জঙ্গিরা ফের সক্রিয় হচ্ছে

891প্রথম সকাল ডেস্ক: নিজেদের অবস্থান জানান দিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা। আপাতত দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বোমা হামলার টার্গেট নিয়ে ইতিমধ্যেই রেকি সম্পন্ন করেছে শতাধিক জঙ্গি। তাদের টার্গেট বড় ধরনের নাশকতা। পাকিস্তান, আফগানিস্তানসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত দেশের দেড় শতাধিক প্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ সদস্যের পরামর্শেই চলছে জামা’আতুল মুজাহিদীনের (জেএমবি) বর্তমান কার্যক্রম। বিদেশে অবস্থানরত এসব জঙ্গি জিহাদে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদের আরও ঝালাই করে নিচ্ছে। সময় সুযোগ মতো তারা দেশে ফিরে এসেই ধ্বংসাত্দক পরিকল্পনার বাস্তবায়ন ঘটাবে। বৃহস্পতিবার বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির সরঞ্জামসহ আটক জামা’আতুল মুজাহিদীনের (জেএমবি) শামীন মাহফুজ, জাহিদুর রহমান বোমারু জাহিদ ও ইসমাইল হোসেনের কাছ থেকে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য আদায় করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্যরা। দুটি মামলায় তারা তিন দিন করে মোট ছয় দিনের রিমান্ডে রয়েছেন। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, নিজেদের সংগঠিত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে দেশে অবস্থানরত জেএমবির শতাধিক সদস্য। জেএমবির জঙ্গিরা পার্বত্য জেলা বান্দরবানের দুর্গম এলাকা থানচিতে আস্তানাও গেড়েছে। নজরদারি এড়াতে তারা পরিবর্তন করছে নিজেদের নামও। গহিন অরণ্যে চাষাবাদের আড়ালে তারা সেখানে নিচ্ছে সামরিক প্রশিক্ষণ। বর্তমানে পাকিস্তানে অবস্থানরত জেএমবির স্বঘোষিত আমির ইজাজ আহমেদই মূলত জেএমবিকে সংগঠিত করার কাজে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়ে আসছেন। তার নির্দেশনা অনুযায়ী দেশে অবস্থানরত জঙ্গিরা বিভিন্ন এলাকা সফর করে সদস্য বাড়ানোর কাজ করছেন চুপিসারে। তাদের আর্থিকভাবে সাহায্য করছেন দেশের বিভিন্ন এলাকার অন্তত ১৫ জন ধনাঢ্য ব্যক্তি। বিশেষ করে বর্তমানে এই সংগঠনের অনেক সদস্য উচ্চ শিক্ষিত হওয়ায় তারা আল-কায়েদা ও তালেবানদের সঙ্গে ইন্টারনেটের মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। ডিবির সহকারী কমিশনার (এসি) মাহমুদা আফরোজ লাকী বলেন, দুই জঙ্গি সদস্যকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে। তারা জিজ্ঞাসাবাদে জঙ্গি কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার জন্য বিদেশ থেকে অর্থ সাহায্য পাওয়ার কথা স্বীকার করেছে। তাদের তথ্যমতে, দেশের একটি ব্যাংকের মাধ্যমে জঙ্গি অর্থ সাহায্য আসছে বলে জানা গেছে। তবে তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। এর বাইরেও কোনো অ্যাকাউন্ট আছে কিনা তা জানার চেষ্টা অব্যাহত আছে। গোয়েন্দা সূত্র আরও জানায়, বিদেশ থেকে আসা টাকাগুলো কোথা থেকে কে পাঠিয়েছে তা সুনির্দিষ্টভাবে এখনো জানা যায়নি। তবে গ্রেফতার হওয়া শামীন মাহফুজ ও জাহিদের সঙ্গে পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদা ও তালেবান নেতাদের সঙ্গে ইন্টারনেটে নিয়মিত যোগাযোগ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। জেএমবি ছাড়াও বাংলাদেশের আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে আল-কায়েদা ও তালেবান নেতাদের। আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের মধ্যস্থতায় জেএমবি, হুজিসহ বিভিন্ন উগ্রপন্থি সংগঠনের জঙ্গিরা নিয়মিত পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের জঙ্গি নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। বর্তমানে বিভিন্ন বিদেশি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে তারা যুদ্ধেও যোগ দিয়েছে। এর বিনিময়ে আল-কায়েদা ও তালেবান বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠনগুলোকে আর্থিকভাবে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে দুই জঙ্গির তথ্যের ভিত্তিতে গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, এরা দুজনই ধূর্ত প্রকৃতির। জিজ্ঞাসাবাদে অনেক প্রশ্নই তারা কৌশলে এড়িয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে শামীনের নেতৃত্বে কমপক্ষে ৪০ থেকে ৪৫ জন জেএমবির সদস্য এখনো দেশে সক্রিয় রয়েছে। তাদের দাওয়ামী কর্মতৎপরতা থেমে নেই। কর্মী সংগ্রহ কার্যক্রম আগের মতোই অব্যাহত রেখেছে তারা। তাদের অনেকেরই নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) মাহমুদা আফরোজ লাকী বলেন, শামীন গ্রেফতার হওয়ার আগে জেএমবি সদস্যদের সংঘবদ্ধ ও নতুন সদস্য সংগ্রহের কাজ করছিল। জাহিদ তার সেকেন্ড ইন কমান্ড। গ্রেফতারকৃত অপরজন ইসমাইল বার্তাবাহকের দায়িত্ব পালন করছিল। শামীনের তথ্যমতে, বান্দরবানের থানচি এলাকায় সশস্ত্র প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে জেএমবিসহ একাধিক জঙ্গি সংগঠনের। সেখানে অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। গহিন অরণ্যে সামরিক প্রশিক্ষণের পর প্রশিক্ষিত অনেক জঙ্গি সদস্যই সারা দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে কাজ করছে। আবার পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে গিয়েও যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে এসব জঙ্গি। তিনি আরও বলেন, ছোট-বড় অস্ত্রের ওপর শামীনের প্রশিক্ষণ থাকলেও শামীন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ হিসেবেই সংগঠনে কাজ করছে। বোমা তৈরি, বিস্ফোরকের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণসহ নানা দায়িত্ব পালন করছিল শামীন। তার নেতৃত্বে জেএমবির অনেক ধ্বংসাত্দক পরিকল্পনা চলছিল। দেশে তারা ফের বড় ধরনের কোনো বোমা বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে কিনা এ ব্যাপারে তার কথাবার্তায় কিছুটা অাঁচ পাওয়া গেছে। ভয়ঙ্কর শামীনের গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধা জেলার বাগড়াপাড়ার কচুয়ায়। তার বাবা আজিজ উদ্দিন ছিলেন কলেজ শিক্ষক। গাইবান্ধাতেও তার অনেক সহযোগী রয়েছে। তারা জঙ্গি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর সায়েদাবাদ এলাকা থেকে বিপুল বোমা তৈরির বিস্ফোরক, সরঞ্জাম ও ল্যাপটপসহ জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুসলেমিনের সাবেক আমির ও জেএমবির বর্তমান সংগঠক শামীন মাহফুজ ওরফে সুমন ওরফে ম্যানরিং মং, জেএমবি নেতা জাহিদুর রহমান ও ইসমাইল হোসেনকে গ্রেফতার করে ডিবি। পরে দুটি মামলায় তিন দিন করে তাদের ছয় দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। তিন দিনের রিমান্ড শেষ হওয়ায় আজ তাদের অপর মামলায় ফের রিমান্ডে নেওয়া হবে বলে সূত্র জানায়।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *