুগে যুগে ধর্ম প্রচারকগণ সত্য ও ন্যায়ের পথ দেখিয়ে গিয়েছেন। শ্রীকৃষ্ণ পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়েছিলেন এমনি এক সময়ে যখন সমাজে অত্যাচারী রাজার নিষ্ঠুর অত্যাচার ও দূঃশাসন কায়েম ছিল। তিনি সেই অন্যায়কে দমন করে পৃথিবীতে ন্যায়, সত্য ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বাংলাদেশ ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ। এখানে সকল ধর্মের মানুষেরা যুগ যুগ ধরে পারস্পারিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বসবাস করে আসছে। আমরা সব ধর্মের মানুষের সমঅধিকারে বিশ্বাসী। হিংসা, বিদ্বেষ, হানাহানি, বৈষম্য, অন্যায়-অবিচার দূর করে সমাজকে শান্তিময় করে তুলতে যার যার অবস্থানে থেকে আমাদের সবাইকে অবদান রাখতে হবে। জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত বঙ্গভবনে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট নাগরিকদের সাথে শুভেচছা বিনিময় করবেন। শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি শ্রীশ্রী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে কেন্দ্রীয়ভাবে ১৭ ও ২২ আগস্ট দু’দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সকাল ৮ টায় দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় শ্রী শ্রী গীতাযজ্ঞ, বিকেল ৩ টায় ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী মিছিল। মিছিলটি ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির হয়ে পলাশী বাজার-জগন্নাথ হল-কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার-দোয়েল চত্বর-হাইকোট-জাতীয় প্রেসক্লাব-পল্টন-শহীদ নূর হোসেন স্কয়ার-গোলাপ শাহ্ মাজার-গুলিস্থান মোড়-নবাবপুর রোড-রায় সাহেব বাজার হয়ে বাহাদুর শাহ্ পার্কে গিয়ে শেষ হবে। মিছিলটির উদ্বোধন করবেন ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের সেবায়েত শ্রী প্রদীপ কুমার চক্রবর্তী। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এবং বিশেষ অতিথি হিসাবে স্বারাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল উপস্থিত থাকবেন। মহানবতার ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মদিন জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি কাজল দেবনাথ ও সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত কুমার দেব এবং মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি জে. এল. ভৌমিক ও সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ সাহা মনি জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল স্তরের মানুষকে শুভেচছা জানিয়েছেন।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *