বাঘ সংরক্ষণে ভারত বর্তমানে প্রথম

প্রথম সকাল ডেস্ক: ২০১৪ বাঘ্র সুমারি অনুসারে, বিশ্বের মধ্যে বাঘ সংরক্ষণে ভারত বর্তমানে প্রথম স্থান অধিকার করেছে৷ ভারতের বাঘ বলতে আমরা প্রধানত সুন্দরবনের ‘রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার’কেই বুঝি৷ আর এই বাঘ দিন দিন দুষ্প্রাপ্য হয়ে যাচ্ছে৷ জলবায়ু পরিবর্তন,  লবণাক্ততা বৃদ্ধিসহ মনুষ্যসৃষ্ট সমস্যার কারণে সুন্দরবনের বাঘ এখন হুমকির মুখে। আবাসস্থল নষ্ট হয়ে যাওয়া, খাদ্য সংকট ও বাঘ শিকারিদের দাপটে সুন্দর বনের বাঘ বিলুপ্তির পথে। সর্বশেষ বাঘ পরিসংখ্যানে সুন্দরবনের বাঘের প্রকৃত সংখ্যা সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়েছে, আনুমানিক ৩৫০ থেকে ৫০০ বাঘ রয়েছে৷ তবে বর্তমানে শতাধিক বাঘ আছে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান বাঘ বিশেষজ্ঞরা। প্রথম বিশ্ব বাঘ দিবস পালিত হয় ২০১০ সালে রাশিয়ার সেন্টপিটার্সবার্গ শহরে৷ এই সম্মেলনে ২০২২ সালের মধ্যে বিশ্বে বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এখনও বাঘ টিকে আছে এমন ১৩টি দেশে ২০১০ সাল থেকে প্রতি বছর ২৯ জুলাই বিশ্ব বাঘ দিবস হিসেবে পালন করা হয়। বাঘ টিঁকে থাকা ১৩টি দেশ হচ্ছে, ভারত(১,৭০৬), মালয়েশিয়া(৫০০), বাংলাদেশ(৪৪০), রাশিয়া(৩৬০), ইন্দোনেশিয়া(৩২৫), থাইল্যান্ড(২০০), নেপাল(১৫৫), মিয়ানমার(৮৫), ভুটান(৭৫), চিন (৪৫), কম্বোডিয়া (২০), ভিয়েতনাম(২০),ও লাওস(১৭)৷ ১৯০০ সালে বাঘের সংখ্যা ছিল প্রায় এক লক্ষ। বর্তমানে বিশ্বে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে কমে এসে দাঁড়িয়েছে ৩৭০০টি বা তারও কম। বাঘ বিশেষজ্ঞদের মতে, বাঘের সংখ্যা দ্রুত কমে যাওয়ার এই প্রবণতা চলমান থাকলে আগামী কয়েক দশকে পৃথিবী থেকে এই সুন্দর প্রাণীটির হারিয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে৷ বিশ্বব্যাপী বাঘের বিপন্নটা লক্ষ্য করে, প্রকৃতি হতে বাঘ বিলুপ্তি রোধকল্পে ১৯৯৪ সালের মার্চ মাসে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ‘গ্লোবাল টাইগার ফোরাম’ (জিটিএফ) প্রতিষ্ঠিত হয়। জিটিএফ হচ্ছে বাঘ অধ্যুষিত এবং বাঘ সংরক্ষণ বিষয়ে সহায়তাদানকারী দেশগুলির আন্তর্জাতিক সংস্থা। জাতিসংঘের উদ্যোগে ১৯৮৭ সালে অতি বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী হিসেবে বাঘ কিংবা বাঘের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ব্যবসা নিষিদ্ধ করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বাঘ বাঁচাতে নানা উদ্যোগ নিলেও সুন্দরবনে বাঘের মৃত্যু আশঙ্কাজনকহারে বেড়ে গিয়েছে। ১৯৮০ থেকে ২০১২ সালের জুলাই পর্যন্ত গত ৩২ বছরে সুন্দরবন ও সংলগ্ন এলাকায় শিকারিদের হানা, গ্রামবাসীর পিটুনি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ৬৭টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। গত কয়েক দশক ধরে বাঘের সংখ্যা কমে যাচ্ছিল। এছাড়াও এর অপর একটি বড় কারণ হচ্ছে চিন, তাইওয়ান, কোরিয়াসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি ও গৃহসজ্জায় বাঘের চামড়া ও অস্থির অতিরিক্ত চাহিদা। এর ফলে বাঘের পাচারও দিন দিন বৃদ্ধি পেয়েছে৷ চলমান তথ্য-উপাত্ত ও বাঘ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনার প্রেক্ষিতে জানা যায়, সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করার কোন সুযোগ নেই। তবে আন্তর্জাতিক ঘোষণা অনুসারে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ধারণ ক্ষমতার মধ্যে রেখে অবৈধ বাঘ হত্যা বন্ধ, আবাসস্থলের  উন্নয়ন ও নিয়মিত টহল প্রদান করে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য যথোপযুক্ত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

This website uses cookies.