গাজা নিয়ে হলিউড কী বলছে?

PROTOM S (6)প্রথম সকাল ডেস্ক: মোটের ওপর চিত্রটা হতাশার। মুখে যেন কুলুপ এঁটে রয়েছেন সবাই। কিংবা মুখ সেলাই করে দেওয়া হয়েছে। গাজা ইস্যুতে হলিউডে সত্যিকার অর্থে সে রকম কোনো ঝোড়ো প্রতিবাদের হাওয়া নেই। অথচ গণতন্ত্র আর মানবাধিকারের বুলি হলিউড থেকেও কম আওড়ানো হয় না। প্রায় সবাই এ বিষয়ে একেবারে স্পিকটি নট। কারণ আর কিছুই নয়। মার্কিন মুলুকে ইসরায়েলের প্রতি সমব্যথীদের সংখ্যাই বেশি। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘর্ষ দেখার দৃষ্টিভঙ্গিও আলাদা। সেখানকার রাজনীতিবিদেরা তাই ভোটারদের চটাতে চান না। একইভাবে তারকারাও চান না ভক্তদের চটাতে। হলিউড থেকে যে গুটিকয় তারকা সরব হয়েছেন, এঁদের অনেকেই মূলত আমেরিকান নন; ইউরোপীয়। আবার কোনো কোনো তারকা বিবেকের তাড়নায় এ নিয়ে প্রতিবাদ করে পরে পিছুও হটেছেন ভক্তদের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ায়। কিন্তু সবাই তো আর ভোটের হিসাব কষে না। ২৩ জুলাই নিজের ফেসবুক পেজে পপসম্রাজ্ঞী ম্যাডোনা ফুলের ছবি পোস্ট করেছিলেন। ইসরায়েলের দানব গোলার আঘাতে নিহত শিশুদের জন্য। পোস্টটিতে ৪০ হাজারের বেশি ‘লাইক’ পড়েছিল। কিন্তু অনেকে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়াও দেখান। কেউ কেউ মন্তব্য করেন, একই দিন হামাস যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল কেন? তবে দারুণ পোস্ট দিয়েছেন সেলেনা গোমেজ। এই সংগীতশিল্পী মন্তব্য করেছেন, তিনি ইসরায়েল-ফিলিস্তিন নয়, তিনি মানবতার পক্ষে, ‘মানবতাই আসল কথা। দয়া করে সেই শিশু আর পরিবারগুলোর জন্য প্রার্থনা করুন। দয়া করে স্মরণ করুন জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কী? এগুলো কিন্তু মোটেও নয়। আমরা সাহায্য, অনুপ্রেরণা আর ভালোবাসা দিতে প্রস্তুত। এ ছবিটা পাল্টে যাক। সেলেনা অবশ্য ‘ফ্রিপ্যালেস্টাইন’ কিংবা ‘প্রেফরগাজা’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করেননি। যেটা করেছেন ওয়ান ডিরেকশনের জায়ন মালিক। টুইটারে ‘ফ্রিপ্যালেস্টাইন’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করায় মৃত্যুহুমকিও পেতে হয়েছে তাঁকে। আরেক সংগীত তারকা রিয়ান্না তো গাজার সমর্থনে পোস্ট দেওয়ার পর সেটি মুছেও ফেলেছেন। তবে ভক্তদের একটা অংশের এমন নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার পরোয়া করেননি অস্কারজয়ী অভিনেতা হাভিয়ের বারদেম। স্প্যানিশ দৈনিক এল দিয়ারিওতে তিনি দৃঢ়কণ্ঠেই বলেছেন, ইসরায়েল যা করছে, সেটা নির্মম গণহত্যা, ‘এটা অসহায় একদল মানুষের বিরুদ্ধে দখলদারি আর নির্বিচার হত্যার একটা যুদ্ধ। যারা ছোট্ট একটা অঞ্চলে আটকে পড়ে আছে। যাদের কাছে পানি পর্যন্ত নেই। হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্স, শিশুরা পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে, ধরেই নেওয়া হচ্ছে এরাও সন্ত্রাসী! বারদেম, তাঁর স্ত্রী অভিনেত্রী পেনেলোপে ক্রুজসহ ১০০ স্প্যানিশ শিল্পী ইসরায়েলি গণহত্যার বিরুদ্ধে একটি খোলা চিঠিতে সই করেছেন। বারদেম অবশ্য প্রথম নন এ ক্ষেত্রে। গত মে মাসেই পিংক ফ্লয়েডের রজার ওয়াটার্স আর নিক ম্যাসন রোলিং স্টোনসের কাছে খোলা চিঠি পাঠান ইসরায়েলে তাঁদের নির্ধারিত শোটি বাতিল করার অনুরোধ জানিয়ে। তাঁদের বক্তব্য ছিল, এই সময় ইসরায়েলে গিয়ে গান গাওয়া আর বর্ণবাদী যুগে দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে গান গাওয়া ছিল একই কথা। তাঁদের এ আহ্বানে অবশ্য সাড়া দেয়নি রোলিং স্টোনস। তবে চেষ্টার কোনো বিরাম নেই। এমনকি পরিচালক জোনাথন ডেমি, অভিনেতা ওয়ালেস শোয়ানের মতো ইহুদি বংশোদ্ভূতরাও সোচ্চার হয়েছেন। ‘শান্তির জন্য ইহুদি কণ্ঠস্বর’ নামের একটি ভিডিও বানানো হয়েছে। যেটি মাত্র দুই দিনে এক লাখের বেশি মানুষ দেখেছেন। ভিডিওটির ধারাভাষ্যকার ডেমি বলেছেন, ‘এটাকে আমি রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখি না। আমি এটাকে নিরীহ মানুষদের জীবন আর একটা সংস্কৃতির ধ্বংস হিসেবেই দেখি।’ শোয়ানও বলেছেন, মার্কিনিদের উচিত দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো। তাঁদের করের টাকায় ইসরায়েল অস্ত্র-সাহায্য পাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে। ‘আমি আসলে নিরীহ সাধারণ মানুষের ওপর এসব নৃশংস হত্যাযজ্ঞের জন্যই কর দিচ্ছি’—বলেছেন শোয়ান। কিন্তু মানবাধিকারের পক্ষে সোচ্চার হলিউড তারকারাও কেন এ ইস্যুতে চুপটি মেরে বসে থাকেন? এর একটা উত্তর দিয়েছেন গবেষক রবার্ট টমসন। তিনি বলেছেন, ‘এ বিষয়ে কোনো তারকা কিছু বললে ভক্তদের নিজের মত বদলানোর সম্ভাবনা যতটা, তার চেয়ে বেশি সম্ভাবনা তারকাটি সম্পর্কেই ভক্তের মত বদলে যাওয়া।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *